AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

কাজে সমানে সমান তবুও মজুরি বৈষম্যের শিকার নারীরা


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
০১:৩১ পিএম, ১ মে, ২০২৩
কাজে সমানে সমান তবুও মজুরি বৈষম্যের শিকার নারীরা

পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নারীরা। দেশের শিক্ষা, কৃষি, অর্থনীতিসহ সব সেক্টরে নারীর পদচারণ রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সকাল- সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করলেও বেতন ও মজুরি বৈষম্যের জাল থেকে  বের হতে পারেননি  নারীরা।

 

সোমবার (১ মে) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, কর্মক্ষেত্রে মজুরির বৈষম্য জেনেও জীবনের প্রয়োজন কাজ করে যাচ্ছেন। তবে, পুরুষ শ্রমিকদের সঙ্গে সমান তালে কাজ করলেও মাঝে মাঝে পুরুষ সহকর্মী, কখনও মালিকের হাতে নিগৃহীত হতে হয়। এমনকি অনেক সময় নারী বলে কাজে নিতেও আপত্তি জানান অনেকে।  কাজের ধরন, সময় অনুসারে মুজরি নির্ধারণ করা হলেও নারীরা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক কিংবা তার চেয়েও কম মজুরি পান।  পুরুষ শ্রমিক দৈনিক ৫০০-৮০০ টাকা মজুরি পেলেও নারী শ্রমিক পান ৪০০-৬০০ টাকা।

 

রাজধানীর যাত্রবাড়ী আড়তে কাজ করেন নারী শ্রমিককে দেওয়া মর্জিনা বেগম।  তিনি  বলেন, এক বস্তা মাল নামালে পাই ৩-৫ টাকা।  পুরুষ পায় ৫-৬ টাকা।  এখানে এই নিয়ম, এক রকম কাজ করলেও নারী বলেই কম মজুরি পাব।

 

 রাজধানীর রায়েরবাগে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করছেন কয়েকজন নারী।  কেউ বালি, কেউ ইট ঝুড়িতে টানছেন।  তাদের একজন শিলা আক্তার।  তিনি বলেন,  ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘর গুছিয়ে, রান্না করে বের হয়েছি। এরপর অপেক্ষা করতে হয় কাজের জন্য। অনেক সময় নারী বলে কাজে নিতে চান না মালিক।  কিন্তু একদিন কাজ না করলে তো সংসার চলবে না।  নারী-পুরুষ একই কাজ করলেও আমাদের মুজুরি কম। বেশির ভাগ জায়গায় পুরুষের মজুরির চেয়ে ২০০ টাকা কম পাই।  প্রতিবাদ করলে কাজ দিবেনা।    প্রধানমন্ত্রী সবার সমস্যা সমাধান করে দেন, আমাদের  গরিবের জন্য সমান মজুরি পাওয়ার আইন করে দেন।

 

রাবেয়ার মতো ডাবের দোকানে কাজ করছেন সুরমি বেগম।  তিনি বলেন, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮ টা (১২ ঘন্টা) কাজ করি।  বেতন পাই ৪৫০ টাকা। আর একই কাজ পুরুষ করেন তিনি পান ৬৫০ টাকা।  গরিবের কথা আর কে শোনে?  তবে প্রধানমন্ত্রী  এবিষয়ে ব্যবস্থা  নিলে আমরা সমান মজুরি পেতাম।

 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, আগের চেয়ে নারী শ্রমিকদের  মজুরি কিছুটা বেড়েছে। তবে বৈষম্য দূর হয়নি।  সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি  ও নারীদের জন্য মজুরির সমতা নির্ধারণ করলে দ্রুত সমাধান হবে।  নারীর কাজের মর্যাদাও।নিশ্চিত হবে।

 

শ্রমিক ঐক্যের যুগ্ম সমন্বয়কারী ও ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি আলমগীর মজুমদার বলেন, শ্রমিকরা  বজায়গায় বৈষম্যের শিকার হন।  সবচেয়ে নারীরা বেশি বৈষম্যের শিকার হন। কর্মক্ষেত্রে নানাভাবে হয়রানি, নির্যাতনের শিকার হন। নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ জরুরি।  শ্রম আইনের প্রতিফলন ঘটাতে সরকারের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করাসহ  সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি  ও নারীদের জন্য মজুরির সমতা নির্ধারণ করলে দ্রুত সমাধান হবে। 

 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, দেশের প্রতিটি সেক্টরে   নারীর পদচারণ চোখে পড়ার মতো। সমাজের প্রতিটি অংশে নারীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সরকার। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

একুশে সংবাদ/আ.জ.প্র/জাহাঙ্গীর

Link copied!