AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
ভবনে বিস্ফোরণ

অসচেতনতা ও মনিটরিংয়ের অভাবে দূর্ঘটনা বাড়ছে


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
০৬:০৮ পিএম, ১১ মার্চ, ২০২৩
অসচেতনতা ও মনিটরিংয়ের অভাবে দূর্ঘটনা বাড়ছে

অসচেতনতা ও মনিটরিংয়ের অভাবে প্রায়ই ভয়াবহ বিস্ফোরণ এবং বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকান্ডসহ দূর্ঘটনা ঘটছে। এসব দুর্ঘটনার অধিকাংশ ঘটছে রাসায়নিক পদার্থজনিত কারণে। সম্প্রতি একের পর এক এসব অগ্নিকান্ডে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাহত ও পঙ্গুত্বের সংখ্যা। ক্ষতি শত শত কোটি টাকার।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনার মূল কারণ ব্যক্তিগত অসচেতনতা ও যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব। মনিটরিং করা হলে এসব অপ্রীতিকর ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।

গুলিস্তানে বিস্ফোরণ: উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছর সারা দেশে বহুতলসহ অন্যান্য ভবনে ৭৯৫টি গ্যাসজনিত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাসায়নিক পদার্থজনিত কারণে বহুতল ভবনে বিস্ফোরণ এবং বিস্ফোরণের পর অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৯টি। আর সেপটিক ট্যাংকসহ যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সরাসরি বিভিন্ন ভবনে বিস্ফোরণ ঘটেছে ২৪টি।  

 

গত বছর ১১৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ব্যাংক ও বীমাসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১০৪টি, শপিং মল ও বাণিজ্যিক ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে ৫৮৯টি। বেজমেন্টে ৯১টি, এসি থেকে ৪৮টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডে ভবন, ভবনের আশপাশের বাড়িঘর বা বাণিজ্যিক ভবন বা স্থায়ী অথবা অস্থায়ী স্থাপনা মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ।

গুলিস্তানে বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ১৭

এবিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডক্টর মাকসুদ হেলালী বলেন, প্রায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিগত অসচেতনতা ও যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব। নিউমার্কেটের বিস্ফোরণের জন্য মূলত দায়ী গ্যাস। যার মধ্যে এক ধরনের গ্যাস এসেছে বাথরুম থেকে। যেটিকে মিথেন গ্যাস বলা হয়। এই মিথেন গ্যাস জমে স্যুয়ারেজ লাইন বন্ধ হওয়ার কারণে। তারপরেও মিথেন গ্যাস জমার কথা নয়, কারণ প্রতিটি সেপটিক ট্যাংকের ওপরের দিকে একটি গ্যাস নির্গমন পাইপ থাকে। ওই পাইপের মধ্য দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, রাস্তার পাশ দিয়ে বা ওই ভবনে যে তিতাস গ্যাসের লাইন গেছে, সেই লাইনের রাস্তার অংশ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের আর বাড়ির ভিতরের অংশ বাড়ি মালিকের যথাযথভাবে মনিটরিং করার কথা। কেউ হয়তো তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি, ফলে দুঘর্টনাটি ঘটেছে। যদিও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তাদের লাইনে কোনো ধরনের লিকেজ ছিল না।

গুলিস্তান বিস্ফোরণ—চলছে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান

তিনি আরো বলেন, ঢাকার অধিকাংশ ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে অর্থাৎ মাটির নিচে সেপটিক ট্যাংক রাখা হয়। সিদ্দিক বাজারের ঘটনাটিও সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা মিথেন গ্যাস থেকে ঘটেছে বলে সার্বিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে। অথচ ঢাকার প্রায় শতভাগ সেপটিক ট্যাংকের লাইন থাকে।

 

মাকসুদ হেলালী বলেন, সায়েন্স ল্যাবের শিরিন ম্যানশনের তৃতীয় তলায় তিতাস গ্যাসের চুলা ছিল। গ্যাস চুলা যারা মেরামত করেন, তাদের গ্যাস ও চুলা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই নেই। কীভাবে গ্যাস লাইনে বা গ্যাস চুলায় কাজ করতে হয়, তা তারা জানেন না। এদের যথাযথ কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। তারা বাজারে পাওয়া যায় এমন সস্তা দামের জিনিসপত্র দিয়ে গ্যাসের চুলা বা লাইন ঠিক করে দেন। এরপর যথারীতি লিকেজ থেকে গ্যাস জমে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা ঘটে।

সাইন্সল্যাবে ভবন বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৫

২০২৩ সালের পর সারা বিশ্বেই এসিতে বিশেষ ধরনের গ্যাস ব্যবহার করা সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক আইনও পাস হয়েছে। এসিতে তিন ধরনের গ্যাস ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ এসি ও রিফ্রিজারেটরের কম্প্রেসারে যে গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং অতিমাত্রায় দাহ্য। যে কারণে এসি থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি বনানীতে এসি বিস্ফোরণের পর অগ্নিকান্ডে দগ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যুর কারণও এটি। বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের পর যে সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন করা হলে দেশবাসী তার সুফল পাবে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় সায়েন্স ল্যাব এলাকার ৩৪ নম্বর মিরপুর সড়কের তৃতীয়তলা শিরিন ম্যানশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ ২০ জন। এসি ও বাথরুম থেকে নির্গত গ্যাস ফ্লোরে জমে থাকার কারণে তিনতলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে ।

সাইন্সল্যাবে বিস্ফোরণ: ধসে পড়েছে ভবনের দেয়াল, আহত ৬ - The Business Post

গত ৭ মার্চ পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজারে ১৮০ ও ১৮০/১ নম্বর পাশাপাশি দু‍‍`টি বহুতল ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ২২ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৭০ জন। যাদের মধ্যে ২৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি।  

 

এবিষয়ে র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সিদ্দিকবাজারের  বিস্ফোরণের মূল কারণ দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা গ্যাসই বলে মনে হচ্ছে। ভবনের বেজমেন্টে আগে রেস্টেুরেন্ট ছিল। এখন রেস্টুরেন্ট না থাকলেও গ্যাসের সংযোগটি ভালোভাবে বন্ধ করা হয়নি।

মগবাজারে বিস্ফোরণ : হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু

সায়েন্স ল্যাবের বিস্ফোরণও গ্যাসের সংযোগ থেকে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনাগুলোর সঙ্গে তিতাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা থাকতে পারে। সামনে গ্রীষ্মকাল আসছে। এ সময়ে বিস্ফোরণের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। স্যুয়ারেজ লাইন, গ্যাস সংযোগ, অপরিকল্পিত ভবন প্রভৃতি কারণে বিস্ফোরণ হতে পারে। সাধারণ মানুষের সচেতনতার পাশাপাশি তিতাস, ওয়াসা, রাজউক এবং সিটি করপোরেশন অধিকতর তৎপর হলে এ ধরনের ঘটনা কমানো সম্ভব।

 

একুশে সংবাদ/এসএপি

Link copied!