AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বাজারে নকল স্যালাইন, ব্যবহারে হতে পারে মৃত্যু


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
১২:০৩ পিএম, ১৬ আগস্ট, ২০২৩
বাজারে নকল স্যালাইন, ব্যবহারে হতে পারে মৃত্যু

চিকিৎসার জন্য শিরাপথে দেয়া সঙ্গে সেলাইন ও খাওয়ার স্যালাইন অপরিহার্য। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু লোক বাজারে ছাড়ছে ভেজাল খাওয়ার স্যালাইন। তারা রীতিমতো কারখানা খুলে বসেছে। লবণ ভেজে তার সঙ্গে গ্লুকোজ মিশিয়ে এমনভাবে প্যাকেট করা হচ্ছে, যা মানুষের পক্ষে ধরা কঠিন। ভেজাল স্যালাইনের প্যাকেটও তৈরি হচ্ছে নামিদামি প্লাস্টিক প্রতিষ্ঠানের কারখানায়। আর কাঁচামাল সংগ্রহ করা হচ্ছে মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকা থেকে।

 

রাজধানীর চকবাজার থানাধীন মৌলভীবাজারে ৭৭/৭ ভবনের ছাদে গড়ে ওঠে এমনই এক কারখানা। টিন দিয়ে নির্মাণ তিনটি রুমে এসএমসির নকল ওরস্যালাইন তৈরি করে আসছিল মো. দুলাল নামে এক ব্যক্তি। আট মাস সেখানে বিপুল পরিমাণ নকল স্যালাইন তৈরি হয়েছে। গত ১৩ আগস্ট  রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ (ডিবি) ক্রেতা সেজে হানা দেয় ওই কারখানায়। আটক করা হয় তিনজনকে। 

 

তাদের দেওয়া তথ্যমতে পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে আরও দুজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন মো. মিষ্টার আলী (৩২), মো. লাব্বী হাসান বিজয় (১৯), মো. সিদ্দিক খান (৫০), মো. ছায়েম ভূঁইয়া (৩২) ও মো. ইয়াদুল সর্দার (৩২)। পরে ডিএমপির চকবাজার মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে ডিবি। মামলায় আরও আসামি করা হয় ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. দুলাল, মো. কালাম, কাইয়ুম, সায়েম ও নুর মোহাম্মদকে।

 

চকবাজারের ওই ভবনের দারোয়ান মো. মনির হোসেন বলেন, ‘আট মাস আগে গুল ও কয়েল বানানোর কথা বলে বাসাভাড়া নেয় তারা। ছয় থেকে সাতজন থাকত। কারখানার মালামাল মাথায় করে লেবার দিয়ে বের করত। সেখানে কী বানাত তা আমার জানা ছিল না।

 

চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরের তরল পদার্থ সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের লবণের ভারসাম্য রাখার জন্য মানুষ স্যালাইন খায়, কিন্তু নকল স্যালাইনগুলো খেলে সেই ভারসাম্য থাকবে না। অর্থাৎ রোগী মনে করছে সে ওষুধ খাচ্ছে কিন্তু ওষুধ না খেয়ে সে একটা অপ ওষুধ খাচ্ছে।

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘এমনিতেই ডেঙ্গুর সময়ে শরীরে তরল পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং সোডিয়াম পটাশিয়াম লবণ কমবেশি হয়ে যায়, এতে কিডনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

তিনি বলেন, ‘ভেজাল স্যালাইনে কিডনি, লিভার, পাকস্থলী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সুস্থতার পরিবর্তে রোগীকে অধিকতর অসুস্থতা এবং চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে।’

 

এদিকে ডিবির অভিযান-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ভবনটির ছাদ থেকে মিষ্টার আলী, লাব্বী হাসান বিজয় ও সিদ্দিক খানকে আটক করা হয়। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কারখানার মালিক মো. দুলাল। তবে তার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। সেখান থেকে জব্দ করা হয় ১০ কার্টুন ভেজাল ওরস্যালাইন-এন (পাঁচ হাজার প্যাকেট), ভেজাল স্যালাইন তৈরির কাঁচামাল দুই বস্তা গ্লুকোজ (৫০ কেজি) ও ১০ কেজি লবণ।

 

আটককৃতরা জানান, তারা এসএমসির নকল ওরস্যালাইন-এনের কাঁচামাল মিটফোর্ড এলাকার বিভিন্ন দোকান থেকে কেনে এবং নকল ওরস্যালাইন-এনের ফয়েল পেপার নারায়ণগঞ্জের সানারপাড় এলাকার বিডি প্লাস্টিক লিমিটেড থেকে আনে। পরে বিডি প্লাস্টিকের কারখানায় অভিযান চালিয়ে ম্যানেজার মো. ছায়েম ভূঁইয়া ও অপারেটর ইয়াদুল সর্দারকে আটক করে ডিবি। কারখানাটি থেকে ৭২০ কেজি এসএমসির ওরস্যালাইন-এনের ফয়েল পেপার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওই মালামাল তৈরির বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

 

তারা জানান, ওই কারখানার মালিক মো. কালাম, কাইয়ুম, সায়েম ও নুর মোহাম্মদের নির্দেশে তারা ওই মালামাল তৈরি করে থাকেন।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশী বলেন, ভেজাল স্যালাইন তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়ার পর ডিবি ক্রেতা সেজে অর্ডার দেয়। পরে কারখানায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করে। নকল এসএমসির স্যালাইন তৈরি করে বিক্রি করছেন। এই ফ্যাক্টরির সঙ্গে আর কারা জড়িত, কারা এসব নকল স্যালাইন কিনে বাজারজাত করছে সব বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

 

মোহাম্মদ হারুন অর রশী বলেন, এসব নকল-ভেজাল স্যালাইনের প্যাকেটে খোদাই করা কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ নেই এবং বিএসটিআইয়ের কোনো সিল নেই। সবাইকে অনুরোধ করব, সবাই যেন স্যালাইন কেনার সময় অবশ্যই খোদাই করা মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ও বিএসটিআইয়ের অনুমোদনের সিল দেখে ক্রয় করুন।

 

একুশে সংবাদ/এসএপি

Link copied!