AB Bank
ঢাকা রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু, টেনশনে নগরবাসী


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
০২:৫৫ পিএম, ১৮ জুলাই, ২০২৩
ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যু, টেনশনে নগরবাসী

ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তোলা, ছবি: সংগৃহীত।

ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সব শয্যা পূর্ণ। হাসপাতালের বারান্দা, সব জায়গাও রোগী আর  রোগী। রোগী আর স্বজনদের ভিড়ে হাটাই দায়। মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে এ চিত্র দেখা গেছে।


জানা গেছে, সোমবার (১৭ জুলাই) হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৩৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন ৮ জন। সরকারি এ চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৩৯৬৪ জন। এদের মধ্যে  মৃত্যু হয়েছে ২৫ জন। ছাড়পত্র  পেয়েছেন  ৩৪০৪ জন রোগী।  

ডেঙ্গু শনাক্তকরণে নমুনা হিসেবে রক্ত দিতে ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীদের ভিড়, ছবি: সংগৃহীত।


এদিকে শুধু এ হাসপাতালটিতেই নয়, ঢাকার সরকারি-বেসরকারি যে কটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪৯২ জন। এদের মধ্যে মারা গেছে ২০ জন। একই সময় মিডফোর্ট হাসপাতালেচিকিৎসাধীন মোট ১৩৫৭ জন রোগীর মধ্যে ৮ জনের মৃতু্য হয়েছে।


রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর চাপ এবং চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যান্য লোকবল সংকটের কারণে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ফলে মৃত্যুর হার বাড়ছে।


রাজধানীর মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, কিছুদিন আগে লোকবল সংকট থাকলেও তা এখন কেটে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কয়েকজন ডাক্তার ও নার্স দিয়েছে। রোগী আরও বাড়লে আরও দুটি ওয়ার্ড চালু করা হবে। এখন অন্যান্য ডিপার্টমেন্ট থেকে রোটেশনে ডাক্তার-নার্স এসে ডেঙ্গু রোগী দেখছেন। হেমোরেজিক-শক সিনড্রোমের কারণে এ বছর মৃতু্যর হার বেড়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ২২ হাজার ৪৬৮ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬ হাজার ৯১২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে ৫৪৪১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতু্য হয়েছে ১১৪ জনের। অথচ গত বছরের একই সময় পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৭২৩ জন। এদের মধ্যে মারা যান তিনজন। এ হিসাবে গত বছরের তুলনায় এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতু্যর সংখ্যা বেড়েছে ৩৮ গুণ। একই সময় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৩ গুণ।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে মৃতু্যর সংখ্যা বেড়ে ৩ গুণ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে আক্রান্তের হার প্রায় দুই গুণ বেড়েছে। ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৯৫৬ জন। এদের মধ্যে মারা যায় ৩৪ জন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে জুলাই মাসের প্রথম ১৭ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৪ হাজার ৪৮৯ জন। এদের মধ্যে মৃতু্য হয়েছে ৬৭ জনের। দিন হিসাবে মৃতু্য সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিনগুণ। যদিও ভর্তি রোগীর তুলনায় জুন মাসে রোগী মৃত্যুর হার কিছুটা কম। জুনে মৃতু্যর হার দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং জুলাইয়ে মৃতু্যর হার দশমিক ৪৫ শতাংশ।


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা আগামী তিন মাস বাড়বে। ডেঙ্গুতে মৃতু্য অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।


সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি এবং থেমে থেমে বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশা বেড়ে গেছে। টানা বৃষ্টিতে লার্ভা ভেসে যায়। কিন্তু থেমে থেমে বৃষ্টিতে স্বচ্ছ পানি জমে যা এডিস মশার প্রজননের জন্য সহায়ক। সামনে এটা আরও বাড়বে। কমপক্ষে আসছে দুই মাস পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।


মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাক্তার এম আব্দুল্লাহ বলেন, এখন ডেঙ্গুর মৌসুম। গত বছরও এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল। তবে এবার থেমে থেমে বৃষ্টি বেশি হওয়ায় এডিস মশাও বেশি। আক্রান্তও বেশি হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি।


তিনি বলেন, সচেতনতার অভাবেই প্রতি বছর এভাবে ডেঙ্গু হানা দেয়। শিশুদের এই সময়ে হাত, পা ঢাকা জামা কাপড় পরানো উচিত। তারা দিনে ঘুমালে মশারি টানিয়ে দেওয়া উচিত। ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশা দিনে কামড়ায়। তখন অধিকাংশ শিশু স্কুলে থাকে। অথচ স্কুলে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। জ্বর হলে অপেক্ষা না করে দ্রম্নত টেস্ট করালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী দ্রম্নত শনাক্ত করা যায়। ফলে ঝুঁকি কমে যায়। আর জ্বর হলে নিজের চিকিৎসা নিজে না করে দ্রম্নত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দেশে ডেঙ্গু চিকিৎসায় কোনো সংকট নেই। তবে আবহাওয়া এবং সচেতনতার অভাবে ডেঙ্গু রোগী ও মৃতু্য আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে বড় আকারে নিতে হবে। যে কোনো মূল্যে রোগীর যেন মৃতু্য ঠেকাতে হবে। এ জন্য গবেষণা প্রয়োজন, যারা মারা যাচ্ছেন তারা কেন মারা যাচ্ছেন, তারা কি দ্রম্নত শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি- তা খতিয়ে দেখা জরুরি। রোগী যেন দ্রম্নত হাসপাতালে আসতে পারে, তার সুবিধা রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসা যন্ত্রাংশ প্রস্তুত রাখতে হবে।


মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, সরকারি হাসপাতালে এত বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। আমরা সিবিসি করছি ১২০ টাকায়, ডেঙ্গু টেস্ট ৫০ টাকায়, এ ছাড়া রোগীর জটিলতা বুঝে অন্যান্য পরীক্ষা দিলেও সেটি বাইরে থেকে যদি রোগীরা করেন, তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই। আমাদের এখানে সব পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ৫০০ বেডের হাসপাতালে এক হাজার ১৮৫ জন রোগী ভর্তি আছে। ঢাকা ছাড়াও ঢাকার বাইরের লক্ষ্মীপুর, ফেনী, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ডেঙ্গু রোগী আসছে।

 

একুশে সংবাদ/এসএপি

Link copied!