AB Bank
ঢাকা রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
এমভি আব্দুল্লাহ

সমঝোতায় ঈদের আগেই উদ্ধার হচ্ছে ২৩ নাবিক!


Ekushey Sangbad
হাসান কাজল
০৫:৫২ পিএম, ৩০ মার্চ, ২০২৪
সমঝোতায় ঈদের আগেই উদ্ধার হচ্ছে ২৩ নাবিক!

২৩ নাবিক সহ উদ্ধার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। জাহাজের মালিক পক্ষের সাথে সোমালি জলদস্যুদের আলোচনা শুরু হয় ছিনতাই হওয়ার ৯ দিনের মাথায়। আলোচনার ১০ দিন পর সফলতার খবর জানিয়েছে জাহাজের মালিক পক্ষ কবির গ্রুপ। দস্যুদের সঙ্গে মুক্তিপণের বিষয় চূড়ান্ত হওয়ায় সমঝোতার খবর প্রকাশ করে কোম্পানীটি।  ঈদ-উল-ফিতরের আগেই জাহাজের নাবিকরা মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন জাহাজটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান কবির গ্রুপ।

জানা গেছে, এমভি আবদুল্লাহ’র ২৩ নাবিক যে কোনো সময় দেশে ফিরবেন। দস্যুদের সঙ্গে জাহাজ কর্তৃপক্ষের মুক্তিপণ নিয়ে সমঝোতার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। জাহাজে জিম্মি নাবিকরা সুস্থ আছেন। জিম্মিদের খাবার সঙ্কট না থাকলেও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে বলে জানা গেছে। জিম্মি হওয়ার সময় জাহাজে  নাবিকদের ২৫ দিনের খাবার ও ২০০ টন বিশুদ্ধ পানি মজুদ ছিল। নাবিকদের সঙ্গে জলদস্যুরা খাবারে ভাগ বসানোর পরও ১৯ দিন খাবার সঙ্কট না হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে, সোমালিয়ার উপকূলে ১৯দিন ধরে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজের নাবিকদের জন্য তীর থেকে দুম্বা ও ছাগল আনছে জলদস্যুরা। তাই খাবার নিয়ে খুব একটা দুশ্চিন্তা করছেন না জাহাজের নাবিকেরা। তবে জাহাজে বিশুদ্ধ পানি কমে যাওয়া নিয়ে নাবিকেরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন। জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকেরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তাঁদের বরাতে জাহাজটির মালিকপক্ষ ও নাবিকদের সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খাবারের সঙ্কট না থাকলেও বিশুদ্ধ পানি শেষ হয়ে আসায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে নাবিকরা। জানা গেছে, পান করা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল কাজে বিশুদ্ধ পানি ব্যাবহারের পাশাপাশি জাহাজ চালাতেও বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশি নাবিকরা সবাই কেবিনে আছেন, ভালো আছেন, খাবার-দাবারের কোনো সমস্যা নেই। ৩০ মার্চ রাজধানীর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সোমালি জলদস্যুদের কবল থেকে নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার ও এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজকে মুক্ত করার জন্য জলদস্যুরদের সাথে আলোচনা ও যোগাযোগ চলছে। খুব সহসাই বিষয়টি সমাধান হবে বলে আশা করি। বাংলাদেশি নাবিকরা সবাই কেবিনে আছেন, ভালো আছেন, খাবার-দাবারের কোনো সমস্যা নেই।

