শুধু ধূমপান বা সিগারেট সেবনই ক্যানসারের একমাত্র কারণ নয়; কিছু প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্সও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে শিশুদের জনপ্রিয় খাবার যেমন পপকর্ন, নাচোস, চিপস, নাগেটসসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্স নিয়ে গবেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রক্রিয়াজাত মাংস দিয়ে তৈরি স্ন্যাক্সের পাশাপাশি কিছু ধরনের পপকর্ন, কর্ন চিপস, টরটিলা চিপস এবং ওটস বা গম থেকে তৈরি প্রক্রিয়াজাত খাবারে ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে। এ কারণে এসব খাবার নিয়মিত ও অতিরিক্ত খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির রাটগার্স স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এ বিষয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৩ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর গবেষণা চালিয়ে তাঁদের প্রস্রাবের নমুনায় এক ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক শনাক্ত করা হয়, যা ভুট্টাজাত কিছু প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাক্সের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষকদের মতে, এই রাসায়নিক গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরবর্তীতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা করে তারা একই ধরনের ফলাফল পেয়েছেন।
গবেষণায় আলোচিত বিষাক্ত উপাদানটির নাম মাইকোটক্সিন। এটি নির্দিষ্ট কিছু ছত্রাক থেকে উৎপন্ন হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, শস্যদানা, বাদাম, শুকনো ফল এবং কফি বিনের মতো খাদ্যপণ্যে এ ধরনের ছত্রাক জন্মাতে পারে। এসব উপাদান প্রক্রিয়াজাত করে স্ন্যাক্স তৈরির সময় ছত্রাক ধ্বংস হয়ে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে মাইকোটক্সিন থেকে যেতে পারে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, উচ্চ তাপেও এই মাইকোটক্সিন নষ্ট হয় না। ফলে পপকর্ন প্রক্রিয়াজাতকরণ বা ভাজার পরেও তা থেকে যায়, যা অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশুদের শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
তবে শুধু ভুট্টাজাত স্ন্যাক্সই নয়; সসেজ, বেকন, নাগেটস, যেকোনো ধরনের হিমায়িত (ফ্রোজেন) খাবার এবং ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল থেকেও শিশুদের শরীরে বিষাক্ত টক্সিন প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি প্যাকেটজাত ডোনাট ও কিছু কুকিও এই ক্ষতিকর তালিকার অন্তর্ভুক্ত। তাই সার্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

