AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

জেলা পরিষদ ডাকবাংলো যেন জীর্ণ কুটির


Ekushey Sangbad
ফাহাদ হোসেন, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট
০৬:৫১ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
জেলা পরিষদ ডাকবাংলো যেন জীর্ণ কুটির

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা দেশের বৃহত্তম উপজেলার একটি। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবনের কোলঘেষে পানগুছি নদীর পারে এই উপজেলার অবস্থান। ১৬ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা গঠিত যার আয়তন ৪৩৮ বর্গকিলোমিটার।

 

এই উপজেলা সদরে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত এই উপজেলায় একমাত্র বাগেরহাট জেলা পরিষদের ডাক বাংলোটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনের দেয়ালের অনেক স্থানে প্লাস্টার খসে পড়ছে। নেই কোন সাইনবোর্ড, বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এই জরাজীর্ণ ভবনটি কোন দপ্তরের।

 

জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার এই ভবনের একপাশে পরিবার নিয়ে বসবাস করে। এক কথায় আধুনিকতার এই সময়ে জেলা পরিষদের এই ডাক বাংলোটি এখন অনেকটা ব্যাবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে।

 

জেলা পরিষদ অফিস সুত্রে জানা যায়, মোরেলগঞ্জ সদরে ১৯৯৩ সালে এই ডাকবাংলো প্রথম স্থাপিত হয়।এরপর ২/১ বার কোনভাবে এটিকে সংস্কার করা হলেও গত কয়েক বছর এই ডাকবাংলোর আবাসিক কক্ষগুলো কোন সংস্কারের কাজ হয়নি।

 

গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর  সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো, ভবনের সামনে একটি সীমানা প্রাচীর রয়েছে তবে মূল ভবনটি জরাজীর্ণ। আর অযত্ন ও অবহেলায় ভবনের ভিতরে দেয়ালের মতই প্রাচীরের অবস্থা।

 

কক্ষের ভিতরের আবাসিক বেডগুলো নড়বড়ে, বাথরুমের দরজা,কক্ষের জানালা ভাঙা। সংস্কারের অভাব ও বৃষ্টির পানিতে ভবনের দেয়াল ও প্রাচীর নষ্ট হয়ে গেছে। ভবনের সামনে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা, তবে ডাকবাংলো প্রবেশের প্রধান গেইটটি বেশ মজবুত রয়েছে।

 

উপজেলা গঠনের পর থেকে নির্মিত এ ডাকবাংলো ভবনটি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছে। ডাকবাংলোর দায়িত্বে নিয়োজিত কেয়ারটেকার সাহেব আলী তরফদার ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনের পাশে কোনমতে বসবাস করছেন। এখানে আবাসিক কক্ষগুলোর বেহাল অবস্থা দেখে শহরাঞ্চল থেকে সরকারী, বেসরকারি কোন অতিথি আসলে তাদেরকে প্রাইভেট হোটেলে থাকতে হচ্ছে। ফলে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, সংস্কারের অভাবে অযত্ন অবহেলায় অনেকটা নাজুক অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আতঙ্কে ভবনে অতিথিরা কিংবা সরকারের কোনো কর্মকর্তা এসে থাকতে চান না। অতিথিদের ব্যবহারের সোফা, বিছানাসহ পুরনো আসবাপত্রগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

ডাকবাংলোর দায়িত্বে নিয়োজিত কেয়ারটেকার সাহেব আলী তরফদার বলেন, এই ভবনটি আমি ২৫ বছর ধরে দেখাশোনা করছি। এই বাংলোতে এখন আগের মতো অতিথিরাও থাকেন না।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোরেলগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, তিনি কিছুদিন আগে এই উপজেলায় যোগদান করেছেন। তার পরিবার বাড়িতে থাকে যার কারনে তাকে এখানে একা থাকতে হয়। পুর্বের কর্মস্হলে তিন ডাকবাংলোতে একটি কক্ষে ছিলেন। এখানে এসেও ডাকবাংলোতে থাকতে চেয়েছিলেন কারন এখানে থাকাটা নিরাপদ, কিন্তু ভবনের নাজুক অবস্থা দেখে তিনি বিব্রত থাকার অনুপযোগী।

 

তিনি বলেন, এতো বড় একটি উপজেলায় ডাকবাংলোর চিত্র এমন কেন? তিনি ডাকবাংলোটি সংস্কার ও পুর্নঃনির্মানের দাবি জানান।

 

এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ঝুমুর বালা বলেন, ভবনটি সম্পুর্ন নতুনভাবে করা হবে।এই ভবন নির্মান ব্যায় বাবদ ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খুব শীগ্রই ভবনটি টেন্ডারের আওতায় আনা হবে।

 

ভবনটি সংস্কারের ব্যাপারে মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. শাহ-ই আলম বাচ্চু বলেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে নতুন ভবন বরাদ্দের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি সেটা গ্রহন করেছিলেন এবং ভবনটি পুনঃনির্মান করার জন্য নতুন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই ডাকবাংলোটির নির্মাণ কাজ যাতে তড়িৎ গতিতে শুরু হয়। মানসম্মত ভাবে যেন কাজটি করা হয় সেই দাবিও জানান তিনি।

 

একুশে সংবাদ/ফা.হো/এসএপি

Link copied!