AB Bank
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

আকাশেও উড়বে পুলিশ


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮:০৬ পিএম, ৯ এপ্রিল, ২০২২
আকাশেও উড়বে পুলিশ

এয়ার উইং গঠন করছে পুলিশ। এ জন্য রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার কেনা হচ্ছে। চার সহকারী পুলিশ সুপার বিমান চালনা শিখছেন।

এবার আকাশপথেও শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের তৎপরতা। পুলিশে যুক্ত হচ্ছে এয়ার উইং। এরই অংশ হিসেবে চার পুলিশ কর্মকর্তা বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাদের একজন নারী।

আর্মি এভিয়েশন স্কুলে গত বছরের মে মাস থেকে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণ শেষ হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। সলো ফ্লাই বা কো-পাইলট ছাড়া একক উড্ডয়ন সম্পন্ন করতে পেরে উচ্ছ্বসিত এই চার পুলিশ কর্মকর্তা।

তারা হলেন বিসিএস ৩৫ ব্যাচের মো. মুশফিকুল হক, সারোয়ার হোসেন, ৩৬ ব্যাচের ফাতেমা তুজ জোহরা ও ৩৭ ব্যাচের আবুল হোসাইন। পুলিশ এয়ার উইংয়ে যুক্ত হতে পেরে গর্বিত এই চার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)।

এএসপি সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ এয়ার উইংয়ে সুযোগ পাওয়াটা স্বপ্নের মতো। ভলান্টারি কাজ করার জন্য আবেদন চাওয়া হয়। আমি আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করি। ‘পুলিশের এয়ার উইং নতুন, আমিও প্রফেশনে নতুন। ভালো-খারাপ সেটা ভাবার খুব কম সময় পেয়েছি। নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ এসেছে। আমি সেটা গ্রহণ করেছি।’

একজন পাইলট হওয়ার জন্য যতগুলো ধাপ পার করে বাছাই করা হয়, পুলিশের চারজনের ক্ষেত্রেও এ ধাপগুলো পার করতে হয়েছে বলে জানান সারোয়ার।

তিনি বলেন, ‘এয়ার ফোর্স বা আর্মি এভিয়েশনে পাইলট নেয়ার জন্য যত রকমের টেস্ট নেয়া হয়ে থাকে, তার প্রত্যেকটি ধাপ অতিক্রম করার পরই আমরা সিলেক্টেড হয়েছি। মেডিক্যাল, সাইকোলজি, ফ্লাই টেস্ট সবকিছু দিয়েই আমরা এসেছি।’

সৈয়দপুরে এক মাস ট্রেনিং হয়েছে। সেখানেই সলো ফ্লাই করার ক্লিয়ারেন্স পান সারোয়ার। তিনি বলেন, ‘আমার ও মুশফিকের সলো ফ্লাই সম্পন্ন হয়েছে একই দিনে। ২৩ নভেম্বর। আমি আগে গেলাম। আধাঘণ্টা একটি সিনিয়র ইনস্পেক্টরের সঙ্গে ফ্লাই করতে হয়, যিনি আমার বেসিক ইনস্ট্রাক্টর না।

‘উনি এক্সাম নেন। আমার সঙ্গে ৪০ মিনিট ফ্লাই করার পর আমাকে ক্লিয়ার করলেন। এরপর একই এয়ারক্রাফটে মুশফিকের সলো সম্পন্ন হলো। এটা হয়েছে সৈয়দপুরে।’

প্রশিক্ষণে সলো ফ্লাইটটা হলো ১৫ মিনিটের একটা সার্কিট কমপ্লিট করা। রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন করে ১ হাজার ফুট ওপরে রানওয়ে চক্কর দিয়ে ল্যান্ড করা। একটি সলো ফ্লাইট সম্পন্ন করতে সাধারণত ১৫ মিনিট লাগে। উড্ডয়নের পর ল্যান্ডিং সবচেয়ে কঠিন বলে ধরা হয়। রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন করার পর কোনো কারণে ল্যান্ড করতে সমস্যা হলে আবারও সার্কিটটি পূর্ণ করে নেমে আসতে হয়।

আর্মি এভিয়েশন স্কুল এবং এর ইনস্ট্রাক্টররা পূর্ণ সহযোগিতা করছেন বলে জানান সারোয়ার। তিনি বলেন, ‘উনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমরা এতে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ লক্ষ করি নাই। কখনও কখনও আমরা সুবিধা পেয়েছি। স্যারেরা খুবই আন্তরিক।’

