AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

উত্তরাঞ্চলে বন্যার পদধ্বনি


Ekushey Sangbad
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১১:৫২ পিএম, ২৪ জুন, ২০২৬

উত্তরাঞ্চলে বন্যার পদধ্বনি

ফুঁসছে তিস্তা-যমুনা। উজানের ঢল আর টানা বৃষ্টিতে দেশের উত্তরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। একই সঙ্গে নদীভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। ভাঙনের মুখে হারিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপারের মানুষের। বগুড়ার সারিয়াকান্দিসহ যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে প্রায় ৫০ মিটার এলাকা যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে।

 অনেক স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, সেতু ও মসজিদ এখন নদীর খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। যেকোনো মুহূর্তে এসব স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেতুরক্ষা বাঁধেও ভাঙন দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। নদীপারের মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুম আতঙ্কে। কখন ভাঙনের থাবা এসে শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয়, সেই শঙ্কায় দিন গুনছেন তারা।

এদিকে বাংলাদেশের উজানে ভারতের মেঘালয়, সিকিম ও আসামের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল নেমে এসেছে। এর প্রভাবে রংপুর অঞ্চল, সুনামগঞ্জ-সিলেট ও আশপাশের হাওর এলাকা, তিস্তা ও যমুনা তীরবর্তী চরাঞ্চল এবং বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। অনেক জায়গায় ইতোমধ্যে প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিন উজান ও স্থানীয়ভাবে আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিকভাবে পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, নদীর পানি আরও বাড়লে তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় বন্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিস্তার তীরবর্তী উত্তর গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক মোন্তাজুর রহমান জানান, পানি বাড়তে থাকায় এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তার ভাষায়, এভাবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। নদীপারের মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। যদিও বর্তমানে সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবুও তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে বন্যার আশঙ্কা বাড়ছে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার নিচে এবং ব্রহ্মপুত্র নদ নুনখাওয়া পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৬৬ মিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদের পানিও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নদীর পানি বাড়ায় তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু জমিগুলো ইতোমধ্যে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে ফসলহানির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উলিপুর উপজেলার চর জুয়ান সতরা এলাকার কৃষক আবদুস ছালাম জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে নিচু জমি ডুবে যাচ্ছে, ফলে মরিচ ও পটোলখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজারহাট উপজেলার চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, বাদামখেত তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি আগেভাগেই বাদাম তুলে নিয়েছেন। তবে পাটখেতসহ অন্যান্য সবজিখেতে ইতোমধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার সব নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তিস্তার পানি আরও বাড়লে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। উত্তরাঞ্চলের মানুষ এখন প্রকৃতির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে। নদীভাঙন, ফসলহানি ও সম্ভাব্য বন্যার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন এসব মানুষের একটাই প্রত্যাশা প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন আর বড় কোনো বিপর্যয় ডেকে না আনে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!