AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ঈদুল ফিতর: উৎসব ও সাম্যের দর্শন


Ekushey Sangbad
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল
০৭:২৫ পিএম, ১৭ মার্চ, ২০২৬

ঈদুল ফিতর: উৎসব ও সাম্যের দর্শন

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা ও আত্মশুদ্ধির পর পশ্চিম আকাশে শাওয়ালের একফালি বাঁকা চাঁদ নিয়ে আসে অনাবিল আনন্দের বার্তা- পবিত্র ঈদুল ফিতর।

এই অনাবিল আনন্দ ও উৎসবের সওগাত কেবল পানাহারের নয় বরং এক মাস ধরে নফসের বিরুদ্ধে জিহাদে জয়ী হওয়ার শুকরিয়া। ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য কেবল একটি প্রথাগত উৎসব নয় বরং এটি বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব, সাম্য এবং সহমর্মিতার এক কালজয়ী স্মারক।

আরবি ‘ঈদ’ শব্দের অর্থ আনন্দ বা বারবার ফিরে আসা এবং ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ রোজা ভাঙা বা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা। ঈদ কেবল উৎসবের মোড়কে ঢাকা কোনো প্রথা নয় বরং এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ঐক্য, সাম্য ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক মহান পাঠশালা। ইসলামের সামাজিক দর্শনে ঈদের গুরুত্ব কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে এক দেহ ও এক প্রাণ হয়ে ওঠার ঐশ্বরিক ঘোষণা।

বাঙালি মুসলিম জীবনে ত্যাগের মহিমা আর মিলনের পরম বার্তা নিয়ে প্রতি বছর ঘুরে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই আনন্দ-উৎসবের আবহে এক অবিচ্ছেদ্য অবিস্মরণীয় সুর হিসেবে মিশে আছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টি ‘ও মোর রমজানেরই রোজা শেষে এলো খুশির ঈদ’। ১৯৩১ সালে আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে গ্রামোফোন রেকর্ডে প্রথম ধ্বনিত হওয়া এই গানটি আজ প্রায় এক শতাব্দী ধরে বাঙালি সংস্কৃতির এক চিরন্তন ঐকতান।

নজরুল এই কবিতায় শুধু ব্যক্তিগত খুশির কথা বলেননি, বরং তুলে ধরেছেন ইসলামের মূল স্পৃহা- সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব। দীর্ঘ এক মাস আত্মসংযম ও কৃচ্ছ সাধনার পর মানুষের মাঝে যে আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ ঘটে, তারই শৈল্পিক রূপায়ণ এই সৃষ্টি। কবির উদাত্ত আহ্বান-‘আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মেলাও হাতে’, আমাদের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার দীক্ষা দেয়। 

একইসাথে ‘আপনারে আজ বিলিয়ে দে শোন্ আসমানি তাগিদ’ পঙক্তিটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আর্তমানবতার সেবায় আত্মোৎসর্গের গুরুত্ব। কবির এই অমর সৃষ্টিতে ঈদের মানবিক চেতনা, সামাজিক সংহতি এবং সমকালীন প্রেক্ষাপটে স্পষ্টতা পেয়েছে।

ঈদুল ফিতর মুমিন বান্দার জন্য এক মহান পুরস্কার বা ‘ইয়াওমুল জায়েজ’ হিসেবে পরিচিত। ঈদের সকাল শুরু হয় সুগন্ধি মেখে নতুন পোশাকে ঈদগাহে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করে- যা ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক জীবন্ত প্রতিফলন। নামাজের পর কোলাকুলি ও ‘ঈদ মোবারক’ বিনিময়ের মাধ্যমে পুরোনো সব ভেদাভেদ ও মান-অভিমান ধুয়েমুছে যায়।

ঘরে ঘরে ফিরনি, সেমাই ও নানা পদের সুস্বাদু খাবারের আয়োজন ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ঈদুল ফিতরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর সার্বজনীনতা। ইসলাম চায় না উৎসব কেবল সামর্থ্যবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুক। তাই ঈদের আনন্দকে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ‘সাদাকাতুল ফিতর’ বা ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব করা হয়েছে। 

নামাজের আগেই এই অর্থ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হয়- যাতে তারাও উৎসবের সমান অংশীদার হতে পারে। এটি সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে এবং মানুষের মধ্যে সহমর্মিতার বন্ধন দৃঢ় করে।

