AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিপিপিএ গঠন করছে সরকার


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
১১:৫৮ এএম, ১৩ মার্চ, ২০২৩
সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিপিপিএ গঠন করছে সরকার

সরকারি তহবিলের অর্থ দ্বারা কোনো পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি আইর-২০২৩ (বিপিপিএ) নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ ছাড়াও সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ স্বশাসিত সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের উদ্বৃত্ত কর্মচারী আত্তীকরণ আইন-২০২৩ চূড়ান্ত অনুমোদন পাচ্ছে।

 

সোমবার (১৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনটি উত্থাপন করা হবে।

 

সূত্র জানায়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) থেকে এরূপ বিধান অন্তর্ভুক্ত করে আইনের খসড়া প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দিয়েছে। এ সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হচ্ছে। এ আইনের খসড়াটি গত ২০০৬ বিএনপি সরকারের আমলে করা হলেও তা শেষ পর্যন্ত পাস করতে পারেনি। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ ও বিধিমালা ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন আনাসহ সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে এমন কথা থাকলেও বর্তমান সরকার আইনটি পাস করতে পারেনি। তা এবার পাস করা হচ্ছে। তবে বিশ্বব্যাংকের চাপে আইনটি দ্রুত পাস করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব স্বাক্ষরিত পাঠানো আইনের সার-সংক্ষেপে বলা হয়, ‘সরকারি তহবিলের অর্থ দ্বারা কোনো পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চত করা এবং উক্তরূপ ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সকল ব্যক্তির প্রতি সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করিবার জন্য অনুসরণীয় পদ্ধতি নির্ধারণসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) আইন, ২০১৯-এর খসড়ায় কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, সরকারি তহবিলের টাকা দিয়ে কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সকল ব্যক্তির প্রতি সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন, নিয়ন্ত্রণ এবং এই উদ্দেশ্যে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা বাড়ানো ও পেশাদারিত্ব সৃষ্টির জন্য এই কর্তৃপক্ষ গঠন করা প্রয়োজন। এই কর্তৃপক্ষ সিপিটিইউর চেয়ে অধিকতর ক্ষমতা পাবে।’ সরকারি কেনাকাটায় কোথাও আইন লঙ্ঘন বা অর্থের অপচয় হওয়ার আশঙ্কা দেখা গেলে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে নথি তলব করতে পারবে।

 

এ বিষয়ে খসড়া আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, যেসব ক্রয়কারীর ওপর পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ প্রযোজ্য, তাদের কাছ থেকে সরকারি কেনাকাটার তথ্য, দলিল ও নথিপত্র তলবের ক্ষমতা থাকবে বিপিপিএর। কেনাকাটার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলো সঠিকভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তলব করা নথিপত্র পর্যালোচনা করতে পারবে। সরকারি কেনাকাটায় কোনো আইন ও নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা সংশোধন করে কোনো ক্রয়কারীকে ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন বা সংশোধন করার পরামর্শ ও সুপারিশ বা প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারবে।

 

খসড়া আইন অনুযায়ী, বিপিপিএর একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে, যার চেয়ারম্যান হবেন পরিকল্পনামন্ত্রী। কর্তৃপক্ষের একজন নির্বাহী চেয়ারম্যান থাকবেন, যিনি সরকারের গ্রেড-১ ভুক্ত পদমর্যাদা বা সচিব মর্যাদার হবেন। এই কর্তৃপক্ষ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইনগুলোর প্রতিপালন নিয়ন্ত্রণ, পরিবীক্ষণ, সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করবে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ ও বিধিমালা ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন আনাসহ সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।

 

২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে এডিপির আকার ছিল ২৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর মূল এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার বছরে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য ও সেবা ক্রয় করে, টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এডিপি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল অর্থের পণ্য ও সেবা কিনতে হয় সরকারকে। নিজ নিজ প্রকল্পের আওতায় মন্ত্রণালয়গুলো এসব পণ্য ও সেবা কিনে থাকে।

 

এখন এসব কেনাকাটার তথ্য রাখার কাজ করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ)। অধিকতর ক্ষমতাসম্পন্ন বিপিপিএ গঠন হওয়ার পর সিপিটিইউ বিলুপ্ত হবে। তবে সিপিটিইউর জনবল বিপিপিএতে ন্যস্ত হবে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিপুল পরিমাণ কেনাকাটায় নজরদারি করার জন্য কোনো কর্তৃপক্ষ নেই দেশে। ফলে সরকারি ক্রয়ে বিস্তর দুর্নীতি-অপচয়ের অভিযোগ থাকলেও তা দেখার নেই কেউ। অবশেষে সরকারি কেনাকাটায় নজরদারির জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার।

 

একুশে সংবাদ.কম/আ.জ.প্র/জাহাঙ্গীর

Link copied!