ঢাকা রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

মমতার ওপর হামলা: লিগামেন্টে আঘাত, পায়ের পাতায় চিড়


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯:২৯ এএম, ১১ মার্চ, ২০২১
মমতার ওপর হামলা: লিগামেন্টে আঘাত, পায়ের পাতায় চিড়

নন্দীগ্রামে ভোটের প্রচারে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। মাথা, কপাল ও পায়ে আঘাত লেগেছে তার। এ কারণে সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত তাকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। খবর এনডিটিভির।

গতকাল বুধবার হলদিয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে নন্দীগ্রামে ফেরেন মমতা। এরপর স্থানীয় কয়েকটি মন্দির পরিদর্শনে যান। রেয়াপাড়ায় একটি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনের একটি দল ঘিরে ধরে মমতাকে। এ সময় তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় তারা। এতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রীর মাথা, কপাল ও পায়ে আঘাত লাগে।

তৃণমূল নেতা চিকিৎসক শান্তনু সেন প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিগামেন্টে আঘাত রয়েছে। তার পায়ের পাতায় চিড়। রয়েছে সফট টিস্যু ইনজুরি।

তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'এমআরআই-র জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গুরুতর চোট ও চিড় রয়েছে। মেডিক্যাল রিপোর্টের অপেক্ষা করছি।'    

আজ, বৃহস্পতিবার ইস্তাহার প্রকাশ করার কথা ছিল তৃণমূলের। তবে নন্দীগ্রামে মমতা চোট পাওয়ায় তা স্থগিত করা হল। 

এদিকে, ঘটনার পরপরই দেহরক্ষীরা মমতাকে টেনে তুলে গাড়িতে ওঠান। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে গাড়িটি। তবে এর আগেই উপস্থিত সাংবাদিকদের আঘাতের চিহ্ন দেখান মমতা। অভিযোগ করেন, হামলার সময় পুলিশের কেউ ঘটনাস্থলে ছিল না।

মমতা বলেন, ‘ভিড়ের মধ্যে চার-পাঁচজন বাইরে থেকে ঢুকে পড়েছিল। ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় আমাকে। ইচ্ছাকৃত ধাক্কা মারা হয়।  পুলিশ সুপারও ছিল না। জেনেবুঝেই এটা করেছে। আমার বুকে যন্ত্রণা করছে। নির্বাচন কমিশনে জানাব।’

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের অন্যান্য দলের রাজনীতিকেরা। টুইটার বার্তায় আম আদমি পার্টির নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘মমতা দিদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে। আমি তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’

কংগ্রেস নেতা অভিজিত মুখার্জি টুইট করেন, ‘আমি মমতা দিদির দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। জড়িতদের অবশ্যই সাজা পেতে হবে। দিদি, আপনি একটি কঠিন লড়াইয়ে আছেন। এতে আপনি এগিয়ে যাবেন এবং বিজয় অর্জন করবেন।’

যদিও, মমতার ভাষ্য মেনে এ ঘটনাকে ‘হামলা’ বলতে নারাজ বিজেপি। পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘এটা নিছকই একটি দুর্ঘটনা। অথচ তিনি (মমতা) এটিকে হামলার রূপ দিতে চাইছেন। এটা গ্রহণেযাগ্য নয়। ওই সময় চারপাশে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে ঘিরে ছিলেন।’ 

একই সুরে কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির নেতারাও। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলা বিজেপির ভাইস প্রেসিডেন্ট অর্জুন সিংহ প্রশ্ন রাখেন, ‘তাঁর (মমতার) গাড়িবহরে কি তালেবান হামলা করেছে? ওই সময় তাঁর চারপাশে পুলিশ ছিল। আইপিএস নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিল। কে তাঁর পাশে ঘেঁষবে?’ অর্জুন সিংহ আরও বলেন, ‘মমতার ওপর হামলা হয়নি। বরং তিনি ভোটের আগে সহানুভূতি আদায়ে এ নাটক করছেন।’

একুশেসংবাদ/অমৃ