AB Bank
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

তিন মাস পর দেশে ফিরল প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দেওয়া রিপনের লাশ


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি,চুয়াডাঙ্গা
০৪:১৬ পিএম, ৫ এপ্রিল, ২০২৪
তিন মাস পর দেশে ফিরল প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দেওয়া রিপনের লাশ

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিন মাস পর দেশে ফিরেছে সৌ‌দি প্রবাসী চুয়াডাঙ্গার রিপন হোসেনের মরদেহ। রিপন হোসেন (২৬) জেলার জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশাদুল হকের ছেলে।

সেনেরহুদা গ্রামের ইউ‌পি সদস্য আরম‌ান আলী জানান, শুক্রবার ভোর ৪ টার দিকে রিপনের মরদেহ নিজ গ্রামে পৌছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে সকাল ৮ টায় জানাযা শেষে গ্রামের কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় রিয়াদ থেকে ছেড়ে আসা শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি ট্রানজিট (রিয়াদ-কলম্বো-ঢাকা) কার্গো ফ্লাইটে ঢাকা শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রিপনের মরদেহ পৌছায়। বিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম শেষে রিপনের মরদেহের ক‌ফিন‌টি বৃহস্প‌তিবার রাতে তার পিতা আশাদুল হকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে সৌদি প্রবাসী রিপন হোসেন আত্মহত্যা করেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে ৫ বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান রিপন। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আল কাসিম ব্রুদা শহরের একটি কৃষি খামারে কাজ করতেন তিনি। রিপন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার জিন্নানগর গ্রামের একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মোবাইল ফোনে কথা বলার এক পর্যায়ে প্রে‌মিকা মেয়ের সাথে ঝগড়া ও বাগবিতণ্ডা হয় তার। এ সময় রিপন (২৮ডিসেম্বর) প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। রিপনের বন্ধুরা কাজ শেষে ঘরে ফিরে রিপনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় লাশের পাশে থাকা মোবাইল ফোনে তারা একটি মেয়ের সাথে ভিডিও কলে কথা বলার প্রমাণ পান। কিন্তু রিপনের লিগ্যাল ডকুমেন্টস না থাকায় সৌদি সরকারি দাফতরিকভাবে মরদেহ প্রেরণের জটিলতা দেখে দেয়। 

সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী ও সৌদি প্রবাসী সাংবাদিক বশির উদ্দীনের মাধ্যমে জানা যায়, প্রবাসী রিপনের মরদেহ দেশে প্রেরণে কোন সরকারি অর্থায়ন নেই। দেশটির ভিসা নীতি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে চুক্তিবিহীন সেচ্ছায় কাজ করে বেড়াতেন তিনি। এ কারণে তার মৃত্যুতে কোম্পানী কোন প্রকার খরচ বহনে বাধ্য নন। তার লিগ্যাল ডকুমেন্টস না থাকায় তার কোন ইন্সুরেন্স কোম্পানি খরচ বহন করবে না বলেও জানান তার কোম্পানি। নিজেদের অর্থায়নে মরদেহ নিজ দেশ ফেরত নিয়ে আসতে হবে। এ অবস্থায় গত ২৯ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ দূতাবাসকে, রিয়াদের প্রথম সচিব শ্রম (স্থানীয়) স্বাক্ষরিত {স্বারক নং- ১৯.০১.৯৬৬১.৭০০.৩৩.০০১.১৭ (অংশ-০১)-৪৬২} এক চিঠিতে স্থানীয়ভাবে দাফনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জারি করা হয়। মৃতদেহের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যে কোন সময় লাশ দাফন করলে দূতাবাসের কোনো করনীয় থাকবে না। 

পরবর্তীতে জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের সন্তান সৌদি প্রবাসী রায়হানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সৌদি প্রবাসী সাংবা‌দিক বশির উদ্দীন ও ইন্ডিয়ান ভিত্তিক প্রবাসী কল্যান সংস্থার সহযোগিতায় প্রায় ১১ হাজার রিয়াল অর্থাৎ বাংলাদেশী টাকায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে তার মরদেহ পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিন মাস ৭ দিন পর দেশে ফেরে জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের সৌদি প্রবাসী যুবক রিপন হোসেনের মরদেহ।  

Link copied!