AB Bank
ঢাকা রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

পদ্মা সেতু : বদলে যাবে ২১ জেলার মানুষের ভাগ্য


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
১২:১৩ পিএম, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০
পদ্মা সেতু : বদলে যাবে ২১ জেলার মানুষের ভাগ্য

পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর যাতায়াতের সময় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা কমে আসবে। পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে তিন ঘণ্টায়। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি কমবে, তেমনি যাত্রার ব্যয়ও সাশ্রয় হবে। সব মিলিয়ে সুফল পাবে ২১ জেলার মানুষ। বর্তমানে মাওয়া-জাজিরায় পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে ফেরিতে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগে। আর আরিচা-পাটুরিয়ায় সময় লাগে ৪০ মিনিটের মতো। সমস্যা হলো, ঘাটে গিয়েই ফেরিতে ওঠার নিশ্চয়তা নেই। কখনো কখনো বাস দিন-রাত ঘাটে বসে থাকে ফেরিতে উঠতে।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুটি চালু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে। মানুষের ভাগ্য বদলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে সেতুটি। খুলবে অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের দ্বার। আরো সহজ হবে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা ঘোরার পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান। এ অঞ্চল হবে দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোন। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, পদ্মা সেতু চালু হলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা হচ্ছে- খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা, বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠি এবং ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী।

সড়ক পথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটি ১৯৮৬ সালে চালু হয়। যেটি বর্তমানে মাদারীপুরের বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই নৌরুটে শীতে ঘন কুয়াশা, বর্ষায় তীব্র স্রোতে ও গ্রীষ্মে নাব্য সংকটে নৌযান চলাচল ব্যহত হওয়ায় ঘাটে আটকা থেকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ আশায় বুধ বেঁধে আছে পদ্মা সেতু চালুর অপেক্ষায়।

পদ্মা নদীর উভয়প্রান্তে এক সময় বলতে গেলে জনশূন্য ছিল। কিন্তু পদ্মা সেতুকে ঘিরে দুই পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাচ্ছে। সেতুটি চালুর অপেক্ষায় সবচে বেশি আশায় বুক বেঁধেছেন প্রান্তিক কৃষকরা। রাজধানীর ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন তারা।

এদিকে পদ্মা সেতুর সঙ্গে ১৪ কিলোমিটারের সংযোগ সড়ক চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার সিক্স লেনও চালু করা হয়েছে। এই সেতুকে ঘিরে শেখ হাসিনা তাঁত পল্লী, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শেখ হাসিনা হেলথ টেকনোলজি, শেখ রাসেল আইটি পার্কসহ বেশকিছু মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এসব বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের চাকা। কর্মসংস্থান পাবেন এই অঞ্চলের বেকার যুবকরা।

বহুমুখী পদ্মা সেতু শুধুমাত্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, পুরো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণও বয়ে আনবে বলে বিশ্বাস এই অঞ্চলের মানুষের।

পদ্মা সেতুর যাত্রাপথ সহজ ছিল না। প্রতিটি কাজে প্রকৃতির বিরূপ আচরণ মোকাবেলা করতে হয়েছে। তাই ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বের প্রথম স্প্যান বসলেও পুরো ৪১টি শেষ করতে লাগল তিন বছর তিন মাস।

এর আগে ২০১৪ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল পদ্মা সেতুর। শুরুতে একেকটি স্প্যান বসাতে সময় লেগেছিল কয়েক মাস। তবে গত দুই মাসে আটটি স্প্যান ও এ মাসে একটি স্প্যান বসানোর মাধ্যমে প্রকৌশলীরা কাজের অগ্রগতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

ভরা বর্ষায় তীব্র স্রোত মোকাবেলা করে পাইলিং করতে হয়েছে। আবার শীতে অত্যধিক পলি অপসারণ করতে দিনরাত কাজ করেছে ড্রেজার। মাটির তলদেশের গঠনগত ভিন্নতার কারণে পাইলিং লেগেছে অতিরিক্ত আট মাস।

এ কারণে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সেতু চালুর টার্গেট থাকলেও পূরণ হয়নি। এর ওপর করোনার কারণে অগ্রগতি কমেছে আরও ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। এখন চলছে দুই পিলারের ওপর স্প্যান স্থাপনের জন্য কারিগরি কাজ।

প্রমত্তা পদ্মায় ৬ হাজার ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু গড়বে বাংলাদেশের একটি নতুন দিগন্ত। বিজয়ের মাসে সেতুতে শেষ স্প্যানটি বসিয়ে পদ্মা জয় করেছে পদ্মা সেতুটি। স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি নদীর প্রবহমান জলরাশির ওপর পুরো পদ্মা সেতু। দূর থেকেই দেখা যায় সেতুর মাঝের শূন্যস্থানটুকু।

একুশে সংবাদ/মা.জ/এআরএম

Link copied!