ঢাকা বুধবার, ১৮ মে, ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নির্বাচন

৩৩৯ ভোট গুনতে ১০ ঘণ্টা! সমালোচনার ঝড়


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬:৫৬ পিএম, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২
৩৩৯ ভোট গুনতে ১০ ঘণ্টা! সমালোচনার ঝড়
ভোট গণনা শেষে শনিবার ভোর৫টা ৫০ মিনিটে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ভোট গণনা শেষে শনিবার ভোর৫টা ৫০ মিনিটে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

বহুল আলোচিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে শুক্রবার। এবার নির্বাচনের দুইটি প্যানেল নির্বাচন করেছেন। একটি ইলিয়াস কাঞ্চন নিপুণ ও অন্যটি মিশা-জায়েদ প্যানেল। বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ এলেও বেশ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দিনভর শিল্পীদের মেলা বসেছিল এফডিসিতে।

এদিন সকাল ৯টায় শুরু হয় ভোট গ্রহণ৷ চলে ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনার নিশ্চিত করেছেন, এবার ৪২৮ জন ভোটারের মধ্যে ৩৬৫ জন ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে এই নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে শুক্রবার এফডিসিতে অন্তত ৩০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল।

চলচ্চিত্র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এই নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে সামাজিক ম্যাধমগুলোতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিকেল ৫টায় শেষ হওয়া এই নির্বাচনে ৩৬৫ ভোট গুণতে লেগেছে প্রায় ১০ঘণ্টা? শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহীদুল হারুন এলেন, ফলাফল ঘোষণা করেন। পদগুলোর বেশির ভাগেই ছিল হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কিন্তু নেটিজেনদের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল, ৩৩৯টা ভোটের গণনা কেন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাতে শেষ হয়। কেন এতটা সময়?

কেন দীর্ঘ সময় লেগেছে ভোট গণনায়, এমন প্রশ্নের উত্তর আমরা জানার চেষ্টা করেছি প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহীদুল হারুনের কাছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন,‘আমাদের নির্বাচনের হিসাব–নিকাশ একদমই আলাদা। এটা খুবই জটিল নির্বাচন। হাতেকলমে করতে হয়। ২১ দিকে চোখ রাখতে হয়। জাতীয় নির্বাচন বা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের চেয়ে হিসাবটা কঠিন। আমাদের শিল্পী সমিতির নির্বাচনে মোট ২১টি ভাগ করতে হয়।

‘এবার শিল্পী সমিতির নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৪২৮ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৩৯ জন। ভোট দেওয়ার জন্য দুটি করে ব্যালট পেপার ছিল। ভোট গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন দুই পক্ষের আটজন অভিনয়শিল্পী।
 
ভোট গণনা শেষে শনিবার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ভোট গণনা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন,‘একটি করে ব্যালট পেপার বের করে দুই পক্ষের লোকদের দেখাতে হয়। ফলাফল খাতায় কী লেখা হলো, সেটা দুই পক্ষের আটজন দেখেন। আমাদের কার্যকরী পরিষদের ভোট নষ্ট হয়েছে ১০টি। অন্যদিকে সম্পাদকমণ্ডলীর ব্যালট পেপারে ভোট নষ্ট হয়েছে ২৬টি। কেন একটি ভোট বাতিল হলো, সেটা দুই পক্ষকে চার/পাঁচবার দেখানো হয়। যুক্তিতর্ক আছে। একাধিকবার হিসাব তো আছেই।’ 

তিনি আরও বলেন,‘শিল্পী সমিতির নির্বাচনে এবার মোট ভোটার ছিলেন ৪২৮ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৩৯ জন। ভোট দেওয়ার জন্য দুটি করে ব্যালট পেপার ছিল। ভোট গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন দুই পক্ষের আটজন অভিনয়শিল্পী। ‘হাতে গণনার জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লোককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও এর চেয়ে কম সময়ে ভোট গণনা সম্ভব না। আমরা ভোট দানের শেষে নিজেদের জন্য অল্প কিছু সময় নিয়েছি।’ 

পীরজাদা শহীদুল আরও বলেন,‘একটি করে ব্যালট পেপার বের করে দুই পক্ষের লোকদের দেখাতে হয়। ফলাফল খাতায় কী লেখা হলো, সেটা দুই পক্ষের আটজন দেখেন। ভোট গণনায় যেন তাড়াহুড়া না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হয়েছে। আপিল বিভাগে যেন কোনো বিতর্কের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখত হয়েছে। ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ ও মিশা-জায়েদের দুই পক্ষ ভোট গণনা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন, তারপর আমরা ঘোষণা করেছি। তুলনামূলক গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারই সবচেয়ে কম সময় লেগেছে’। 

একটা করে ভোট বলা হয়, একটা করে লেখা হয়। হিসাব করেন একটা ভোট গুনতে কত সময় লাগে। কেউ যেন প্রশ্ন তুলতে না পারেন, সে জন্য ১০০ ভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে গণনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সদস্য জাহিদ হোসেন,‘একটি করে ব্যালট পেপার বের করেছি, আমার ডানে ও বামে দুই প্যানেলের লোক থাকেন, তাঁরা প্রথমে দেখেন। পরে সেটা হাতে লেখা হয়। কী লেখা হয়েছে, সেটা দুই পক্ষ ঠিকমতো দেখে ইয়েস বলেন। আমাদের এক্সিকিউটিভ সদস্যরা দেখেন। একটা করে ভোট বলা হয়, একটা করে লেখা হয়। হিসাব করেন একটা ভোট গুনতে কত সময় লাগে। কেউ যেন প্রশ্ন তুলতে না পারেন, সে জন্য ১০০ ভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে গণনা করা হয়েছে। এটা তো হাটবাজারে টাকা গোনা না যে দ্রুত গুনে শেষ করলাম। কাজটা সঠিকভাবে সবচেয়ে কম সময়ে করেছি। কারও কোনো অভিযোগ নেই।’

এই নির্বাচনে দুই বছরমেয়াদি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জায়েদ খান। তবে এই ফলাফল মানতে নারাজ চিত্রনালিকা নিপুণ। ইতিধ্যে তিনি ভোট পুনরায় গণনার জন্য আপিল করেছেন। শনিবার দুপুরে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আপিল বোর্ড বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন নিপু।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে এফডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অভিযোগ করে নিপুণ বলেন, ‘আমাকে অসহযোগিতা করা হয়েছে। আমার ১৬টি ভোট নষ্ট হয়েছে কীভাবে? এই ভোট কাস্টিং করে দিলেই  আমি ২ ভোটে জিতে যাবো। আরেকটা কথা বলছে চাই, প্রশাসন আমাকে অসহযোগিতা করেছে। ’
 

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ঘিরে দেশের বিনোদন জগতে বিরাজ করছে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। এই নির্বাচনে সিনেমা সংশ্লিষ্ট ১৭টি সংগঠনকে এফডিসিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ কারণে সেই সংগঠনগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে নির্বাচনের প্রধান কমিশনার অভিনেতা পীরজাদা শহীদুল হারুনকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দিন এফডিসিতে চলচ্চিত্রের ১৭ সংগঠনের সদস্যদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায় লাগাতার কর্ম বিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান।

 

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) সিনেমা সংশ্লিষ্ট ১৭টি সংগঠনের পক্ষে এই ঘোষণা দেন বরেণ্য পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি। এই ঘোষণার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছে টিভি নাটকের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘও। এর ফলে সিনেমা ও নাটক সবখানেই নিষিদ্ধ হলেন এই অভিনেতা।

একুশে সংবাদ/এসএস