ঈদ মানেই মিলনমেলা। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে যাতায়াত এবং উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন পুনরুজ্জীবিত হয়। এটি আমাদের শেখায় ক্ষমা ও উদারতা। কবির ভাষায়, ‘আজ ভুলে যা সব হানাহানি, হাত মেলা হাতে’। এক মাসের সংযম আমাদের যে ধৈর্য ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়- ঈদের দিনটি সেই শিক্ষারই বাস্তব উদযাপন।

ইসলামি ভ্রাতৃত্বের মূল ভিত্তি হলো ইমান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই; অতএব তোমরা তোমাদের ভাইদের মধ্যে আপস-মীমাংসা করে দাও এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও”(সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত- ১০)। এই আয়াতের দাবি হলো, ইমানদারদের মধ্যে ভৌগোলিক সীমানা বা জাতিগত বৈচিত্র্য থাকলেও তারা আত্মিকভাবে একই সূত্রে গাঁথা।

ঈদুল ফিতর এই ঐশী বাণীর বাস্তব প্রতিফলন ঘটায়। রমজানের কঠোর সাধনা শেষে যখন মুসলমানরা একই ময়দানে বা ঈদগাহে কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেখানে রাজা-প্রজা, ধনী-দরিদ্রের কোনো কৃত্রিম দেয়াল থাকে না। আল্লাহর সামনে সবাই সমান- এই চেতনা বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

“রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরত করে দেখলেন, সেখানকার মানুষ দুটি বিশেষ দিনে খেলাধুলা ও উৎসব করে। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন; তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা’ (আবু দাউদ)।” হাদিস শরিফে ঈদের নামাজকে কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত হিসেবে রাখা হয়নি বরং এটিকে একটি বিশাল সামাজিক সমাবেশে রূপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ঋতুবতী নারীদেরও নামাজের জায়গায় উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে যেন তারা মুসলিমদের দোয়া ও বরকতে শরিক হতে পারে(সহীহ বুখারী)।

এটি প্রমাণ করে যে, ইসলাম ঈদকে একটি সামষ্টিক ভ্রাতৃত্বের মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিম উম্মাহর ঐক্যকে একটি জৈবিক দেহের সাথে তুলনা করেছেন। হাদিস শরীফে এসেছে, ‘পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও মমতার ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের মতো; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়’(সহীহ বুখারী: ৬০১১)। ঈদের দিনে এই সহমর্মিতার শিক্ষা সর্বোচ্চ রূপ পায়।

ঈদের আনন্দ শুধু নিজের জন্য নয়, বরং অন্যের সাথে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা। রাসূল (সা.) আরও সতর্ক করেছেন, ‘তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না নিজের জন্য যা পছন্দ করো, তা তোমার ভাইয়ের জন্যও পছন্দ করো’(সহীহ বুখারী: ১৩)। ঈদের দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় বা ‘মুসাফাহা’ ও ‘মুআনাকা’ (কোলাকুলি) মূলত হৃদয়ের হিংসা ও কালিমা দূর করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে নবায়ন করার প্রক্রিয়া।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ১.৫ থেকে ২ লক্ষ কোটি টাকার এক বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এই বিশাল তারল্য প্রবাহ শহরের অর্থকে গ্রামে নিয়ে যায়-যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে সঞ্জীবিত করে। প্রতি বছর প্রায় ১.৫ কোটি মানুষের শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়ার এই যে যাত্রা, এটি কেবল ‘নাড়ির টান’ নয় বরং এটি শহর ও গ্রামের বৈষম্য ঘোচানোর এক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।

এই স্থানান্তর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে শক্তিশালী করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঈদুল ফিতর কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয় বরং এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। ঈদুল ফিতর মানেই হলো শহর থেকে গ্রামের দিকে লাখো মানুষের জনস্রোত। নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের এই যাত্রা কেবল ভ্রমণের নয় বরং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনগুলোকে পুনরায় জোড়া দেওয়ার এক সংগ্রাম।

