সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

মমতাজ উদ্দিন একুশে পদক পাওয়ায় লালপুরবাসির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

একুশে সংবাদ প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

লালপুরের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নাটোর -১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাবেক সাংসদ শহীদ মমতাজ উদ্দিন একুশে পদক পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি লালপুরবাসির ও বিভিন্ন সংগঠনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

 

রোববার (১২ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ (মরণোত্তর) পদক ঘোষনা করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। উপসচিব বাবুল মিয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও দুইটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক প্রদানের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মমতাজ উদ্দিনের সন্তান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ সাগর ও তার পরিবার আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন, এ স্বীকৃতি প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। তাঁর মা সাবেক সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য শেফালী মমতাজের সাথে তিনি পদক গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে নাটোর -১ আসনের সাংসদ শহিদুল ইসলাম বকুল, শহীদ মমতাজ উদ্দিনের ভাই ও সাবেক সাংসদ আবুল কালাম আজাদ, লালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু, সহ-সভাপতি আসম মাহামুদুল হক মুকুল, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন লালপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর এর লালপুর প্রতিনিধি প্রভাষক মোঃ সাহীন ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন, লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাব এর সভাপতি আবদুল মোতালেব রায়হান, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা লালপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রশিদ মাষ্টার, সাধারণ সম্পাদক ফারহানুর রহমান রবিন, মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম সেলিম সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আওয়ামিলীগ ও অংঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী প্রমূখ।

 

নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর মিল্কিপাড়া গ্রামে ১৯৪৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন জনপ্রিয় নেতা মমতাজ উদ্দিন। পিতা বিয়াকুল প্রামানিক ও মাতা আবেজান বেওয়া। স্ত্রী শেফালী মমতাজ (২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত সাবেক নারী সংসদ সদস্য মনোনীত হন)। তাঁদের সন্তান শামীম আহমেদ সাগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়ে  ফারহানা ববি নিভা, সহকারী রেজিস্ট্রার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

 

মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ (মরণোত্তর) একুশে পদক-২০২৩-এ ভূষিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন।

তিনি করিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অস্টম শ্রেণি, চকনাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে এসএসসি, নাটোর নবাব সিরাজ উদ দৌলা কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে এইচএসসি এবং ঈশ্বরদী কলেজ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক পাশ করেন।

 

তিনি লালপুর উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট (মুজিব বাহিনী)-এর কমান্ডার ছিলেন।

১৯৭৭-১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি সালামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

 

১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পরাজিত হন।  নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মমতাজ উদ্দিন (লালপুর) রিকসা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

 

তিনি ১৯৮৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সম্মেলনে লালপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নাটোর জেলা শাখা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ফজলুর রহমান পটলের নিকট পরাজিত হন।

 

২০০৩ সালের ৬ জুন রাত ১০টার সময় মমতাজ উদ্দিনকে নাটোরের গোপালপুর-আব্দুলপুর সড়কের দাঁইড়পাড়া নামক স্থানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাঁকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

 

একুশে সংবাদ.কম/এ.ই/বি.এস

সারাবাংলা বিভাগের আরো খবর