ঢাকা শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. পডকাস্ট

আজ মহিলা লীগের সম্মেলন; কারা আসছে নেতৃত্বে!


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭:০৬ পিএম, ২৫ নভেম্বর, ২০২২
আজ মহিলা লীগের সম্মেলন; কারা আসছে নেতৃত্বে!

নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৫৩ বছর পার করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ।

 

শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সংগঠনটির জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

 

উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে কাউন্সিল অধিবেশনে সংগঠনের শীর্ষ দুই নেত্রী নির্বাচন করা হবে। কাউন্সিলররা নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপর অর্পণ করবেন। নতুন নেতৃত্বের সন্ধান করছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

 

এরইমধ্যে কারা আসছেন মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে ক্লীন ইমেজ ও আর্দশবান নেতা উপহার দিয়ে সংগঠনটিকে আরো সুদূঢ় ও শক্তিশালী করতে চান দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। একইসঙ্গে আজ শনিবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিও ঘোষণা করা হতে পারে।

 

গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন যারা: মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটি ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট। বর্তমান কমিটির সভাপতি সাফিয়া খাতুন এবারও এই পদে থাকতে আগ্রহী। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম এবার চাইবেন সভাপতির পদ।

 

তবে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে শক্তিশালী প্রার্থী বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া পান্না। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারবিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক হিসাবে ঢাকার রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

 

এ ছাড়াও এ পদের ব্যাপারে আগ্রহী বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিন রুকসানা, শিখা চক্রবর্তী, মীনা মালেক, জান্নাত আরা হেনরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আনারকলি পুতুল, নাসরীন সুলতানা, ঝর্ণা বাড়ৈ, ইসমত আরা হ্যাপী, দপ্তর সম্পাদক রোজিনা নাসরিন রোজী প্রমুখ। তাদের অনেকেই মহিলা আওয়ামী লীগের আগের কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

 

মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাত আরা হেনরী বলেন, ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা দরকার। আমি মনে করি, আমার কোনো পিছুটান নেই। দলকে আমি সেভাবে সময় দিতে পারব, সুসংগঠিত করার জন্য সার্বক্ষণিক দলের জন্য সময় দিয়ে কাজ করতে পারব।

 

মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া পান্না বলেন, এক-এগারোর সময় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে অগ্রভাগে থেকেছি। দায়িত্ব পেলে এই সংগঠন ভালোভাবে চালাতে পারব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অগ্রযাত্রায় আমি ছিলাম, আছি এবং থাকব।

 

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ ১৯৬৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে মহিলাদের সবচেয়ে বড় সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ। এই সংগঠনে এবার যারা নেতৃত্বে আসবেন, তাদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি সামলাতে হবে। নিজেদের যোগ্য প্রমাণে মরিয়া মহিলা নেত্রীরা। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বাসা-অফিসে প্রতিনিয়ত হাজিরা দিচ্ছেন পদপ্রত্যার্শীরা।

 

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৪ মার্চে সম্মেলনের মাধ্যমে মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন সাফিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদক হন মাহমুদা বেগম। কমিটির মেয়াদ ২০২০ সালে শেষ হলেও করোনো মহামারির কারণে নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন হয়নি।

 

গত ১৫ নভেম্বর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গণভবনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এবারের সম্মেলন সফল করতে সাতটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রস্তুত করা হচ্ছে মঞ্চ। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সাফিয়া খাতুন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন।

 

মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীরা বলেন, আমাদের আগামীর নেতৃত্ব নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি যাকে নেতৃত্ব দেবেন, তিনিই পাবেন। এর মধ্যে বেশ কয়েক জন সদস্য মারা গেছেন।

 

এছাড়া কেউ সংসদ সদস্য, আবার কেউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ায় মহিলা আওয়ামী লীগের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই। বর্তমান কমিটির মধ্যে অনেকেই বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ থাকায় সংগঠন থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে জানা গেছে। তাই এবার মহিলা আওয়ামী লীগে যোগদানে যুব মহিলা লীগ ও সাবেক ছাত্রলীগের নেত্রীদের ভাগ্য খুলতে পারে।

 

এছাড়া বর্তমান কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর একজন আছেন, যিনি অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তিনি সংগঠনের পদ-পদবি ব্যবহার করে সারাক্ষণ সচিবালয়ে তদবিরে ব্যস্ত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এবার তার টার্গেট সভাপতি হওয়া।

 

এছাড়া আরও কয়েকজন নেতা সংগঠনকে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের রূপ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ অনেকের।

 

একুশে সংবাদ/সফি.প্রতি/পলাশ