কবির গ্রুপের বরাতে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, দস্যুদের সঙ্গে আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ঈদের আগেই জিম্মি নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সব রকম চেষ্টা অব্যাহত আছে। তারা আরও জানিয়েছে, দস্যুদের কবল থেকে নাবিকদের মুক্ত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জিম্মিদশা থেকে মুক্তির পর ২৩ নাবিককে আকাশপথে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। জাহাজটিতে নতুন করে ২৩ জনের একটি টিমকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তারাই কয়লাভর্তি জাহাজটিকে সোমালিয়া থেকে দুবাইয়ে নিয়ে যাবেন। এরই মধ্যে ওই ২৩ জন নাবিকের নতুন টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এর আগে, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর আরব সাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছিল একই প্রতিষ্ঠানের জাহাজ “এমভি জাহান মণি”। ওই জাহাজের ২৫ বাংলাদেশি নাবিকের পাশাপাশি এক ক্যাপ্টেনের স্ত্রীসহ ২৬ জনকে ১০০ দিন জিম্মি করে রেখেছিল জলদস্যুরা। পরবর্তী সময় মুক্তিপণের বিনিময়ে জিম্মি সহ জাহাজ মুক্ত করা হয়। সেবার ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে জিম্মি নাবিকরা মুক্তি পেয়েছিল বলে জানা যায়। ওই সময় কেনিয়া হয়ে সোমালিয়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল টাকাভর্তি দুটি ব্যাগ। একটি ছোট বিমানে করে পানির খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগ দুটি পানিতে ফেলে আসা হয়। এবারও নিরাপদে টাকা পৌছে দেয়ার পদ্ধতি নির্ধারণে আলোচনা চলছে।

এসআর শিপিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা আছে। গত ৪ মার্চ আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের মাপুটো বন্দর থেকে এসব কয়লা নিয়ে যাত্রা শুরু করে জাহাজটি। ১৯ মার্চ সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। এর মধ্যে ১২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে ভারত মহাসাগরের জলদস্যুর কবলে পড়ে জাহাজটি। ভাড়ার বিনিময়ে মোজাম্বিক থেকে দুবাইয়ের আমদানিকারকের কাছে কয়লা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর।

এই প্রতিষ্ঠানটির অধীনে মোট ২৪টি জাহাজের মধ্যে সর্বশেষ যুক্ত হয় এমভি আবদুল্লাহ। ২০১৬ সালে তৈরি এই বাল্ক ক্যারিয়ারটির দৈর্ঘ্য ১৮৯ দশমিক ৯৩ মিটার এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২৬ মিটার। ড্রাফট ১১ মিটারের কিছু বেশি। গত বছর জাহাজটি এসআর শিপিং কিনে নেওয়ার আগে এটির নাম ছিল “গোল্ডেন হক”। মালিকানা পরিবর্তনের পর জাহাজের নামও পরিবর্তন করা হয়।

এমভি আব্দুল্লাহ উদ্ধারে সফল আলোচনা বিদ্যমান থাকার সময় আরব সাগরে জলদস্যুর কবলে পড়া একটি ইরানি মাছ ধরা নৌযানে অভিযান চালিয়ে ২৩ পাকিস্তানি নাগরিককে উদ্ধার করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী। আল কামবার-৭৮৬ নামের ওই নৌযানটি জলদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার করতে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। খবর এনডিটিভির।

এক বিবৃতিতে ভারতীয় নৌবাহিনী জানায়, ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় মাছ ধরা নৌযানটি জলদস্যুদের কবলে পড়ার সংবাদ আসে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে। সঙ্গে সঙ্গেই আরব সাগরে মোতায়েন দুটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ অপহৃত জাহাজটি উদ্ধারে রওনা হয়ে যায়।

এরপর প্রায় ১২ ঘণ্টা জলদস্যুদের সঙ্গে কৌশলগত জবরদস্তিমূলক তৎপরতার মাধ্যমে ওই মাছ ধরা জাহাজটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়। এরপর নিরাপদে উদ্ধার করা হয় জাহাজের ক্রুদের, যাদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের ২৩ জন নাগরিক। পরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্যরা পুরো জাহাজটিকে জীবাণুমুক্ত করে এর সাগরে অভিযানের সম্ভাব্যতা নির্ণয় করে জানায়, এটি সাগরে যাত্রা করতে পারবে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্যরা আল কামবার-৭৮৬ এর কাছ থেকে বার্তা পেয়ে ২৯ মার্চ এর গতিপথ আগলে দাঁড়ায়। এই কাজে নৌবাহিনীর জাহাজ আইএনএস সুমেধাকে সহায়তা করে গাইডেড মিসাইলবাহী ফ্রিগেট আইএনএস ত্রিশূল।

মাছ ধরা জাহাজটি এ সময় ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ইয়েমেনের দ্বীপ সোকোত্রা থেকে ৯০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। এ সময় ওই জাহাজটিতে ৯ জন জলদস্যু ছিল বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।


একুশে সংবাদ/ন.প্র/জাহা
 

Link copied!