AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

নেতা-কর্মী-শরিক-কূটনৈতিক কাউকেই বিশ্বাস করছে না বিএনপি


Ekushey Sangbad
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১০:৩৪ পিএম, ৩০ এপ্রিল, ২০২৩
নেতা-কর্মী-শরিক-কূটনৈতিক কাউকেই বিশ্বাস করছে না বিএনপি

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ,তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করছে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি)। 

 

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে না। সে কারণে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা দিয়ে দশ দফা দাবিও উপস্থাপন করে। এর আগে বিএনপি বলেছিল, ঈদের পর পরই চূড়ান্ত আন্দোলনে যাবে দলটি। এজন্য তারা সদ্য সমাপ্ত রোজার মধ্যেও রীতিভঙ্গ করে আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু ঈদের আট দিন পেরিয়ে গেলেও বিএনপির আন্দোলনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মূল কারণ হলো- নিজ দলীয় নেতা-কর্মী, শরিক দলসহ কূটনৈতিক অঙ্গনের কাউকেই বিশ্বাস করছে না বিএনপি। যে কারণেই ২০০৮ সালের পর থেকে বিএনপির আন্দোলনের কোনো নমুনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিএনপির একাধিকসূত্র এতথ্য জানিয়েছে।

 

সূত্র জানায়, বিএনপি বলেছিল ঈদের পর বৃহত্তর একটি জোট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তুলবে। সেই লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন শরিক রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে জোট গঠন করেছিল। জোট গঠন করার প্রক্রিয়ায় তারা শরিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছিল। বৈঠকে তারা আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিকভাবে আলাপ-আলোচনা করে কর্মসূচিতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সংযোজন-বিয়োজন করেছিল। এ সময় তারা দাবি-দাওয়া তৈরি করেছিল। কিন্তু বিএনপির বৃহত্তর জোট এবং যুগপৎ কর্মসূচির যে ঘোষণা, সেটা কাগজে-কলমে থাকলেও  এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

 

সূত্র জানায়, বিএনপি চূড়ান্ত আন্দোলন করার যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা  এখন পর্যন্ত শুরু করতে পারেনি। জোটবদ্ধভাবে আন্দোলন করার ব্যাপারেও বিএনপি এখন পর্যন্ত দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। এর কারণ হলো- অবিশ্বাস। বিএনপির মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা গেছে পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস। পাঁচ রকমের অবিশ্বাস বিএনপির মধ্যে বাসা বেঁধেছে -

 

বড় নেতাদের অবিশ্বাস: সরকারের সাথে বিএনপির নেতাদের গোপন যোগাযোগ আছে। সরকারের কাছ থেকে নেতারা বিভিন্ন রকম সুবিধা নিয়ে তারা যে কোনো সময় বিক্রি হয়। সরকারের বিভিন্ন রকম সুবিধা নিচ্ছে- এরকম গুঞ্জন বিএনপিতে   শোনা যায়। এজন্য এক নেতা অপর নেতাকে প্রায়ই দোষারোপ করেন। প্রায়ই রুহুল কবির রিজভী বলে থাকেন যে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ কয়েকজন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সরকারের গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। আবার বিএনপির মধ্যে যারা স্থায়ী কমিটির সদস্য না, তারা মনে করেন যে, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সরকারের সাথে যোগাযোগ করছে। সুতরাং দলের মধ্যেই বিএনপির এ ধরনের একটি অবিশ্বাস রয়েছে।

 

পারস্পরিক বিশ্বাস নির্বাচনে অবিশ্বাস: পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপির মধ্যে যারা তৃণমূল নেতা-কর্মী রয়েছেন, তারা বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত পাঁচ সিটি করপোরেশনে বিএনপির ১০০ এর বেশি নেতা-কর্মী নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। এই যে নির্বাচনমুখী বিএনপির স্রোত, এখানেও বিএনপির মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাস। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না। একবার বলছে, তারা নির্বাচন বর্জন করবে, আবার গোপনে তারাই গিয়ে যোগাযোগ করছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য। ফলে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দলের যে ঐক্য লাগে, দলের যে সংহতি লাগে, পারস্পরিক বিশ্বাস, আস্থা লাগে, সেই বিশ্বাস  বিএনপির মধ্যে নেই।


বিদেশী ও কূটনৈতিকদের অবিশ্বাস: বিএনপি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষে থাকবে কি না- এটা নিয়েও বিএনপির মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না, তারা চায় বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়ে, বর্তমান সরকার কাঠামোর মধ্যেই একটি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে বলেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাচনের আগ দিয়ে যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ওপর এরকম একটা চাপ দেয়, তাহলে বিএনপির মধ্যে আরেক রকমের সমস্যায় পড়বে।

 

জোটের শরিকদের অবিশ্বাস: বিএনপি যে জোটগুলো গঠন করতে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে কয়জন শেষ পর্যন্ত অটুট থাকবে, তারা নির্বাচন থেকে দূরে থাকবে এবং সরকারের প্রলোভন থেকে নিজেদেরকে নিভৃত রাখতে পারবে- এটা নিয়েও বিএনপির মধ্যে অবিশ্বাস রয়েছে। কারণ  ২০১৮ সালে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল। ড. কামাল হোসেন কেন গণভবনের মিটিংয়ে গেল, কেন ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপ করলো? ওই নির্বাচনের কার্যক্রমে যে ভরাডুবি হলো, সেই ভরাডুবির পেছনে ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা ছিল বলে অনেকে মনে করছেন। এখন যারা জোটে আসবে, জোট গঠন করার পর তারা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে কি করবে না- বা লাভের বিনিময়ে তারা আন্দোলনে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না- এমন কোনো গ্যারান্টি বিএনপি পাচ্ছে না।

 

তারেক ও খালেদা জিয়াকে বিশ্বাস অবিশ্বাস : বিএনপির সর্বোচ্চ দুইজন নেতা। একজন তারেক জিয়া, অপরজন হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। তারেক জিয়াকে সবাই চিনে। সবাই জানে যে, তারেক জিয়ার সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে টাকা-পয়সা । টাকার জন্য সে সবকিছু করতে পারে। এখন দলে কমিটি নিয়ে বাণিজ্য এবং মনোনয়ন বাণিজ্যও করছে। এখন সরকার যদি তারেককে বড় রকমের প্রলোভন দেখায় বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার, তাহলে বিএনপির নেতারা কি করবে? 


এছাড়া খালেদা জিয়াকেও প্রলোভন দেখানোর কথা বলা হচ্ছে- খালেদা জিয়াও যদি শেষ পর্যন্ত বিদেশে যাওয়ার লোভে বা অন্য কোনো কারণে যদি নির্বাচনে যাওয়ার জন্য দলকে নির্দেশ দেন, তাহলে কি হবে?   এসব কারণে দলের কর্মীরা তাদের ওপর বিশ্বাস  রাখতে পারছেন না।  

 

এইসব কারণেই ঈদ পরবর্তী বিএনপির বৃহত্তর আন্দোলন বাস্তবে আলোর মুখ দেখেনি। এখন দেখার বিষয় বিএনপি ঘোষিত যুগপৎ আন্দোলনকে বিএনপি আদৌ বাস্তবতায় রূপ দিতে পারে কি না সময় বলে দিবে?

 

একুশে সংবাদ/এসএপি

Link copied!