ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Ekushey Sangbad
Janata Bank
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্বের উষ্ণতম মাস


Ekushey Sangbad

অক্টোবর ৭, ২০২০, ০৮:০১ পিএম
সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্বের উষ্ণতম মাস

ভূপৃষ্ঠে ২০১৬ সালের জানুয়ারির পর সবচেয়ে উষ্ণতা ছড়ানো মাস ছিল চলতি বছরের সেপ্টেম্বর। বুধবার (৭ অক্টোবর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূপৃষ্ঠ নজরদারি প্রকল্প সূত্রে এতথ্য জানা গেছে।      

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস জানায়, রেকর্ডের হিসাবে চলতি বছর টানা উষ্ণতম মাস ছিল তিনটি; জানুয়ারি, মে এবং সেপ্টেম্বর। জুন এবং এপ্রিলের তাপমাত্রা সমান সমান ছিল। এরমধ্যে সবচেয়ে উষ্ণতম ছিল সেপ্টেম্বর, যা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। 

কোপার্নিকাসের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফ্রেয়া ভামবুর্গ বার্তা সংস্থা এএফপি'কে বলেন, 'চলতি সময় নাগাদ ২০২০ এবং ২০১৬ সালের উষ্ণতম বছরের মধ্যে ফারাকটা একেবারে কমে এসেছে।' 

এর আগে সেপ্টেম্বরের আগে পূর্বের ১২ মাস সময়জুড়ে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চাইতে ১.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াল বেড়েছে।  

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর লক্ষ্যে গঠিত জাতিসংঘের আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) তাদের ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে জানায়, ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস উষ্ণতা বাড়লেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বিশ্ব। আর চলতি বছরে গড় উষ্ণতা তার আশঙ্কাজনক কাছাকাছি মাত্রায় পৌঁছে গেছে। 

এছাড়া, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসে স্থির রাখার অঙ্গীকার করেছে। 

ইতোপূর্বে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা গড়ে এক ডিগ্রী পর্যন্ত বাড়ার ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। যার ফলে পৃথিবীজুড়ে দেখা দেয় অসহনীয় তাপপ্রবাহ,  তীব্র খরা এবং শক্তিশালী সামুদ্রিক ঘূর্নিঝড়। সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে এসব ঝড় প্রলয়ঙ্করী সব জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে, বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের নানা স্থানে জানমালের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।   

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে তাপমাত্রা শোষণকারী গ্রিন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ অব্যাহত গতিতে বেড়েছে, যার কারণেই গতিশীল হয়ে উঠেছে জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বনাশী চক্র। ১৯ শতকে প্রায় নির্ভুলভাবে উষ্ণতা পরিমাপের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২০ বছরের মধ্যে ১৯ বছরই ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম সময়।  

ইইউ এর দেওয়া তথ্যানুসারে, ১৯৭০ এর দশকের শেষভাগ থেকে প্রতি দশকে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রতি দশকে দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস আকারে বেড়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি উষ্ণতা ছিল উত্তর সাইবেরিয়া অঞ্চলে। উত্তর মেরু বলয়ের এ এলাকায় সেপ্টম্বরের আগেও কয়েক মাস থেকে তাপদাহের মাত্রা ছিল রীতিমতো ভয়াবহ পর্যায়ে।   

তবে তাপদাহে সবচেয়ে বেশি পুড়েছে মধ্যপ্রাচ্য। ইতোমধ্যেই রেকর্ড তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে; তুরস্ক, জর্ডান এবং ইসরায়েলে। 

উত্তর আফ্রিকা এবং এশিয়ায় তিব্বতেও গা জ্বালানো গরম অনুভূত হচ্ছে। বাদ যায়নি উত্তর আমেরিকাও। সেপ্টেম্বরের শুরুতে লস অ্যাঞ্জেলস কাউন্টির তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। দাবদাহের এ তাণ্ডবে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ছয়টি দাবানলের মধ্যে পাঁচটি ওই মাসের শেষাবধি জ্বলেছে। 

কোপার্নিকাস প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, 'গত সেপ্টেম্বর ছিল ২০১৯ সালের একই মাসের তুলনায় দশমিক ০৫ সেলসিয়াস বেশি গরম।' 

প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় এলাকায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক চক্র- লা নিনার প্রভাব থাকায় তার প্রভাবে চলটি বছর অনেক অঞ্চলের উষ্ণতা কিছুটা কমে। তার মধ্যেই সেপ্টেম্বরের রেকর্ড উষ্ণতা ছিল বিস্ময়কর এক ঘটনা।  

গত মাসে উত্তর মেরু সাগরের সামুদ্রিক বরফের স্তরও দ্বিতীয় সর্বনিম্ন মাত্রায় সংকুচিত হয়। ১৯৭৮ সালে স্যাটেলাইট চিত্রের সাহায্যে মেরু বরফ পর্যবেক্ষণ শুরু করার পর, বরফের বিস্তারকে এনিয়ে দ্বিতীয়বার ৪০ লাখ বর্গকিলোমিটারের নিচে নামতে দেখা গেল।  

উত্তর মেরুর চারপাশে সাগরের পানি জমেই তৈরি হয় আর্কটিক বরফ স্তর। এটি গললে তাতে  সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা নতুন করে বাড়ে না। তবে বরফ দ্রুত হ্রাস পেলে তার প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ে।
সদ্য ঝড়ে পড়া তুষারের সাদা কণা সূর্যের ৮০ শতাংশ বিকিরণ মহাশূন্যে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু, সেই জায়গার যদি সাগরের গভীর নীল রঙের জলরাশি হয়, তাহলে ওই সম-পরিমাণ তাপশক্তি শোষিত হয়।  

জলবায়ু পরিবর্তন আঞ্চলিক আবহাওয়া চক্রের চিরায়ত গতিতেও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ফলে, সূর্যের বিকিরণ বেশি হচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহগুলোর উপর। প্রতিনিয়ত যার ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ গলে পড়ছে সাগরে। গত সপ্তাহের এক গবেষণা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ হাজার বছরে এত দ্রুতগতিতে হিমবাহ গলার ঘটনা ঘটেনি।   

পৃথিবীর সকল সাগরের উচ্চতা সাত মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে গ্রিনল্যান্ডের সব হিমবাহ গলে গেলে। ২০১৯ সালে প্রায় অর্ধ লাখ টন বরফ হারিয়েছে গ্রিনল্যান্ড। যার গতি ছিল; দিনে ৩০ লাখ টন পানি বা সেকেন্ডে ছয়টি অলিম্পিক মানের সুইমিং পুল ভরিয়ে ফেলার সমান।  সূত্র: আরব নিউজ

একুশে সংবাদ/রা/এআরএম