AB Bank
ঢাকা রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

মুক্তিপণে দেরি হলেই লজ্জাস্থানে ইট বেঁধে নির্যাতন কিংবা ইলেকট্রিক শক  


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৫:৪০ পিএম, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
মুক্তিপণে দেরি হলেই লজ্জাস্থানে ইট বেঁধে নির্যাতন কিংবা ইলেকট্রিক শক  

ঢাকায় সম্প্রতি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অপহরণকারী চক্র। এসব চক্র বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অস্ত্র ঠেকিয়ে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। চোখ-মুখ হাত-পা বেঁধে আটকে রাখা হয় গোপন আস্তানায়। তাদের মূল উদ্দেশ্য টাকা আদায়। কিন্তু টাকা আদায় করতে গিয়ে তাদের অমানবিক নির্যাতনে শারীরিক, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা। 

বাঁশের লাঠি থেকে শুরু করে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। ইলেকট্রিক শক থেরাপি ওদের মূল অস্ত্র। পুরুষের লজ্জাস্থানে ইট বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। কখনো প্লাস দিয়ে নখ তুলে নেয়া হয়। রক্তাক্ত ভুক্তভোগীর কান্নার শব্দ শোনানো হয় স্বজনদের। দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে চাইলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। আর টাকা দিতে অপারগতা জানালে শুরু হয় আরো ভয়াবহ নির্যাতন। সময় যত বাড়ে নির্যাতনের মাত্রাও তত বাড়ে। এভাবেই অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা মানুষকে নির্যাতন করে টাকা আদায় করে। সম্প্রতি অপহরণের শিকার হয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে আসা ভুক্তভোগীরা নির্যাতনের এমন বর্ণনা দিয়েছেন। 

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, অপহরণকারীদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে গোপন অঙ্গে ইট বেঁধে রাখা হয়। তাদের কথা না শুনলে ইলেকট্রিক শক দিয়ে চলে লোমহর্ষক নির্যাতন। আর এমন নির্যাতন চলে চাহিদা  মতো টাকা আদায়ের আগ পর্যন্ত। শুধু চাহিদামতো টাকা দিলেই মুক্তি মেলে না। ছেড়ে দেয়ার আগে বস্ত্রহীন করে যুবতীদের সঙ্গে অশালীন ছবি ও ভিডিও করে রাখা হয়। সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হবে বলে জানানো হয়।

এছাড়া চক্রের দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয় ভুক্তভোগীর স্বজনরাও আছেন নানা আতঙ্কে। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ও অশালীন ভিডিও করে রাখায় ভুক্তভোগীরা ভয়ে মুখ খুলছেন না। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অপহরণকারী চক্রের ৮ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। ১৮ই জানুয়ারি সর্বপ্রথম অপহরণকারী চক্রের ২ সদস্য মিরাজ (৩৫) ও বৃষ্টিকে (২১) গ্রেপ্তার করে ডিবি’র উত্তরা বিভাগ। 

আর গত শনিবার দক্ষিণখানের চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মো. সাদেকুল ইসলাম, মো. ইফরান, মোহাম্মদ আলী রিফাত, মো. কুতুব উদ্দিন, মো. মাছুম রানা ও গোলাম রাব্বি। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, ১ ছুরি, ১ মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ডিবি’র তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সবাই পেশাদার অপরহরণকারী। প্রতি মাসেই ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তিকে অপহরণ করে। তাদের মুক্তিপণ আদায়ের কৌশল খুবই নির্মম। একেকটি চক্রে ১০ জন সদস্য কাজ করে। প্রত্যেকের কাজ আলাদা আলাদা। কেউ অপহরণ করে আনে আবার কেউ নির্যাতন করে। টাকা আদায়ের জন্য কাজ করে অন্য সদস্যরা। আর চক্রের নারী সদস্যরা রান্না করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর মুখ বন্ধ রাখতে তাদের সঙ্গে অশালীন ছবি ও ভিডিও করে রাখে। 

ডিবি’র আভিযানিক টিমের সদস্যরা বলেছে, অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের আস্তানা থেকে ছুরি, ৫৭টি ইলেক্ট্রিক্যাল ক্যাবল টাইস, স্ক্রু ড্রাইভার ও  প্লাস, লাঠি, রড পাওয়া গেছে। এগুলো দিয়েই তারা অপহৃতদের নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করে। অপহরণের পর ভুক্তভোগীর সঙ্গে তারা এতোটাই নির্মম আচরণ করতো যা খুবই অমানবিক ছিল।

সূত্র: পার্স টুডে

একুশেসংবাদ/অমৃ

Link copied!