AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

দাম কমছে পেঁয়াজের, স্বস্তিতে ক্রেতারা


Ekushey Sangbad
জাহাঙ্গীর আলম
১০:২২ পিএম, ৬ জুন, ২০২৩
দাম কমছে পেঁয়াজের, স্বস্তিতে ক্রেতারা

দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে লাগাম টানতে সোমবার থেকে পণ্যটি আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। আর এতেই বিপাকে পড়েছেন পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী মজুতদাররা। দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায় আমদানির ঘোষণার আগপর্যন্ত এ বাজারে পেঁয়াজের পাইকারি দর ছিল ৯০ টাকা। আর পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই কেজিতে ৩০ টাকা কমে যায়। পেঁয়াজের দাম কমায় খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ। আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমবে দাবি পেঁয়াজ আমদানিকারকদের।

 

জানা গেছে, দিনাজপুরের হিলিতে একদিনের ব্যবধানেই দেশি পিঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। যা সোমবারও বিক্রি হয়েছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। অন্যদিকে, ভারত থেকে আমদানিকৃত পিঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে মোকামগুলোতে বিক্রি হচ্ছে।

 

এদিকে, দিনাজপুরের বিরামপুর বাজারে আমদানি করা পিঁয়াজ আসায় একদিনের ব্যবধানে দাম কমেছে কেজিতে ৪০ টাকা। গত রোববার বিরামপুরের প্রতি কেজি পিঁয়াজ ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও একদিন পর আজ মঙ্গলবার স্থানীয় হাটগুলোতে সেই পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে।

 

পিঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার খবরে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পিঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা কমে গেছে বলে জানা যায়। গতকাল সোমবার এই বাজারে প্রতি কেজি পিঁয়াজ ৬০-৬২ টাকায় দাম হাঁকিয়েও বিক্রি করতে পারেননি অনেক ব্যাপারী।

 

পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দু’দিন আগেও তাদের প্রতি কেজি পিঁয়াজ পাইকারি ৮২ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। ফলে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

 

অন্যদিকে, বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২ মাস ২২ দিন বন্ধ থাকার পর পুনঃরায় ভারত থেকে পিঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার তানভির আহমেদ জানায়, সোমবার ভারত থেকে ৭৫ মেট্রিক টন পিঁয়াজ আমদানি হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন পিঁয়াজ ১৫০ ইউএস ডলার মূল্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কাস্টমস কতৃপক্ষ প্রতি মেট্রিক টন পিঁয়াজ ৩২০ ডলারের ওপর ডিউটি ও ১০ শতাংশ শুল্ককর পরিশোধ করে প্রতি কেজি পিঁয়াজের আমদানি খরচ পড়ছে ৩৮.৩৬ টাকা।

 

গত মাসে দেশি জাতের পিঁয়াজের দাম ৮১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। স্থিতিশীলতা ফেরাতে পিঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় কৃষি মন্ত্রণালয়।

 

বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রোববারের ঘোষণার পর প্রতি মণ পিঁয়াজের দাম কমেছে ২৫০-৩০০ টাকা।

 

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ বছর দেশীয় উৎপাদন ছিল প্রায় ৩৪ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু, মজুত সুবিধার অভাবে দেশে উৎপাদিত পিঁয়াজের প্রায় ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে, দেশে এখনো প্রায় ৬.৫০ লাখ টন পিঁয়াজ আমদানি করতে হবে।

 

এদিকে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার, মুদি দোকান এবং ভ্রাম্যমাণ পেঁয়াজ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজকের বাজারে পেঁয়াজের দাম কম।

 

বিক্রেতারা জানান, দুই দিন আগেও তারা ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। কিন্তু আজ বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে।

 

পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা সোহেল রানা বলেন, আজ পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। সাইজের ওপর দাম ৬০, ৬৫ বা ৭০ টাকা হয়ে থাকে। গতকাল বিক্রি করেছি ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। তার আগেরদিন বিক্রি করছি ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি।

 

তিনি বলেন, আমদানির খবরে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে গেছে। আমাদের এখানে এখনও ভারতীয় পেঁয়াজ পৌঁছায়নি। আজ রাতে পৌঁছাতে পারে। তখন দাম আরও কমে যাবে।

 

খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা ফজলু মিয়া বলেন, আজ পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। গতকাল আর তার আগের দিন বিক্রি করেছি ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে।

 

ভ্যানগাড়িতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকা কেজিতে। এরকম ভ্রাম্যমাণ পেঁয়াজ বিক্রেতা কামাল সরদার বলেন, আমি গত দুই-তিন দিন ৯০, ১০০, ১০৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। আজ দাম কমে গেছে।

 

পেঁয়াজ কিনতে আসা হালিম মিয়া জানান, গত সপ্তাহে তিনি ৯০ টাকা কেজি করে ৫ কেজি পেঁয়াজ কিনেছেন। আর এখন দাম কমাই সে ৮০ টাকা কেজি করে কিনেছেন।

 

একুশে সংবাদ/ন.প.প্র/জাহা

Link copied!