ঢাকা রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank

"লিচু-চালের খ্যাতির বদলে কেন মাদক"


Ekushey Sangbad
ডিআইইউ প্রতিনিধি
১১:৩৮ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

বলছিলাম দিনাজপুর জেলার কথা, বাংলাদেশ উত্তরের প্রাচীন জেলা।

 

দিনাজপুর জেলা ১৭৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। জনশ্রুতি আছে, জনৈক দিনাজ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নামেই এ জেলার নাম দিনাজপুর। ভারতের বর্ডার বেষ্টিত এ জেলা লিচু, চালসহ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত । উল্লেখ্য  কান্তজিউ মন্দির,  রামসাগর, নয়াবাদ মসজিদ ইত্যাদি।

 

তবে বেশ কিছুদিন হলো, দেশের স্বনামধন্য একটি পত্রিকার রিপোর্ট এ উঠে আসে বর্তমানে এ জেলা মাদকের অভয়াআশ্রম হিসেবে তৈরি হয়েছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক। নানান নামে পাওয়া যাচ্ছে এ সকল মাদকদ্রব্য।  ইয়াবা, গাজা, ফেন্সিডিলসহ হরেক রকমের মাদকের ছড়াছড়ি। সদর শহর থেকে গ্রামাঞ্জল সব জায়গায় তৈরি হয়েছে মাদকসেবী এবং মাদকের সিন্ডিকেট। এক প্রকার প্রকাশ্যেই চলছে এসব মাদকের বিশাল রমরমা ব্যবসা।

 

কিন্তু কেন মাদকের এতো আধ্যিপত্য এই জেলায়। বলা হচ্ছে ভারত ঘেঁষা হওয়ার কারনে খুব সহজেই হাতে পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত এসব মাদক। এ তথ্য সত্য বটে কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ বর্ডার বেষ্টিত যে সকল জেলা রয়েছে সেগুলোও বর্ডারের ওপার হলো ভারত। সে জেলাগুলোর তুলনায় দিনাজপুরে মাদকের প্রবনতা বেশি হওয়ার কারন তবে কি?

 

রিপোর্ট বলা হয়েছে, দিনাজপুরে কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। আসলেই তাই, দিনাজপুরের জেলায় ভারী কোন শিল্প কারখানা নেই। কর্মসংস্থানের অন্যতম উৎস কৃষি ও কৃষি নির্ভর ব্যবসা। এ জেলায় কর্মসংস্থানের অভাব চোখে পড়ার মতন। এছাড়াও স্থানীয় শিক্ষিত যে সকল যুবক রয়েছে তাদের অধিকাংশই বেকার। এ প্রকার হতাশায় কাটে তাঁদের শিক্ষা জীবন। পারিবারিক চাপ, ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবনা, সম্পর্কের অবনতি মোটা দাগ এসব কারণেই এসব বেকার যুবকেরা মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

 

এছাড়াও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যক্রম চোখে পড়ার মতন না। শহরে নেই বিনোদনের পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা। বিশেষত কিশোর বয়সে যারা রয়েছে তাদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যান্য জেলায় যে প্রভাব লক্ষ্য করা যায় তা দিনাজপুরে খুবই কম। যার ফলে কিশোর বয়সে মাদকের ছোবলে জড়িয়ে পড়ছে।

 

মাদকের এই প্রবনতার আরেকটি অন্যতম হলো বিশাল সিন্ডিকেট।  এ সিন্ডিকেট এতো বড় জাল বিস্তার করে ফেলছে, যে শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় এক প্রকার চেইন অব কমান্ড তৈরি হয়েছে এবং আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে  এসে আবার সিন্ডিকেট এক হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা ব্যবসা।

 

মাদকের এই অবাধ বিস্তারের অন্যতম আরেকটি কারণ মনস্তাত্ত্বিক অবনতি। এ জেলায় আগে মাদকের কারবারি কিংবা মাদক সেবী বলতেই ঘৃণার পাত্র কিংবা খারাপ চোখে দেখা হত। কিন্তু কর্মসংস্থানের অভাব থাকার কারণে বর্তমানে সিন্ডিকেট এ সকল দরিদ্র মানুষকে খুব সহজেই নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসছে। যার ফলে মনস্তাত্ত্বিক বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। মাদকের ব্যবসা কিংবা সেবন অন্যান্য আট- দশটা কাজের মতই বর্তমানে সামাজিক স্বীকৃতি পেয়ে যাচ্ছে।

 

একজন সমাজবিজ্ঞানী কাছে এর প্রতিকার জানতে চাইলে তিনি একুশে সংবাদকে জানান, এর জন্য বড় একটি রোডম্যাপ প্রয়োজন। মাদকের এ ছোবল থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,  রাজনৈতিক,  ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান,  সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সকল সংগঠনকে এক ছাদের নিচে এসে অবস্থান করতে হবে এবং একটি ঐক্যমতের ভিত্তিতে মাদকের এ ভয়াল ছোবল হতে পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচাতে চাইলে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

 

সকল সংগঠন মাদকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা সেল গঠন করে কাজ করতে হবে প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। বিশেষ করে কিশোর- যুবক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাদকের কুফল সম্পর্কে সিরিজ আকার আলোচনা করতে হবে।

 

একুশে সংবাদ.কম/র.র.জা.হা