ঢাকা রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, ৪ মাঘ ১৪২৭
Ekushey Sangbad
Janata Bank
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে টিকা পেতে প্রস্তুত বাংলাদেশ


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০২:০৩ পিএম, জানুয়ারি ১১, ২০২১
চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে টিকা পেতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

করোনা ভাইরাসের টিকা কারা আগে পাবেন তা মোটামুটি চূড়ান্ত হয়েছে৷ তবে, টিকা রফতানি নিয়ে টালাবাহানার শেষ নেই। টিকা পাওয়াকে অনেকটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে টিকা পরিবহণ ও সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে৷ বলা যায় চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা এখন টিকা প্রাপ্তির অপেক্ষায় বাংলাদেশ৷

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টিকাদান কর্মসূচিকে ঘিরে জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। দেশে টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে টিকাদান কার্যক্রম। টিকা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। এছাড়া ঠিকানা ও মেবাইল নম্বর লাগবে। আর এই অ্যাপ তৈরিতে ব্যয় হবে ৯০ কোটি টাকা।  টিকা প্রয়োগ কর্মসূচির ১৫ থেকে ২০ দিন আগে অ্যাপে নিবন্ধনের বিষয়ে জানিয়ে দেওযা হবে।

টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে করোনা টিকা বিতরণ কোর কমিটির প্রধান ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, অ্যাপে নিবন্ধনের বিষয়ে আগে থেকে প্রচার চালানো হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে, চাইলে সেখান থেকে সহযোগিতা নিতে পারবেন।

এদিকে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের করোনা টিকা নেওয়ার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বৈশ্বিক জোট জিএভিআ ‘র কোভ্যাক্স প্রকল্প বাংলাদেশের ৪ লাখ মানুষের জন্য ফাইজারের টিকা দিতে চেয়েছে। কোল্ড চেইন ও সিরিঞ্জ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই টিকা গ্রহণে ইচ্ছুক সরকার।

ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিনামূল্যে ফাইজারের টিকা দিতে গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ ১৯২ টি দেশকে চিঠি দিয়েছে কোভ্যাক্স। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শিগগিরই কোভ্যাক্সকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে।

ফাইজারের টিকা সরবরাহ ও প্রদানে বেশ জটিলতা রয়েছে। কারণ এই টিকা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখতে হবে। এছাড়াও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডোজ সংরক্ষণে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সিস্টেমের ঘাটতি রয়েছে। তবে সব চ্যালেঞ্জ পার করে সরকার চাচ্ছে এই টিকা নিতে।

ফাইজারের টিকা নেওয়ার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশিদ আলম বলেন, কোভ্যাক্সের দেওয়া এই সুযোগ আমরা কোনভাবেই হাতছাড়া করতে চাই না। ফাইজারের টিকা সরবরাহ, বিতরণ ও সংরক্ষণে আমরা পরিকল্পনা করছি।

সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) এক কর্মকর্তা জানান, ফাইজারের টিকা সংরক্ষণে সরকার কোল্ড চেইনের সরঞ্জামের বিষয়ে মূল্যায়ন করছে। দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ডিপফ্রিজ যেগুলো আছে, সেগুলোকে জীবাণুমুক্ত করে টিকা রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এটার জন্য যে কোল্ডচেইন দরকার, সেটা আইইডিসিআরসহ সরকারি কয়েকটি ল্যাবরেটরিতে আছে। তবে টিকা রাখার আগে ল্যাবরেটরির ফ্রিজগুলোকে ভাইরাসমুক্ত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে এ টিকা আসতে পারে। কোভ্যাক্স চিঠিতে বলেছে, অবশ্যই প্রথম সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের এই টিকা দিতে হবে। সংরক্ষণের জটিলতার কারণে শুধুমাত্র রাজধানীতেই এই টিকা দেওয়া হতে পারে।

একুশে সংবাদ/বা.টো/এআরএম