AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কঠোর অবস্থানে সরকার, সমাবেশের অনুমতি পাবে না জামায়াত


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
০৩:৪৪ পিএম, ২৫ জুলাই, ২০২৩
কঠোর অবস্থানে সরকার, সমাবেশের অনুমতি পাবে না জামায়াত

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়ার পর (২০১২ সাল) থেকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পরেছে জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ার পর কোনো নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিতে পারেনি জামায়াত। গত ১০ জুন ঢাকায় সমাবেশ করে ব্যাপক আলোচনায় আসে দলটি। সরকারের পক্ষ সমাবেশের জন্য দলটিকে অনুমতি দেয়ায় এ নিয়ে বিভিন্ন রকম  সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। এরই মধ্যে আগামী ১ আগস্ট ঢাকায় সমাবেশ সহ দেশব্যাপী তিন দিনের কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাই এখন জামায়াত প্রশ্নে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। পাশাপাশি নাশকতার আশঙ্কায় জামাতকে আর মাঠে নামতে দেবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম শেষে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হয়। একই সঙ্গে একাধিক রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামাতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে। এরপর দলটি বিভিন্নভাবে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। গত ১০ বছর প্রকাশ্যে করতে পারেনি কোনো সভা-সমাবেশ। সেই জামায়াত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে হঠাৎ প্রাকাশ্যে সরব হয়ে উঠে। দলটির হঠাৎ রাজপথে সরব হওয়া কিংবা প্রকাশ্যে সমাবেশ করতে প্রশাসনের অনুমতি দেয়ার নেপথ্যে কী? এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা। কারণ এর আগে পুলিশ যেমন দলটিকে কোথাও কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেয়নি; তেমনি পুলিশের বাধার কারণে দলটির কর্মী-সমর্থকরাও প্রকাশ্যে কোথাও বৈঠকেরও সুযোগ পাননি। আবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের অনেকেই বহুবার আইন করে দলটিকে নিষিদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এমন কথাও বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা শুধু সময়ের ব্যাপার।

 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, আগামী ১ আগস্ট ঢাকায় সমাবেশ সহ দেশব্যাপী তিন দিনের কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যে ২৮ জুলাই সব মহানগর ও ৩০ জুলাই সব জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, আমিরসহ গ্রেফতারকৃত সব নেতাকর্মী ও ওলামায়ে কেরামের মুক্তি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এসব কর্মসূচি পালন করবে জামায়াতে ইসলামী।

 

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্বাচনব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৮ জাতীয় নির্বাচন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় নির্বাচন কোনোটিই সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়নি। অবিলম্বে সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

 

গত ১০ জুন ঢাকায় ঘরোয়া সমাবেশের অনুমতি পেয়ে বড় জমায়েত করেছিল জামায়াতে ইসলামী। প্রায় এক দশক ধরে  নিষিদ্ধ  থাকার পর হঠাৎ জামায়াতকে সরকার ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি দেয়। এটি আগামী সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সূত্রপাত নাকি ওই সমাবেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির ফল এমন নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। ঢাকার সমাবেশের পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা চাঙাও হন। পরে সব সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ এবং এরপর বড় জেলা শহরে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। কিন্তু গত ১৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ করার কথা থাকলেও প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় করতে পারেনি। গত শনিবার চট্টগ্রামে সমাবেশ করার কথা থাকলেও পুলিশের অনুমতি পায়নি। এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা চাপে পড়েছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে সরকারের হার্ডলাইনের বিষয়টিও স্পষ্ট হচ্ছে।

 

দেশের বিশিষ্টজনরা বলছেন- জামায়াতকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে বিচার করার সুযোগ রয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে একাধিক রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে। তারপরও কেন দলটিকে নিষিদ্ধে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। নিবন্ধন সংক্রান্ত মামলার কথা বলে জামায়াতকে নিষিদ্ধের পথে হাটেনি সরকার। ফলে দলটির নেতাকর্মীরা আড়ালে-আবডালে থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। যেখানে স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটিকে নিষিদ্ধে উদ্যোগ নেয়ার কথা, উল্টো দলটি মাঠে নামার সুযোগ করে দিয়েছে সরকার।

 

এ বিষয়ে ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর বলেন, জামায়াতের রাজনীতি উচ্চ আদালতের রায়ের পরিপন্থি। যতক্ষণ আপিল নিষ্পত্তি না হবে, ততক্ষণ দলটিকে রাজনীতি করতে দেয়া ঠিক হবে না।

 

এদিকে, চট্টগ্রাম ও সিলেটে জামায়াতকে সমাবেশ করার অনুমতি না দেয়ার কারণ হিসেবে নাশকতার কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপনীয় প্রতিবেদনের কারণেই চট্টগ্রাম ও সিলেটে জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি।

 

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. ইলিয়াস শরীফ বলেন, জামায়াতের সমাবেশে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে, তাই অনুমতি দেয়া হয়নি।

 

জামায়াতকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সিলেট এবং চট্টগ্রামে নয় শুধু, জামায়াতকে আর কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। এটিই চূড়ান্ত। কয়েকটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আলোকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে জামায়াত-শিবির মাঠে নামলে কঠোর আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এদিকে, ২০১৩ সালে হাইকোর্টের রায়ে নিবন্ধন হারানোর পর তা ফিরে পেতে একই বছরের ডিসেম্বরে আপিল বিভাগে আপিল করলেও সেই আপিলের আর শুনানির উদ্যোগ নেয়নি দলটি। ফলে দশ বছর ধরে আপিল বিভাগে পড়ে আছে জামায়াতের নিবন্ধন সংক্রান্ত মামলাটি। নিবন্ধন ফিরে পেতে দলটির আইনগত চেষ্টাও ছিল না। তবে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে অবশেষ দলটি আপিলের সারসংক্ষেপ দাখিল করেছে গত ১৬ জুলাই। একই সঙ্গে হঠাৎ রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠায় দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধে এরই মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে নিবন্ধনের আপিলের সঙ্গে গত ২৬ জুন একটি সংক্ষিপ্ত আবেদন জমা দিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবীরা। আবেদনে দলটি যাতে সভা-সমাবেশ ও মিছিল কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে না পারে সেজন্য নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। এই আবেদনের উপর আগামী ৩১ জুলাই আপিল বিভাগে শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে। বলা যায়- জামায়াতের রাজনীতির ভাগ্য ঝুলছে সর্বোচ্চ আদালতে।


আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, দলটির নিবন্ধন বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। তাদের নেতাদের যুদ্ধাপরাধে ফাঁসি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দলটির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ মিলেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে ওই নামে কোনো রাজনৈতিক দল তৎপরতা চালাতে পারে না। আমরা আদালতে সেটাই তুলে ধরব।

 

জামায়াতের আইনজীবী ও দলীয় কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করা, মিছিল-মিটিং করা একজন মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার খর্ব করা যায় না। তাই আইনিভাবেই মোকাবিলা করে জামায়াতের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে।

 

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাজনীতির নিয়ম অনুযায়ী, জামায়াত সমাবেশ করতেই পারে। তবে যদি বিএনপির সাথে মিলে জামাত ফের সংঘর্ষের রাজনীতি করতে চায়, তাহলে তাদের দমন করা হবে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপির প্রতিদিন রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার পরও সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ ও  সংঘর্ষের রাজনীতি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

একুশে সংবাদ/এসএপি

Link copied!