টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিতে কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়া এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে সবজি, মাছ ও ডিমের বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে ভোজ্যতেল, চিনি, মসলাসহ বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার ও বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টিতে কৃষকদের অনেক ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অনেক বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন।
বর্তমানে খুচরা বাজারে কাঁকরোল কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকা, পটল ৬০-৮০ টাকা, কচুরমুখী ৬০-৮০ টাকা, বরবটি ৬০-৮০ টাকা, বেগুন ৬০-৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০-১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, সজনে ১৬০-২০০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, লাল আলু ৩০ টাকা, দেশি আলু ৮০-১০০ টাকা, টমেটো ১৬০-১৮০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাল শাক প্রতি আঁটি ৩০ টাকা, লাউশাক ৪০ টাকা, কলমিশাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের সবজি বিক্রেতা কাওসার বলেন, “সবজির দাম এখন প্রতিদিনই পরিবর্তন হচ্ছে। কৃষকের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বাজারও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
মসলার বাজারে দেশি রসুন ৮০-১১০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০-১৮০ টাকা, চায়না আদা ১৮০-২০০ টাকা এবং ভারতীয় আদা ১৬০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। সোনালি কক মুরগি ৩৫০ টাকা, লাল লেয়ার ২৭০-২৯০ টাকা, ব্রয়লার ১৭০-১৮০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে ডিমের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে লাল ডিম ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতা মোহাম্মদ জামশেদ বলেন, “খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হয়েছে।”
মাছের বাজারেও কয়েকটি প্রজাতির মাছের দাম চড়া। চিংড়ি ৬০০-৮০০ টাকা, পাবদা ৩০০-৪০০ টাকা, বড় রুই ৪০০-৪৫০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০-৮০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০-২৩๐ টাকা, পাঙাশ ২০০-২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, ফার্মের কৈ ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের দামও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
সাধারণ ক্রেতা ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহে কিছুটা প্রভাব পড়লেও যেভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে, তা যৌক্তিক নয়। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ও কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আবহাওয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

