ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২, ৫ মাঘ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শুভ্রা দেবনাথের লেখা কাব্যগ্রন্থ "নি:শব্দের দীর্ঘ শ্বাস"


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৭:৪১ এএম, ১০ এপ্রিল, ২০২১
জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শুভ্রা দেবনাথের লেখা কাব্যগ্রন্থ

এবারের বইমেলায় পুঁথিনিলয় প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শুভ্রা দেবনাথের লেখা কাব্যগ্রন্থ "নি:শব্দের দীর্ঘ শ্বাস"। নিজের পরিচিতজন, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে সম্ভব হলে বইটি সংগ্রহ করে তার লেখক স্বত্ত্বাকে উৎসাহিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন কবি - শিল্পী শুভ্রা দেবনাথ।

কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করার প্রধান কারণ সম্পর্কে শুভ্রা দেবনাথ এই প্রতিবেদককে বলেন, মূলত স্বাধীনতার পঞ্চাশতম বছরকে স্মরণে রাখার জন্যই আমার এই প্রয়াস। তবে এই করোনাকালীন ঘরবন্দী অবস্থা আমার সেই ইচ্ছার পালে একটু যেনো সজোরে হাওয়া জুগিয়েছে। বাবা মায়ের চেয়ে বড় আর কেউ নেই। তাই প্রথম বইটি তাদের উদ্দেশ্যেই নিবেদন করলাম। এই করোনা মহামারীর বৈরী সময়ে আমি মাকে হারিয়েছি।

বাবাও যেনো হঠাৎই একটু বেশি দূর্বল, বুঝি না কী হচ্ছে। যিনি সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন আমার সব কাজে, তিনি আমার মা। কিন্তু আজ তিনিই নেই আমার পাশে।এ যেনো এক অদ্ভুত শূন্যতা। মায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শুভ্রা দেবনাথ বলেন, যখন থেকেই চাকরি (২০০১ সাল) করি, তখন থেকেই প্রতি জন্মদিনের দুদিন আগেই, আমিই প্রথম মাকে উপহার দিতাম।

তখন খুশিতে মায়ের চোখ চিকচিক করত, সুন্দর একটা হাসি দিয়ে মিষ্টি করে বকাও দিয়ে বলতেন - কেন এসব করি ? ভালোই লাগতো মায়ের মুখের সেই বকাটা। মুখে না বললেও তার উপহারের জন্য আমিও অপেক্ষা করতাম। কারন সেটাও স্পেশাল থাকতো আমার কাছে। আমিও আহ্লাদে বকা দিতাম - কেনো দাও এসব। এসব সুন্দর খুনসুটি। এখন দু'চোখ ভিজে যায়। মা আজ কেমন করে যেনো সেই ঘটনাই মিলে গেলো।

১০ এপ্রিল আমার জন্মদিন। আমার জন্মদিনের উপহার মা তোমাকে আমার লেখা প্রথম কাব্যগ্রন্থ কিন্ত উপহার দিয়ে দিলাম। আমি ঠিকঠাক দেখতে পাচ্ছি - খুশিতে তোমার দু'চোখ চকচক করছে । প্রয়াত মা গীতা দেবী স্মরণে শুভ্রা দেবনাথ বলেন, মাগো, যেখানেই থাকো তোমার আশীর্বাদ যেনো আমার মাথার উপর থাকে। ভাল থাকো মা তারার দেশে। ওই দূর আকাশ থেকেই তুমি আশীর্বাদ করো যেনো তোমার শেখানো পথে চলতে পারি সবাইকে সাথে নিয়ে। প্রনাম মা -----।

শুভ্রা দেবনাথ কথায় কথায় জানান, তার জন্ম ১০ই এপ্রিল। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর, উপজেলা শাহরাস্থি, গ্রাম সূচিপাড়া। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর হলেও তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা পুরাণ ঢাকাতে। তার বাবা সুদর্শন চন্দ্র দেবনাথ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তার মা গীতা দেবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন।

শুভ্রা দেবনাথ বাংলা বাজার সরকারি স্কুল থেকে এস.এস.সি এবং ফজলুল হক মহিলা কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশের পর বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন (পশ্চিমবঙ্গ) এম.ইউ সি উমেন্স কলেজ থেকে দর্শন শাস্ত্রে অনার্স ও পরবর্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন শাস্ত্রে এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি জানান, পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েই ২০০১ সালে সূচীপাড়া ডিগ্রী কলেজে দর্শন বিভাগে প্রভাষক হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আদর্শ ডিগ্রী কলেজ শ্রীনগর মুন্সীগঞ্জে কর্মরত আছেন।

জানা যায়, শুভ্রা দেবনাথ খুব ছোটবেলা থেকেই সৃষ্টিশীল কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। নৃত্য দিয়ে জীবনের শুরুতে সংস্কৃতির শিক্ষাগ্রহণ করলেও তা বেশী দিন অব্যাহত ছিল না। পরবর্তীতে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ার সময়ে সঙ্গীতের সঙ্গে পথচলা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুলবুল ললিত কলা একাডেমী থেকে রবীন্দ্রসংগীতে সার্টিফিকেট অর্জন করেন। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিপ্লোমা করেন সঙ্গীতের ওপর।

এখন তিনি ইউডা (ইউনিভার্সিটি অব ডেভলপমণ্ট অলটারনেটিভ) থেকে এম.মিউজ এর ছাত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের ক শ্রেণীর তালিকাভুক্ত হয়ে নিয়মিত রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করে আসছেন। সরকারী ও বেসরকারীভাবে তুরস্ক, মিশর, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বেশকিছু দেশে সাংস্কৃতিক উৎসবে যোগদানের সুন্দর অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানান সুরেলা কণ্ঠের গায়িকা শুভ্রা দেবনাথ। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তিনটি রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে তার।

এগুলোর নাম হলো - দুজনে দুজনার, সুখের সন্ধানে ও ‘হৃদয়ে রহো’। তার ব্যাক্তিগত ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে রয়েছে shuvra debnath exclusive নামে। নিয়মিত তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন স্টেশনে মিউজিক্যাল শো এবং স্টেজ শো করে থাকেন বলে জানান। কবিতা লেখালেখি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শুভ্রা দেবনাথ বলেন, লেখালেখির ঝোঁক থাকলেও গান, চাকুরী ও সংসার সামলে সেভাবে লেখা হয়ে ওঠেনি।

গবেষণাধর্মী কিছু লেখা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে প্রকাশিত হলেও কাব্যগ্রন্থ হিসেবে “নি:শব্দের দীর্ঘশ্বাস” আমার প্রথম প্রকাশনা। আমি বলবো - কবিদের ভিড়ে এটি একটি অতি নগন্য প্রকাশনা হলেও ব্যক্তিগতভাবে শুভ্রা দেবনাথ এটি নিয়ে বেশ উচ্ছাসিতবোধ করেন। নিজের সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে প্রকৌশলী স্বামী জহর লাল দেবনাথের কাছ থেকে ব্যাপক উৎসাহ - অনুপ্রেরণা পান বলে জানান শুভ্রা দেবনাথ।

ব্যাক্তিগত জীবনে ছেলে জয়াদিত্য দেবনাথ বর্ণ ও মেয়ে জয়প্রভা দেবনাথ পূর্বাকে নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করছেন শুভ্রা দেবনাথ। বহুমাত্রিক গুনের অধিকারী এই শিল্পী ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতি জগতে নিজেকে মেলে ধরার স্বপ্ন দে