প্রশিক্ষণ শেষ করার পর সামনে অনেক দায়িত্ব আছে বলে মনে করেন এএসপি সারোয়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা পাইওনিয়ার। ফ্লাইং ছাড়াও আমাদের কাঁধে অনেক দায়িত্ব আসবে। সেগুলো আমাদের পালন করতে হবে। পুলিশ এয়ার উইং শুধু পাইলট নিয়ে না; পাইলট, গ্রাউন্ড স্টাফ, এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স, ইঞ্জিনিয়ার, ক্রুসহ সবই লাগবে। র‌্যাবের এয়ার উইং দাঁড়াতে ৮-১০ বছর সময় লাগছে। আমাদের আরও অনেক পথ যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন অপারেশনাল পাইলট হতে ৩০০ ঘণ্টা ফ্লাইং অভিজ্ঞতা লাগে। আমাদের তো মাত্র শুরু। আমাদের গড়ে ৩৫ ঘণ্টার মতো হয়েছে। হেলিকপ্টার এলেই আমাদের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব দেবে এমন না। আর্মি এভিয়েশন থেকে হয়তো পাইলটরা আসবেন। আমরা কো-পাইলট হিসেবে থাকব। আমাদের সক্ষমতা এলে বসব।’

এএসপি সারোয়ারের বাড়ি কুমিল্লায়, জন্ম রাঙ্গামাটিতে। এসএসসি পাস করেন রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। এইচএসসি আদমজী ক্যান্টনমেন্টে। পরিসংখ্যানে অনার্স সম্পন্ন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আর আইবিএ থেকে মাস্টার্স।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মুশফিকুল পেয়েছেন পছন্দের কাজ

ছোটবেলা থেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার চালানো ভীষণ পছন্দ বিসিএস (পুলিশ) ৩৫ ব্যাচের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মুশফিকুল হকের। পাইলট হয়ে বিমান চালনার সুযোগ সামনে এলে তাই এক মুহূর্ত না ভেবে আবেদন করে ফেলেন।

মুশফিকুল বলেন, ‘পছন্দের জায়গা থেকেই আমি পুলিশের পেশা বেছে নিয়েছিলাম। আমার প্যাশন হচ্ছে যেকোনো কিছু ড্রাইভ করা, কার হোক বা বাইক হোক। অ্যাডভেঞ্চার আমার প্রিয়। পুলিশ এভিয়েশন উইংয়ে যুক্ত হয়ে পাইলট হওয়ার সুযোগটা যখন এলো, তখন মনে হয়েছে, এটা পুলিশে একটা ডাইমেনশন ক্রিয়েট করবে, যেখানে আমি অংশগ্রহণ করতে পারব। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা বড় একটা সুযোগ, যা আমি হাতছাড়া করতে চাইনি।’

তিনি বলেন, ‘একে তো পুলিশ, তার ওপর পাইলট। দেশকে সার্ভ করার আরও বেশি সুযোগ পাব। নতুন ডাইমেনশন যুক্ত হবে। উন্নত সব দেশেই পুলিশের এভিয়েশন আছে।’

আকাশেও উড়বে পুলিশ

 

আরেক সহকর্মী সারোয়ারের সঙ্গে একই দিনে সলো ফ্লাই সম্পন্ন করেন মুশফিকুল। তিনি বলেন, ‘আমাকে ১১ ঘণ্টা ফ্লাই করিয়েছিলেন। এরপর সলো ফ্লাইয়ের ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়। একা একা ফ্লাই করে সুন্দরভাবে ল্যান্ড করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। ল্যান্ড করার সময়টায় একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ফিল করেছি। মনে হচ্ছিল, পুলিশের জন্য এটি একটি মাইলফলক, পাশাপাশি নিজের পারসোনাল লাইফে একটা ভ্যালু অ্যাড করলাম। সবকিছু মিলিয়ে একটি অসাধারণ মোমেন্ট ছিল।’

এয়ার উইং এবং ‍নিজের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুশফিকুল বলেন, ‘এখনকার টাস্কটা ভালোভাবে সম্পন্ন করা প্রথম টার্গেট। এরপর কাজটা হবে পুলিশ এয়ার উইংকে পূর্ণাঙ্গ করার পথে এগিয়ে নেয়া। প্রথম হিসেবে আমাদের কাঁধে অনেক দায়িত্ব থাকবে। আমাদের টার্গেট থাকবে পরে যারা আসবে, তারা যেন আমাদের দেখে উৎসাহ পায়, সেই পথটা তৈরি করা। পুলিশে যোগদান করে অন্যভাবেও নিজের ক্যারিয়ার করা যায়, এটা পুলিশ এভিয়েশন দেখে নতুনরা ভাবতে পারবে। পুলিশ বাহিনী ও নিজেকে গর্বিত করার জন্য কাজ করে যাব।’

