টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনীতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড। প্রোটিয়াদের দেওয়া ১৬৯ রানের লক্ষ্য মাত্র ১২.৫ ওভারেই ৯ উইকেট হাতে রেখে টপকে যায় ব্ল্যাক ক্যাপসরা।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে টস জিতে নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। শুরুতেই চাপে পড়ে প্রোটিয়ারা। দলীয় ১২ রানের মধ্যেই কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনের উইকেট হারায় তারা। ডি কক ১০ রান করলেও রিকেলটন ফেরেন শূন্য হাতে।
এরপর এইডেন মারক্রাম ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস জুটি গড়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। পাওয়ারপ্লে শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৮ রান, উইকেট হারায় দুটি। মারক্রাম ১৮ রান করে আউট হলে আবারও ধাক্কা খায় দল। ডেভিড মিলার ব্যর্থ হন বড় মঞ্চে। ব্রেভিস ৩৪ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।
মাঝপথে বিপর্যয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন মার্কো ইয়ানসেন। ত্রিস্টান স্টাবসকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। স্টাবস ২৯ রান করে বিদায় নিলেও ইয়ানসেন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৩০ বলে ৫৫ রান করেন। তার ঝোড়ো ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ম্যাট হেনরি, রাচিন রবীন্দ্র ও কোল ম্যাককনকি দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। প্রোটিয়া বোলারদের ওপর শুরুতেই চড়াও হয়ে পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৮৪ রান তোলে নিউজিল্যান্ড, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দুজনই অর্ধশতক পূর্ণ করেন। দলীয় ১১৭ রানে সেইফার্ট ৫৮ রান করে আউট হলেও ফিন অ্যালেন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১০০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে অনায়াস জয় এনে দেন অ্যালেন।
নিউজিল্যান্ড ১২.৫ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান তুলে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একমাত্র উইকেটটি নেন কাগিসো রাবাদা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২০ ওভারে ১৬৯/৮
নিউজিল্যান্ড: ১২.৫ ওভারে ১৭৩/১
ফল
নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা
ফিন অ্যালেন
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

