ঢাকা রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank

কাগুজে পাঠাগার!


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৭:৪০ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
কাগুজে পাঠাগার!

রংপুর জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগার নেই। পাঠাগার না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে তাদের স্বাভাবিক জ্ঞানচর্চায় ব্যাঘাত ঘটছে। জানা যায়, হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগার থাকলেও সেসবের অস্তিত্ব কেবল কাগজে-কলমেই বিদ্যমান।


আশ্চর্যজনক হলো, অস্তিত্বহীন এসব কাগুজে পাঠাগার পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে একজন করে সহকারী গ্রন্থাগারিক নিয়োগ দেওয়া হলেও বসে বসে বেতন-ভাতা তোলা ছাড়া তাদের আর কোনো দায়িত্ব নেই। অথচ পাঠাগার সংস্কার, বই ক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর সরকারি অনুদান গ্রহণ করে থাকে।


অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অনুদানের সমুদয় টাকা প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও কমিটির লোকজন পকেটস্থ করেন। এমন একটি অনৈতিক কাজ ও অনিয়ম বছরের পর বছর কীভাবে চলছে, সেটাই প্রশ্ন। জেলা-উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সরকারের তদারকি সংস্থাগুলো তাহলে করছেটা কী?


গ্রন্থাগার হলো জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। প্রবাদ আছে, ‘একটি জাতিকে ধ্বংস করার জন্য তার গ্রন্থাগার, মহাফেজখানা (আর্কাইভ/সংগ্রহশালা), জাদুঘর ধ্বংস করে দাও।’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ্রন্থাগার সম্পর্কে লিখেছেন, ‘এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে বাঁধা পড়িয়া আছে।’ বলার অপেক্ষা রাখে না, যে জাতির গ্রন্থাগার যত সমৃদ্ধ, সে জাতি তত উন্নত। ২০১৮ শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণি রুটিনে লাইব্রেরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। লাইব্রেরি ঘণ্টায় শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরিতে গমন ও পৃথক লাইব্রেরি কক্ষ না থাকলে শ্রেণিকক্ষেই লাইব্রেরির বই লেনদেন ও বিতর্ক, গল্প বলা, আবৃত্তি ইত্যাদি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে লাইব্রেরি ঘণ্টার কার্যক্রম নিশ্চিত করতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা/থানা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিবিড় পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়। সে অনুরোধ কতটা রক্ষা করা হচ্ছে, রংপুর জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাগার না থাকাসহ কতিপয় অস্তিত্বহীন পাঠাগারের তেলেসমাতি কর্মকাণ্ডই তা বলে দিচ্ছে।


বস্তুত জ্ঞানভিত্তিক আলোকিত সমাজ গঠন থেকে যে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়ছি, সমাজের বিভিন্ন ঘটনা থেকে তা উপলব্ধি করা যায়। আশঙ্কাজনক হলো, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শুধু গ্রন্থাগার নিয়ে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা চলছে না, দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও একই অবস্থা বিদ্যমান। অথচ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে মানুষকে বইমুখী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান ও বইমুখী করার জন্য কেবল রংপুরে নয়; সারা দেশে পাঠাগার সম্পর্কিত সব ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দ্রুত অবসান ঘটবে, এটাই প্রত্যাশা।
   
একুশে সংবাদ.কম/জা.হা