AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, ভয়ঙ্কর হচ্ছে পরিস্থিতি


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
০৬:৫৮ পিএম, ৬ আগস্ট, ২০২৩
বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, ভয়ঙ্কর হচ্ছে পরিস্থিতি

সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৬ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৩১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রেকর্ডসংখ্যক মৃত্যু হয়েছে। এডিস মশাবাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এত মৃত্যু আর কখনো হয়নি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চাপে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নেয় ২০১৯ সাল থেকে। তবে এ বছর এখন পর্যন্ত ভয়াবহতায় আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তারপরও ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ কিংবা প্রচারে খুবটা একটা গরজ নেই স্বাস্থ্য বিভাগের। তাদের ধারণা, স্বাস্থ্য অধিদফতর ডেঙ্গুর যে হিসাব দিচ্ছে তার বাইরেও হাজার হাজার ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। ফলে ডেঙ্গু রোগীর সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

 

চলতি আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ডেঙ্গুর এই ভয়াবহতার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তারা বলছেন, এডিস মশা নির্মূল ও রোগী ব্যবস্থাপনায় জনস্বাস্থ্যের পরামর্শ উপেক্ষিত হচ্ছে। শুরু থেকেই রয়েছে সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি।

 

ডেঙ্গু নিয়ে সামনে আরেকটা বড় দুর্যোগ অপেক্ষা করছে বলে জানিয়ে তারা বলেন, আগে এই রোগটিকে শহুরে রোগ বলা হলেও পরিসংখ্যান বলছে রোগী বাড়ছে রাজধানী ঢাকার বাইরেও।

 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মেডিসিনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, চলতি বছর আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে হিসাব আসছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। অনেকের ঘরেই জ্বরের রোগী আছে, চিকিৎসা নিচ্ছে না। ঘরে থেকেই ভালো হয়ে যাচ্ছে। সেগুলোতো রিপোর্টে আসে না। এভাবে যদি বাড়তে থাকে অবস্থা আগামী এক থেকে দুই মাসে আরও খারাপের দিকে যাবে। যত আক্রান্ত হবে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে।

 

ডেঙ্গু রোগীর জন্য রক্তের তেমন দরকার নেই জানিয়ে এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু হলে আবার অনেক রক্ত দেয়ার জন্য অস্থির হয়ে যায়। তবে রক্ত দেওয়ার দরকার নেই ডেঙ্গু মশার জন্য। রক্ত তখনই লাগে যখন রোগীর রক্তপাত হয়। সেখানে চিকিৎসক চাইলে রক্ত দিতে পারে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে খুব বেশি প্লাটিলেট প্রয়োজন হয় না। যারা মারা যায় তারা প্লাটিলেট কমের জন্য মারা যায় না। অনেক মারা যায় প্লাজমা লিকেজের ফলে। শরীর থেকে লিক্যুইড চলে যায়। যেমন প্রেসার কমে যায়, প্রস্রাব হয় না, কিডনি ফেইলিউর, লিভার ফেইলিউর শকে চলে যায়।

 

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, এ বছর ডেঙ্গুর যে প্রকার দেখা যাচ্ছে, সেগুলো সেকেন্ডারি ফর্মের। অর্থাৎ আগে যিনি ডেঙ্গুর অন্য কোনো উপধরণ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি এখন আরেকটি ধরণ বা উপধরণ দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন। দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার যখন কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় তখন মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এবারে তাই হচ্ছে।

 

জুলাই মাসের ৩১ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজার ৮৫৪ জন রোগী, মৃত্যু হয়েছে ২০৪ জনের। এক মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই সংখ্যা এ বছরের মোট সংখ্যার তিন চতুর্থাংশ।

 

আর আগস্টের প্রথম চার দিনে ১১ হাজার ৩৯৮ জন রোগী ভর্তি হয় হাসপাতালে। মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।

 

এছাড়া জানুয়ারিতে ৫৬৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬৬ জন, মার্চে ১১১ জন, এপ্রিলে ১৪৩ জন, মে মাসে এক হাজার ৩৬ জন এবং জুনে ৫ হাজার ৯৫৬ রোগী ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।

 

তাদের মধ্যে জানুয়ারিতে ছয়জন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন, এপ্রিলে দুজন এবং মে মাসে দুজন এবং জুনে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, মশা মারতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। মশা নিধনে গতানুগতিক কাজ করা হচ্ছে। এতে মশা নিধন হবে না। কন্ট্রোল রুম রাখতে হবে। তিনি বলেন, মশা মারা ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা দুটিই আমাদের জানা আছে। হাসপাতালগুলোতে মশারির নেট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মশা মারতে না পারলে অচিরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক বলেন, এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। এই মশা চিহ্নিত। কার্যকরভাবে মশা না মারার কারণে একদিনে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, অন্যদিকে বাড়তি চাপ পড়ছে চিকিৎসকদের উপরে। ইতিমধ্যে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তারপরও ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা বিরামহীনভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ডাক্তারদের বিশ্রাম নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

 

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, সকল মসজিদের ইমামরা যেন প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজের খুতবার সময় মশা মারার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করেন। গত শুক্রবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

নিপসনের কীটতত্ত্ববিদ ড. গোলাম ছরোয়ার বলেন, আসলে মূল জায়গায় আঘাত করতে হবে। অর্থাৎ মশা মারতে হবে। যে পরিমাণ ওষুধ দিয়ে মশা মারা প্রয়োজন তা করা হচ্ছে না। এডিস মশার লার্ভাও ধ্বংস করা হচ্ছে না। এ কারণে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। মশা মারার কার্যক্রমে পুরো কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

 

একুশে সংবাদ/স.হ.প্র/জাহা

Link copied!