AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

নয়নাভিরাম দুর্গম রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক


Ekushey Sangbad
পর্যটন ডেস্ক
০৮:৩৭ পিএম, ২ এপ্রিল, ২০২৬

নয়নাভিরাম দুর্গম   রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়ক হলো বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, যা রাজস্থলী উপজেলা থেকে ফারুয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।

বাংলাদেশে বসেই যদি আপনি লাদাখের মতো রোমাঞ্চকর বাইকিং অনুভূতি পেতে চান তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে রাজস্থলী–ফারুয়া (Rajasthali-Farua Border Road) সীমান্ত সড়ক।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা এই নতুন রাস্তাটি এখনো অনেকটাই অফবিট, রহস্যময় এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য একদম পারফেক্ট। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ, গভীর খাদ, সবুজে মোড়া উপত্যকা আর নিস্তব্ধতা সব মিলিয়ে এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর রোড ট্রিপ রুট।

আঁকাবাঁকা এই রাস্তাটি পাহাড়ের বুক চিরে সাপের মতো নিচে নেমে গেছে, আবার কোথাও খাড়া ঢাল বেয়ে উঠে গেছে আকাশের পানে। এই পথের বিশেষ আকর্ষণ হলো এর জিগজ্যাগ রোড বা জেড (Z) ক্যাটাগরির রাস্তা, যা সাধারণত হিমালয়ের দুর্গম গিরিপথগুলোতে দেখা যায়।

দুই পাশে কাটা পাহাড় আর গভীর খাদ নিয়ে এই রাস্তাটি যেমন সুন্দর, তেমনি রোমাঞ্চকর। বসন্তের শুষ্ক সময়েও পাহাড়ের এই রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবে, আর বর্ষায় এর সজীবতা যেন অন্য মাত্রা পায়। যারা যান্ত্রিক শহরের কোলাহল ছেড়ে নির্জন পাহাড় আর মেঘের মিতালি দেখতে চান, তাদের জন্য এই রুটটি হতে পারে সেরা গন্তব্য।

রাজস্থলী-ফারুয়া সীমান্ত সড়কের দর্শনীয় স্থানসমূহ
জিগজ্যাগ রোড: লাদাখের পাসের মতো আঁকাবাঁকা এই রাস্তাটি সড়কের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ।
সায়চল ভিউ পয়েন্ট: ছবি তুলার জন্য সুন্দর জায়গা। এখান থেকে পাহাড়ের সারির এক অসাধারণ প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়।
ফারুয়া বাজার: স্থানীয় পাহাড়ি জীবন ও সংস্কৃতির স্বাদ নিতে এই বাজারটি সবার পছন্দ।
আরাছড়া ও গবাছড়া: দেখতে পাবেন সড়কের পাশের ছোট ছোট পাহাড়ি জনপদ ও ঝরনাধারা।
সীমান্ত পয়েন্ট: সেনাবাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাছাকাছি পর্যন্ত যাওয়া যায়।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে রাজস্থলী–ফারুয়া যাওয়ার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো নিজস্ব বাইক বা গাড়ি, কারণ এতে পুরো রুটের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। তবে চাইলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রথমে ঢাকা থেকে বাসে করে বান্দরবান শহরে পৌঁছাতে হবে। এরপর বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাঙ্গাল হালিয়া বাজারে যেতে হবে, যা মূলত রাজস্থলী যাওয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এই পথ অতিক্রম করতে সাধারণত প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগে এবং রাস্তার আঁকাবাঁকা অংশগুলো বাইক রাইডিং বা কর্নারিংয়ের জন্য বেশ উপভোগ্য।

বাঙ্গাল হালিয়া বাজার থেকে ডানদিকে মোড় নিয়ে পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগোলে ২০–২৫ মিনিটের মধ্যেই রাজস্থলী পৌঁছানো যায়। এরপর রাজস্থলী বাজার পার হওয়ার পর ফারুয়া ও সাইচল ভিউ পয়েন্টের দিকে যেতে হলে আর্মি চেকপোস্ট থেকে অনুমতি নিতে হয়। রাজস্থলী থেকে সাইচল ভিউ পয়েন্টের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার, আর এই অংশটাই পুরো ট্রিপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও সুন্দর অংশ হিসেবে বিবেচিত।

নিরাপত্তাজনিত কারণে রাজস্থলী থেকে ফারুয়ার দিকে যাওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর অনুমতি প্রয়োজন হয়। অনেক সময় সাধারণ পর্যটকদের জন্য এই রুট সাময়িকভাবে বন্ধও থাকতে পারে। তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে যাবেন।


কোথায় থাকবেন
রাজস্থলী বা ফারুয়া অঞ্চলে থাকার মতো উন্নত মানের হোটেল বা রিসোর্ট এখনো গড়ে ওঠেনি। তাই সবচেয়ে ভালো অপশন হলো বান্দরবান শহরে থাকা। প্রিমিয়াম অভিজ্ঞাতা পেতে চাইলে নীলগিরি বা নীলাচল রোডে অবস্থিত এই রিসোর্টগুলোতে থাকতে পারেন। এছারা শহরের ভেতর বিভিন্ন মানের হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে আপনার বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী রুম পেয়ে যাবেন।

কোথায় খাবেন
বান্দরবান শহর খাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা কারণ এখানে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি সাধারণ প্রায় সব ধরনের খাবারই পাওয়া যায়। এছারা যাত্রা পথে বাঙ্গাল হালিয়া বাজার একটি ভালো অপশন। আপনি চাইলে এখানে দুপুরের খাবার সেরে নিতে পারেন। আর পাহাড়ি এলাকার একদম শেষ প্রান্তে অবস্থিত ফারুয়া বাজারে ছোট ভাতের হোটেল থাকলেও রাজস্থলী পার হওয়ার পর খাবারের দোকান পাওয়া যাবে না। তাই এই রুটে ভ্রমণের সময় সাথে শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি রাখুন।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!