AB Bank
ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

পূর্বপুরুষের ভিটার সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাজশাহীতে এলেন অনিরুদ্ধ সান্যাল


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী
১২:০৭ পিএম, ১০ মার্চ, ২০২৪
পূর্বপুরুষের ভিটার সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাজশাহীতে এলেন অনিরুদ্ধ সান্যাল

পূর্বপুরুষের ভিটার সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাজশাহীতে এসেছিলেন বাংলার সুবিখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের বংশধর ড. অনিরুদ্ধ সান্যাল। গত সোমবার (৪ মার্চ) বিকেলে রাজশাহীতে এসেছিলেন তিনি। অনিরুদ্ধ বিখ্যাত ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞানভিত্তিক ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়’র (১৮৬১-১৯৩০) বংশধর।

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়’র ছোট ভাই অশ্বিনীকুমার মৈত্রেয়’র মেয়ে ছায়া মৈত্রেয়’র নাতি হলেন এই অনিরুদ্ধ সান্যাল (৬০)। তিনি পেশায় ব্যাংকার, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ব্যাংকে কর্মরত। চলচ্চিত্র নির্মাণ তার নেশা।

গত সোমবার (৪ মার্চ) বাবার জন্মভিটার খোঁজ পাওয়ার পর অনিরুদ্ধ সান্যাল বলছিলেন, ‘আমি ঠিক ঠিক আমার বাবার জন্মভিটায় এসেছি। আমার ভুল হয়নি। কারণ, সেই পুরোনো বাড়িটি যিনি কিনেছিলেন, সেই রজত আলী বাড়ির সামনেই ছিলেন। আমার বাবার স্মৃতিধন্য সেই বাড়িটি না থাকলেও বাড়ির মালিক ছিলেন। তিনিই নিশ্চিত করেছেন, এটি সেই জন্মভিটা। আমার বাবা ১২ বছর বয়সে শেষবারের মতো এই বাড়ি ছেড়ে যান।’

অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়’র ছেলে সুকুমার মৈত্রেয়র বাড়ি ছিল রাজশাহী নগরের খানসামার চক মহল্লায়। সেখানে এখন নতুন ভবন উঠেছে। তার নিচতলায় এখন বইয়ের দোকান ‘বাতিঘর’। গত মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে বসেই রাজশাহী নিয়ে কথার ঝাঁপি খুলে বসেছিলেন অনিরুদ্ধ সান্যাল। তিনি রাজা রামমোহন রায়, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেকের জীবনের ওপর তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। এই কাজ করতে গিয়ে তিনি তার পূর্বপুরুষের সন্ধানে নেমে পড়েন।

পূর্বপুরুষদের খোঁজার জন্য সূত্র অনুসন্ধান করে বেড়াচ্ছিলেন, এরমধ্যেই দার্জিলিংয়ের শ্রীকান্ত রায় নামের এক ব্যক্তি তাকে রাজশাহীর অক্ষয়কুমার গবেষক শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। শফিকুল ইসলাম ১০ বছর ধরে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়’র ওপর গবেষণা করছেন। তার এ বিষয়ে অন্তত ৫০টি নিবন্ধ বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ৪ মার্চ রাজশাহীতে এসে অনিরুদ্ধ তার আতিথেয়তা গ্রহণ করেন।

ওইদিন বিকেলে রাজশাহীতে হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নামেন অনিরুদ্ধ। সেখান থেকে চলে যান পৈতৃক ভিটায়। পরের দিন ৫ মার্চ (মঙ্গলবার) বিকেলে অনিরুদ্ধ এলেন বাতিঘরে। সেখানে রাজশাহীর সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তার বাবার স্মৃতিবিজড়িত রাজশাহীর বর্ণনা করলেন। তিনি বললেন, দেশভাগের সময় যারা রাজশাহী ছেড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তারা অনেকেই বলতেন ওপার বাংলায় জমিদারি ছেড়ে এসেছেন। তিনিও ভেবেছিলেন, তার পূর্বপুরুষেরাও হয়তো সে রকমই বেশি বেশি গল্প করতেন। কিন্তু রাজশাহীতে এসে তিনি তার চেয়ে বেশি পেয়েছেন। যেটা তিনি কল্পনাও করেননি। তার বাবার মামা দেব কুমার মৈত্রেয় রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন।

রাজশাহী থিয়েটার আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘৮ম অক্ষয়কুমার নাট্যোৎসব-২০২৪’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে অনিরুদ্ধ সান্যাল বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বি সাত্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার ও বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব মলয় ভৌমিক। সেখানেও অনিরুদ্ধ একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন। গত বুধবার বিকেলে অনিরুদ্ধ সান্যাল রাজশাহী থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। যাওয়ার সময় বাতিঘর থেকে কিনে নিয়ে যান অক্ষয়কুমারের লেখা বইগুলো।

 

একুশে সংবাদ/ম.দ.প্র/জাহা

 

Link copied!