AB Bank
ঢাকা শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় ফেলে গেল সন্তানরা


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি,মেহেরপুর
০৬:৩১ পিএম, ১৪ জুলাই, ২০২৩
জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ মাকে রাস্তায় ফেলে গেল সন্তানরা

মেহেরপুরের গাংনীতে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি লিখে নিয়ে জন্মদাত্রী মাকে রাস্তায় ফেলে গেছেন সন্তান ও তাদের স্ত্রীরা। শুক্রবার (১৪ জুলাই) সকালে উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

 

পরে প্রতিবেশীরা বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে ঠাঁই দিয়েছেন এক বাড়িতে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি দুঃখজনক। তবে, কেউ অভিযোগ দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


জানা গেছে, গাংনী উপজেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে নিভৃত পল্লী কল্যাণপুর গ্রাম। গ্রামের মৃত খেলাফত মন্ডলের স্ত্রী বৃদ্ধা সাহেরা খাতুন। বয়স আশির ঊর্ধ্ব। তিন ছেলে ৫ মেয়ে। সবাই স্বাবলম্বী। স্বামী গত হয়েছেন ২৪ বছর হলো। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের বড় করে তুলতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে সাহেরা খাতুনের। আশা ছিল বৃদ্ধ বয়সে সন্তানরা উপার্জন করে খাওয়াবে তাকে। কিন্তু তা হয়নি। শেষ বয়সে হতভাগ্য মায়ের আশ্রয় হলো রাস্তায়।


অভিযোগ রয়েছে, তিন ছেলে সমস্ত সম্পত্তি লিখে নেয়ার পর মায়ের দায়িত্ব নিতে কেউ রাজি না হলে মাকে রাস্তায় ফেলে যান সন্তানরা। সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ৫ মেয়েও মায়ের খোঁজ নেন না। অবশেষে দু’মুঠো ভাত না দিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী মাকে গোপনে ফেলে গেছেন সন্তান ও তাদের স্ত্রীরা। বৃষ্টির মধ্যে ভিজে আর্তনাদ করতে থাকলে প্রতিবেশীরা বৃদ্ধ মাকে একটি ঘরে আশ্রয় দেন।


মায়ের ভরণ-পোষণ ও ভাত দেওয়ার বিষয়ে তিন ভাইয়ের মধ্যে সমঝোতা হয়। ১০ দিন করে একেক সন্তান মাকে খাওয়াবে ও যত্ন নেবেন। অথচ কেউ সঠিকভাবে তা করেন না। যার কাছেই যান নির্যাতনের শিকার হন তিনি। বর্তমানে মেজো ছেলের কাছে রয়েছেন মা সাহেরা। কিন্তু সন্তান ও স্ত্রী রুপিয়া খাতুন মা সাহেরাকে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় ফেলে যান।


সাহেরা খাতুনের স্বামী মারা যাওয়ার সময় নগদ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে যান স্ত্রীকে তার দাফন কাফনের জন্য। ওই টাকা স্থানীয় কাউছার মেম্বারের কাছে জমা রাখা হয়। কিন্তু সেই টাকারও হদিস নেই। আবার বয়স্কভাতার প্রাপ্ত টাকাগুলোও সন্তানরা ভাগ করে নিয়ে নেন।


এ ব্যাপারে সাহেরার খাতুনের কোনো ছেলে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ছেলের বউয়েরা জানান, শাশুড়ির সেবা করে ছেলের বউরা সুনাম পান না। শাশুড়ি সারাদিন মেয়ে মেয়ে করে চিল্লাই। তাই মেয়ের বাড়ির সামনে রাস্তায় রেখে আসা হয়েছে শাশুড়িকে।


গাংনী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

একুশে সংবাদ/জ/এসএপি

Link copied!