সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

কুড়িগ্রামে সবজি চাষে লোকসানের মুখে কৃষকরা

একুশে সংবাদ প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শীতকালিন সবজি চাষে করে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। লাভের আশায় চাষ করা সবজিতে এখন উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না তারা। সবজির বাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করায় সবজি এখন কৃষকের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাভের বদলে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, কয়েক দফা বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারণে সবজি চাষে যে ক্ষতি হয়েছিল সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা চলতি মৌসুমে ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে শীতকালিন সবজি চাষ এবং ৪৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেন।


সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ করে সবজির দর কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারবেন না বলে অনেকের অভিযোগ। একদিকে নির্দিষ্ট সময় পরে সবজি ক্ষেতে রাখা যায় না, অপরদিকে পঁচনশীল পণ্য হওয়ায় কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে তাদের। ফলে লোকসানের মুখে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সব চাইতে বড় বাজার ভূরুঙ্গামারী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু, বেগুন ও শিমসহ বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ সবজি বাজারে নিয়ে এসেছেন। 

বেগুনের কেজি ৫ থেকে ৮ টাকা, শিম ১৫ টাকা, ফুলকপি-বাঁধাকপি ২-৩ টাকা পিচ, ধনেপাতা ১০ থেকে ১৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা, গাজর ১৫ টাকা, টমেটো ১৫ টাকা, আলু ১৫ টাকা, পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকা, মুলা ২কেজি ৫ টাকা, মিষ্টি লাউ ১টি ২০টাকা, অন্যান্য শাক ৩ আঁটি ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি আবাদ করেছিলাম। এ জন্য ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদন ভালো হয়েছে কিন্তু বাজারে প্রতি পিচ কপি বিক্রি করতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ টাকায়। এতে শ্রমিকের মজুরিও উঠছে না।


আরেক কৃষক জয়নাল মিয়া বলেন, দেড় বিঘা জমিতে আলু আবাদ করছি। ফলন খুব ভালোই হইছে। কিন্তু প্রতি কেজি আলু ১০ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে লাভ তো দুরে থাক উৎপাদন খরচও উঠবে না।


বাজারের কাচামাল ব্যবসায়ী আনোয়ার বলেন, আড়ত থেকে প্রতি পিচ কপি ৩ টাকায় কিনে ৫ টাকায় ও প্রতি কেজি আলু ১২ টাকায় কিনে ১৫ টাকায় বিক্রি করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এবার আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় শীতকালিন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে সব সবজি বাজারে ওঠায় হয়তো সবজির দাম একটু কম পাচ্ছেন কৃষকরা।

একুশে সংবাদ/সা.আ/এস
 

কৃষি বিভাগের আরো খবর