AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি: চাপ সামলাতে সংসার খরচে কাটছাঁট


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
১২:৫৩ পিএম, ৩০ জুলাই, ২০২৩
নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি: চাপ সামলাতে সংসার খরচে কাটছাঁট

‘সাত জনের সংসারে মাসে সয়াবিন তেল লাগত ছয় থেকে সাত লিটার। সেটা কমিয়ে সাড়ে ৩ লিটারে এনেছি। আদা, পেঁয়াজ, রসুন সবকিছুই দামের কারণে রান্নায় ব্যবহার কমানোর পরও মাসের হিসাব মিলছে না। এভাবে চলতে থাকলে বেঁচে থাকাটা আরো কষ্টকর হবে। ’

 

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর বংশালের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। রোববার (৩০ জুলাই) রাজধানীর গুলিস্তানের কাপ্তান বাজারে কথা হয় তার সঙ্গে। 

 

তিনি বলেন, বাবার দেওয়া দুটি ফ্ল্যাটের( দুই রুমের) একটিতে নিজে থাকি এবং আরেকটি ভাড়া দিয়েই সংসার চলে আমার। ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ, বাড়ির পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের বিল পরিশোধের পর যে টাকা অবশিষ্ট থাকত, তা দিয়ে ভালোই চলছিল। তবে নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় কাটছাঁট করেও হিসাব মেলে না। বাজারে একবার পণ্যের দাম বেড়ে গেলে আর কমেনা। এটাই বাংলাদেশ। 

 

সিক্কাটুলির বাসন্দিা মো.বোরহান মিয়া বলেন,পণ্যের দাম কয়েক দফায় বাড়ার পর বাজারে তদারকি শুরু হয়। তদারকির পরও বাড়তি দামেই বাজার স্থিতিশীল হচ্ছে। একেক সময় একেক পণ্যের দাম নিয়ে খেলছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সরবরাহের দোহাই দিয়ে একেকটি পণ্যের দাম বাড়িয়ে সপ্তাহ ব্যবধানে বাজার থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে শত শত কোটি টাকা। আর আমরা ভোক্তারা অসহায় হয়ে সয়ে যাচ্ছি, সরকারের দুর্বলতার কারণে এমনটি হচ্ছে। পেঁয়াজ, মরিচ, আলু, আদা, রসুন, তেল, ডাল, চাল থেকে শুরু করে সব পণ্যই সরবরাহের দোহাই দেখিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। তারা এতটাই শক্তিশালী যে, সরকারও অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে। এই পরিস্থিতি থেকে লোকজনকে করতে না পারলে সব উন্নয়ন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। 

 

নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের দু-একটি সংস্থা মাঠে কাজ করলেও সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তা। অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগাম টানতে না পারলে ভোক্তারাই ভুক্তভোগী হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের শক্তিশালী পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন তারা।

 

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই- এই সাত মাসে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিচারে চাল, তেল, চিনি, আলু, পেঁয়াজ, শুকনা মরিচ, রসুন, হলুদের দাম ১০- ১০০ টাকা কেজিতে বেড়েছে।

 

টিসিবির তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে মোটা চাল ছিল ৪৬ থেকে ৫২ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা। পাম তেল ১১৭ থেকে বেড়ে ১৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আলুর কেজি ছিল ১৬ থেকে ২২ টাকা। এখন ৩৬ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

 

৩৩-৪৮ টাকা কেজির পেঁয়াজ জুলাইয়ে ৪৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকার রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। ১৮০ টাকা কেজির হলুদ এখন ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ টাকা কেজির শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা দরে। ৯০ টাকার আদা ৪০০ টাকা পর্যন্তও বিক্রি হয়েছে। তবে আটার দাম কেজিতে ৮ টাকা কমেছে, ডাল কেজিতে ১০ টাকা কমে ১১৫ টাকা হয়েছে এবং লবণের বাজার অপরিবর্তিত রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাজারে তার প্রতিফলন নেই। ফলে ভোক্তারা এর সুফল পাচ্ছেন না। আমদানির তুলনায় খুচরা বাজারে নিত্যপণ্যের দামে পার্থক্য অনেক বেশি। কৃষিপণ্যের উৎপাদন মূল্যের চেয়ে খুচরা দরেও একই পরিস্থিতি।

 

অন্যদিকে ডলার সংকট, সময়মতো এলসি (ঋণপত্র) খুলতে না পারা এবং পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে দেশে আমদানির পর পণ্যের দাম বাড়তি হচ্ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি দামের কারণেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেল, চিনি, গম- এসবের দাম অর্ধেকের বেশি কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশেও দাম বাড়ে, সে পণ্য এখানে আসুক বা না আসুক। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশে সেই অনুপাতে দাম কমে না। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোও বাজার নিয়ন্ত্রণে সেভাবে ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ ছাড়া দাম বাড়ার কারণের মধ্যে রয়েছে বাজার ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত ও নীতিগত দুর্বলতা, যথাযথ প্রতিযোগিতার অভাব, ক্রয়-বিক্রয়ের রেকর্ড সংরক্ষণের অভাব। নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জনবল বাড়িয়ে দেশব্যাপী কার্যকর তদারকি কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

 একুশে সংবাদ/আ.জ.প্র/জাহা

Link copied!