মুশফিকুল বলেন, ‘অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি রাষ্ট্রকে সেবা দেয়াই আমার মূল লক্ষ্য।’

মুশফিকুলের জন্ম নাটোরে। এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন রাজশাহীতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন।

ভিন্ন জগতে পা রাখা ফাতেমা তুজ জোহরার

এয়ার উইংয়ের অংশ হওয়াকে একটি বড় সুযোগ হিসেবেই দেখেছেন ৩৬তম ব্যাচের সহকারী পুলিশ সুপার ফাতেমা তুজ জোহরা।

তিনি বলেন, ‘আমি সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেই, আবেদন করব। কারণ এটা সম্পূর্ণ আলাদা একটা জগৎ। আমি এটাকে এক্সপ্লোর করব। আমি চেষ্টা করব, এই সুযোগটা যেন নিতে পারি। তখনও তো জানতাম না, আমি সুযোগ পাব। তবে আমি প্রচণ্ড আগ্রহবোধ করি। খুব দ্রুতই আবেদন করি।’

আকাশেও উড়বে পুলিশ

 

ফাতেমা সলো ফ্লাই সম্পন্ন করেন ১৬ মার্চ। এ অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ট্রেনিং এয়ারক্রাফট দিয়ে সার্কিটে ঘোরা শেখানো হয়। ইনস্ট্রাক্টর যখন প্রশিক্ষণার্থীর বিষয়ে পুরোপুরি আস্থা পান, তখনই তাকে সলো করতে দেয়া হয়। ওড়ার প্রশিক্ষণ শুরুর পর থেকেই সবার মাথায় ঘুরতে থাকে কখন সলো ফ্লাই করব। আমারও তাই ছিল।’

ফাতেমা বলেন, “ইনস্ট্রাক্টর যখন বলেন, ‘ইউ আর ক্লিয়ার ফর সলো’, তখন থেকেই দারুণ একটা উত্তেজনা কাজ করতে থাকে। সলোতে যখন কাউকে পাঠানো হয়, তখন তা প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী সবার জন্যই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। সবাই উদ্গ্রীব হয়ে অপেক্ষা করে।”

প্রথম সলো উড্ডয়নের দিনটির বিবরণ দিতে গিয়ে ফাতেমা বলেন, ‘সবাই অপেক্ষা করছে, এমন একটি মুহূর্তে একা একা টেকঅফ করা, সেফলি ল্যান্ড করে যখন নেমে আসলাম, তখনও মনে হচ্ছিল উড়ছি।

‘একে তো সলো অনেক প্রতীক্ষার বিষয়। সেটা স্বস্তির সঙ্গে শেষ হওয়া একটা কমিটমেন্টের বিষয়। আর প্রচণ্ড ভালো লাগা তো থাকেই। সলো শেষে ইনস্ট্রাক্টর, ব্যাচমেট সবাই অপেক্ষা করতে থাকেন। দারুণ সেলিব্রেশন হয়।’

ফাতেমা বলেন, ‘পুলিশ এভিয়েশন উইং এবং আমরা চারজন– সবই নতুন। উইং ও আমরা একসঙ্গে বেড়ে উঠছি।’

ফাতেমা জানেন, দুর্গম এলাকায় অপারেশন, দুর্যোগকালীন উদ্ধার অভিযান, আকাশপথে নজরদারি–এগুলোই হবে পুলিশের এয়ার উইংয়ের কাজ, সে কাজটা পেশাদারিভাবে করতে চান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের কাজে গতি আনা তার লক্ষ্য থাকবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা তো মাত্র চারজন। পূর্ণাঙ্গ এয়ার উইংয়ের জন্য আমাদের আরও অনেক পথ হাঁটতে হবে। নতুন নতুন ছেলেমেয়েরা এই উইংয়ে যুক্ত হবে। তারুণ্য ও দক্ষতা দিয়ে দেশের মানুষকে পুলিশ আরও ভালো সেবা দিতে পারবে।’

ফাতেমার জন্ম পাবনায়। রাজবাড়ীর পাংশা গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি, পাংশা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন তিনি। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্সে।

আরও পড়াশোনা করার একটা আকাঙ্ক্ষা ফাতেমার বরাবরই ছিল, তবে বন্ধু-সহপাঠীদের বিসিএস দিতে দেখে তিনিও পরীক্ষা দেন। পছন্দের তালিকায় রাখেন পুলিশ ক্যাডার। সেটা এক শিক্ষকের পরামর্শে।