ঈদুল ফিতরের ১. যাকাতুল ফিতর ও সামাজিক সুরক্ষা: ঈদের নামাজের আগেই ‘ফিতরা’ বা ‘সাদাকাতুল ফিতর’ আদায় করা ওয়াজিব। এটি মূলত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর একটি ঐশ্বরিক অর্থনীতি। রাসুলুল্লাহ (সা.) এটি বাধ্যতামূলক করেছেন যেন অভাবী মানুষরাও ঈদের আনন্দে শরিক হতে পারে এবং উপবাসকারীর রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি মার্জনা হয়-এই বিধানের মাঝেই লুকিয়ে আছে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের অমীয় বার্তা। যখন একজন সচ্ছল ব্যক্তি তার ফিতরা দরিদ্র প্রতিবেশীকে দেন, তখন সেখানে সহমর্মিতার এক অনুপম পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ২. নাড়ির টানে ঘরে ফেরা: ঈদের ছুটিতে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহর থেকে লাখ লাখ মানুষের গ্রামে ফেরার যে জনস্রোত আমরা দেখি- তা পৃথিবীর আর কোথাও বিরল। 

সব ভোগান্তি  উপেক্ষা করে পরিবারের প্রবীণ সদস্য ও পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে ঈদ উদযাপনের এই ব্যাকুলতা গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। ৩. সাংস্কৃতিক সংহতি ও আপ্যায়ন: বাঙালির ঈদ মানেই অবারিত দ্বার।

এ দেশে ঈদের দিনে প্রতিবেশী হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ঘরেও ঈদের সেমাই বা মিষ্টান্ন পৌঁছানো হয়। এই যে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, এটিই বাংলাদেশের ঈদ সংস্কৃতির মূল সৌন্দর্য। ঈদের জামাত শেষে শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে কোলাকুলির দৃশ্যটি সব বিভেদ মুছে দেওয়ার এক জীবন্ত স্মারক। 
আজকের সংঘাত-বিক্ষোভ পৃথিবীতে ঈদুল ফিতরের বার্তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে ঈদ অনেক সময় বাহ্যিক আড়ম্বর ও কেনাকাটার প্রতিযোগিতায় পর্যবসিত হচ্ছে। আমরা নতুন পোশাকের চাকচিক্যে পাশের ঘরের এতিম শিশুটির কান্নার শব্দ ভুলে যাচ্ছি। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো- ‘সে মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে’।

বর্তমান বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং মানবিক সংকটের এই সময়ে ঈদুল ফিতর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমরা সবাই একই আদমের সন্তান। ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিপীড়িত মুসলিমদের কথা স্মরণ করা এবং তাদের জন্য দোয়া করাও আমাদের ঈমানি ভ্রাতৃত্বের অংশ।

পরিশেষে বলা যায়, ঈদুল ফিতর কেবল বাহ্যিক জৌলুস বা নতুন পোশাকের উৎসব নয়; এটি হলো হৃদয়ে লালিত সংকীর্ণতা বিসর্জন দিয়ে ভ্রাতৃত্বের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার মহোৎসব। ঈদের খুশি তখনই সার্থক হবে যখন সমাজের প্রতিটি মানুষ পেট ভরে খেতে পারবে এবং মর্যাদার সাথে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। ইসলামের এই সাম্যের দর্শন যদি আমরা ব্যক্তিগত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে ধারণ করতে পারি- তবেই পৃথিবী থেকে হানাহানি ও বৈষম্য চিরতরে দূর হবে।

ঈদুল ফিতর আমাদের শেখায় ত্যাগের মাধ্যমে ভোগ করা। এক মাসের সংযম শেষে এই উৎসব আমাদের মানবিক গুণাবলিকে শাণিত করে। যদি আমরা ঈদের এই ভ্রাতৃত্ববোধ কেবল একদিনের জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর ধরে রাখতে পারি, তবেই আমাদের সমাজ হবে শান্তিময় ও বৈষম্যহীন।

আসুন, এবারের ঈদে আমরা শপথ নিই- হিংসা, দ্বেষ আর সংকীর্ণতা পরিহার করে হৃদয়ে হৃদয়ে ভালোবাসার সেতু নির্মাণ করব। তবেই সার্থক হবে আমাদের সিয়াম সাধনা, সফল হবে আমাদের ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর বয়ে আনুক পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে শান্তির সুবাতাস এবং সুদৃঢ় হোক বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন। ঈদ মোবারক।


লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
 

Link copied!