মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ ইরানকে অবিলম্বে আঞ্চলিক হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
রোববার (১ মার্চ) জিসিসির সদস্য দেশগুলোর একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে জোটভুক্ত দেশগুলো দাবি করে, সাম্প্রতিক ইরানি হামলায় তাদের বিভিন্ন স্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব হামলায় আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
জিসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো— সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ওমান।
বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জিসিসি জানায়, ইরান তাদের সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। একইসঙ্গে তেহরানকে অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনৈতিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে, পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলার মধ্যেই শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালায়। পরবর্তীতে ওই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হয় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এতে তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এর জবাবে ইরান ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর প্রভাব পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবেও, যেখানে একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন দাবি উঠে এলেও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে ঘিরে প্রচারিত তথ্যগুলো এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি।
ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