সুপ্ত বাসনা পূরণ হতে চলছে আবুল হোসাইনের

শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন পছন্দ ৩৭তম ব্যাচের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল হোসাইনের। ছোটবেলা থেকে বিমানচালক হওয়ার বাসনা ছিল তার। পুলিশ এয়ার উইংয়ে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তার সেই সুপ্ত বাসনা পূরণ করে দিয়েছে।

আবুল হোসাইনের ভাষ্য, ‘আমি মনে করি, মানুষের সুপ্ত বাসনাগুলো আল্লাহতায়ালা কোনো না কোনো দিন পূরণ করে দেন। ছোটবেলায় মনের অজান্তে বলতাম, বড় হয়ে পাইলট হব। সেনাবাহিনীতে যোগদানের ইচ্ছা ছিল। সেটা হয়নি। পরবর্তী সময়ে পুলিশে জয়েন করি। ডিফেন্স বিষয়টা আমার পছন্দ। পাইলট হওয়ার সুযোগ সামনে আসার পর আমি এক মুহূর্তও ভাবিনি। পছন্দ আমার সামনে এসে হাজির হয়।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ দেশের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এয়ার উইংটা হলে আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সেবা পৌঁছে দিতে পারব।’

আকাশেও উড়বে পুলিশ

 

সলো ফ্লাইয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বয়সে এসে ফ্লাইং প্রশিক্ষণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি যে সলো কমপ্লিট করতে পেরেছি, এর পুরো ক্রেডিট আর্মি অ্যাভিয়েশনের প্রশিক্ষকদের। আমাদের চেষ্টা-একাগ্রতা তো ছিল, সঙ্গে উনাদের নির্দেশনা।’

তিনি বলেন, ‘শুরুতে আমার অনেক ভুল হচ্ছিল। আমার স্ট্রাগল করতে হয়েছে। সৈয়দপুরে প্রশিক্ষণের শেষ দিন পর্যন্ত তারা আমাকে নিয়ে চেষ্টা করেছেন। শেষ দিনে আমার সলো ক্লিয়ার হয়েছে। আমার একজন প্রশিক্ষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোছাদ্দেক। তার নাম না বললেই না। উনার কারণেই আমি সলোটা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

আবুল হোসাইন মনে করেন, এয়ার উইংয়ের বিমানচালকের কাজ অনেক বড় দায়িত্ব। তাদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণই এখন তার লক্ষ্য।

কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন আবুল হোসাইন। ভিক্টোরিয়া কলেজে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিজিক্স থেকে অনার্স-মাস্টার্স করেছেন।

এখনও অনেক পথ বাকি

পুলিশ এয়ার উইংয়ের জন্য রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার কেনার অনুমোদন হয়েছে। চার সহকারী পুলিশ সুপারের বিমান চালনার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কয়েকজন এসআই ও কনস্টেবল র‌্যাবের এয়ার উইংয়ে যুক্ত হয়ে মেনটেইনেন্স শিখছেন। পুলিশ এভিয়েশনের জন্য আরও জনবল প্রয়োজন হবে।

১৬৮ জনবলের একটি প্রস্তাব পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, তবে তা সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়।

পুলিশ এয়ার উইংয়ের বর্তমান কার্যক্রম দেখভাল করছেন পুলিশ সদরদপ্তরের পুলিশ সুপার আফ্রিদা রুবাই। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ এয়ার উইং হতে সময় প্রয়োজন। মাত্র তো শুরু হলো। ১৬৮ জন লোকবলের একটি চাহিদা তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সেটা যাচাই-বাছাই করবে। অনুমোদন হওয়ার পর তাদের প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজন পড়বে।’

র‌্যাব প্রথম পাঁচ বছর এয়ার উইং মেইনটেন্যান্স সাপোর্ট দিতে পারে বলে জানান আফ্রিদা রুবাই। তিনি বলেন, ‘আমরা আর্মি হেডকোয়ার্টার্সের সঙ্গে একটা প্রসেস করছি, যাতে তারা প্রথম পাঁচ বছর সাপোর্টটা দেয়। এটা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখনও আমাদের কোনো জনবল নেই। সবকিছু গুছিয়ে আনতে আরও সময় লাগবে।’

২১ মার্চ এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘এভিয়েশন উইং চালুর ফলে বাংলাদেশ পুলিশ ত্রিমাত্রিক ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জন করবে। এটি দুর্গম অঞ্চলে দ্রুত যোগাযোগ, গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি অভিযান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

Link copied!