AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

রিভলবার দিয়ে শ্বশুরকে আরাভের হুমকি, জেল খেটে দেশ ত্যাগ


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
১২:১৩ পিএম, ২১ মার্চ, ২০২৩
রিভলবার দিয়ে শ্বশুরকে আরাভের হুমকি, জেল খেটে দেশ ত্যাগ

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি। রাজধানীর মগবাজারের আমবাগান এলাকা। তিনতলা একটি বাড়ির নিচতলায় রবিউল ইসলাম আপন ওরফে আরাভ খান ঘরজামাই থাকতেন। আরাভ তখন মগবাজারে ছিনতাইকারী। পেয়ারাবাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি তার ওস্তাদ। জামাই ছিনতাইকারী বলে খুব একটা ভাল চোখে দেখতেন না শ্বশুর সেকেন্দার আলী। ঐ রাতে আরাভ শ্বশুরের কাছে ১০ হাজার টাকা চান এবং এই টাকা দিয়ে তিনি ব্যবসা করবেন বলে জানান। কিন্তু শ্বশুর শুনতে নারাজ। কারণ এর আগেও কয়েকবার টাকা দিয়েছিলেন। আরাভ ইয়াবা সেবন করে ঐসব টাকা উড়িয়ে দেন। আবার টাকা চাওয়ায় শ্বশুর-জামাই ব্যাপক কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আরাভ রিভলবার বের করে শ্বশুরকে হুমকি দেন। এ দৃশ্য দেখে কেউ একজন রমনা থানায় খবর দেন। রমনার ইন্সপেক্টর মাহবুব-উর-রশিদের নেতৃত্বে একটি টিম দ্রুত আমবাগানের ঐ বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে গুলিভর্তি রিভলবারসহ আরাভকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

 

ঐ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগের এসআই সুজন কুমার কুণ্ডু বাদী হয়ে আরাভের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের তিন বছর পর আরাভ জেল থেকে জামিনে মুক্তি পান। ঐ মামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করার পর আরাভের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। রহস্যজনক কারণে সেই গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করতে পারেনি পুলিশ। হাল আমলের আলোচিত আরাভের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই অস্ত্র মামলার কাগজপত্র ও আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে এতথ্য দেওয়া আছে।

 

পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, আরাভ আপাদমস্তকের একজন প্রতারক। গরিব ও নিরীহ একটি ছেলেকে ‘খুনি’ বানাতে চেয়েছে। আরাভের অপকর্মে বেশি সহায়তা করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। আর এই পুলিশ কর্মকর্তাকে আশ্রয়-প্রশয় দিতেন সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাদের আস্করা পেয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে আরাভের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কয়েকজন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও মডেলরা সহায়তা করছেন আরাভকে।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হরুন অর রশীদ বলেন, আরাভ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে তথ্য উদঘাটন করা হবে। তাছাড়া আরাভকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ডিএমপির পুলিশ পরিদর্শক মাহবুব-উর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান শ্বশুর সেকেন্দার আলীকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের জন্য গুলিভর্তি রিভলবারসহ ঐ বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন রবিউল ইসলাম আপন (আরাভ) । অস্ত্রটির ট্রিগার ও ফায়ারিং পিনও সচল ছিল। পরে সেটি জব্দ করা হয়।

 

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০১৫ সালের ১ মার্চ আরাভের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। একই বছরের ১০ মে আদালত রবিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এই মামলায় ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ জামিন পান রবিউল। এরপর জামিনে গিয়ে পলাতক থাকায় ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে আছে। আগামী ২৮ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপ-পরিদর্শক শেখ হাসান মুহাম্মদ মোস্তফা সারোয়ারের সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য আছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরাভ সেসময় পুলিশকে জানান, তিনি এর আগে একাধিক বিয়ে করেছেন। ভয়ভীতি ও প্রভাব খাটিয়ে শ্বশুরদের কাছ থেকে নগদ অর্থ আদায় করতেন।

 

 

ঢাকা থেকে ইন্টারপোলের সম্ভাব্য রেড নোটিশ জারির খবর পেয়ে দুবাইয়ে অবস্থানরত রবিউল ইসলাম আপন ওরফে আরাভ পালানোর রাস্তা খুঁজছেন বলে তার একাধিক ঘনিষ্ঠজন জানিয়েছে। তিনি দুবাই থেকে আমেরিকা যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও ঐ সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। রবিবার থেকে আরাভ সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন। দুবাইয়ে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।

 

এদিকে আরাভ খানের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম রবিউল ইসলাম। তার বাংলাদেশি পরিচয়পত্র থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে গেছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরেছে।

 

এনআইডি তথ্য অনুযায়ী, আরাভ খানের এনআইডিতে নাম আছে রবিউল ইসলাম। এনআইডিতে তার পিতার নাম মতিউর রহমান, মায়ের নাম লাকি এবং স্ত্রী রুমার নাম উল্লেখ আছে। তিনি মাধ্যমিক পাশ এবং জন্মস্থান বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নে। আরাভের বাবা মোল্লারহাটে ফেরি করে সিলভারের পাতিল বিক্রি করতেন। এ কারণে এনআইডিতে জন্মস্থান মোল্লারহাট। তবে আদি বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া থানার হিরণ ইউনিয়নের আশুতিয়া গ্রামে। আরাভের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ১০টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে কোটালিপাড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে।

 

কোটালিপাড়া থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, আরাভের বাবার একটা টিনের ঘর রয়েছে। আর কোনো সম্পদ নেই। তার বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় মোট ১০টি গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় রয়েছে। প্রতিটি গ্রেফতারি পরোয়ানায় রবিউলের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে তাকে খুঁজে পায়নি।

 

একুশে সংবাদ.কম/আ.জ.প্র/জাহাঙ্গীর

Link copied!