"দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের যে ক্ষোভ জমেছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। এর নেতৃত্বে ছিল আমাদের শিক্ষার্থীরা; আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি মাত্র।"— এমন মন্তব্য করেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের ১২তম তলার সেমিনার কক্ষে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য আরও বলেন, “১৬ বছর আমরা কোনো ভোর দেখিনি, গণতন্ত্র ছিল না, আমরা কথা বলতে পারতাম না। আমি দেশের কল্যাণে, মানুষের উন্নয়নে সবকিছু করতে রাজি আছি, কিন্তু স্বৈরাচার হতে রাজি নই। জুলাই আন্দোলন শুধু স্বৈরাচারের পতন ঘটায়নি, নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথও দেখিয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা যেন দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে না যায়—সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার রক্ত, ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে; এটি কেউ আমাদের ভিক্ষা দেয়নি। ৩৬ দিনের আন্দোলন ৩৬ বছরের ইতিহাস রচনা করেছে। আজ আমরা যে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি, স্বপ্ন দেখতে পারছি, তা অসংখ্য শহীদ ও আহত মানুষের ত্যাগের ফল।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না; এতে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্র-তরুণরা, আর তাদের সঙ্গে ছিল সর্বস্তরের মানুষ। আমরা এমন উন্নয়ন চাই, যা মানুষের অধিকার ও সহনশীলতার কথা বলে। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সমালোচনার সংস্কৃতি বজায় রাখতে হবে। জেন-জি প্রজন্মই ভয় ভেঙে নতুন আশার সূচনা করেছে, সেই চেতনাও তাদেরই ধরে রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজিই বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মহিউদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে টাঙ্গাইলের শহীদ আহনাফের পরিবারের সদস্যরা।
আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। পরে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এবং সম্প্রতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান মনিরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের, শহীদ আহনাফের মাকে এবং অন্যান্য সম্মানিত অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

