ঢাকা বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১, ১৪ মাঘ ১৪২৭
Ekushey Sangbad
Janata Bank
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

মৃত্যুদণ্ডের বিধানও লাগাম টানতে পারেনি ধর্ষণ-নির্যাতনের


Ekushey Sangbad
আবু রায়হান মিকাঈল
১২:৩৭ পিএম, জানুয়ারি ১১, ২০২১
মৃত্যুদণ্ডের বিধানও লাগাম টানতে পারেনি ধর্ষণ-নির্যাতনের

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই বছরজুড়ে আলোচনায় এসেছে ধর্ষণ-নিপীড়নের নানা ঘটনা। ধর্ষণে লাগাম টানতে সরকার শাস্তি বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করলেও বেসরকারি সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যানে এই অপরাধ বেড়ে যাওয়ার তথ্যই আসছে। ফলে নতুন বছরেও নারীকে নিরাপত্তার জন্য লড়ে যেতে হবে বলে আশঙ্কা অধিকার কর্মীদের।

মানবাধিকার ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, কঠোর আইন ধর্ষণ প্রতিরোধে সহায়ক হচ্ছে না। কারণ যারা এ অপরাধ করছে, তারা ধর্ষণকে অপরাধ বলেই মনে করে না। সচেতনতা বাড়ালে এবং শাস্তি কার্যকর করা গেলে এর প্রভাব পড়বে। এর জন্য সামাজিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী কার্যকর হয়। ১৭ নভেম্বর সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে সংশোধনী আইনে পরিণত হয়। তবে এই সংশোধনীর বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন বাম ছাত্রনেতারা। নারী অধিকার কর্মীরাও বলছিলেন, শুধুমাত্র আইন দিয়ে ধর্ষণ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। অধ্যাদেশ ও পরে বিল পাসের মাধ্যমে সাজা বাড়লেও এই সাজা কার্যকরের পরও ধর্ষণ থেমে নেই।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এমজেএফ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৬২৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরাই ধর্ষণের শিকার হয়েছে বেশি। এরপর ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু রয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২০ সালে এক হাজার ৬২৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। দুই বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণ। ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৭৩২ জন নারী, ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪১৩।

সরকার সংশ্লিষ্টরা আশা করছিলেন, ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড করায় এ ধরনের অপরাধ কমে আসবে। কিন্তু আসকের ওই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৩ অক্টোবর অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আইন কার্যকরের পর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

দেশের ১১টি জাতীয় পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে নারী নিরাপত্তা জোট ও আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট এক প্রতিবেদনে জানায়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১০৮ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই ৯ মাসে মোট ৯৭৫ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অর্থাৎ করোনার মতো মহামারিও অপরাধের প্রবণতায় লাগাম টানতে পারেনি।

একুশে সংবাদ/জা/এআরএম