ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank

আগামীকাল পবিত্র আশুরা পালিত হবে


Ekushey Sangbad
ধর্ম ডেস্ক
১২:৫৬ পিএম, ৮ আগস্ট, ২০২২
আগামীকাল পবিত্র আশুরা পালিত হবে

ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে শুক্রবার (২৯জুলাই) পবিত্র  মহররম মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।ফলে ৩১জুলাই থেকে মহররম মাস ও নতুন হিজরী সন ১৪৪৪ শুরু হয়েছে। এ হিসেবে সারা দেশে আগামী  ৯আগষ্ট(মঙ্গলবার) পবিত্র  আশুরা পালিত হবে।

আরবি 'আশারা' থেকে আশুরা শব্দের উৎপত্তি। যার অর্থ হচ্ছে দশ। আরবি মহররম মাসের ১০ তারিখকে পবিত্র আশুরা বলে অবহিত করা হয়। 

আদিকাল থেকেই যুগে যুগে আশুরা দিবসে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যা পবিত্র কোরআন ও হাদীস শরীফ থেকে জানতে পারা যায়। হাদিসে দেখা যায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেদিন আকাশ, বাতাস,পাহাড়- পর্বত,নদী- নালা, জান্নাত- জাহান্নাম ও যাবতীয় সৃষ্টি জীবের আত্মা সৃষ্টি করেছিলেন সে দিনটি ছিল ১০ মহররম তথা পবিত্র আশুরার দিন। 

আবার এই একই দিনে কোন এক জুমাবারে হযরত ইসরাফিল(আঃ) এর  ফুৎকারে নেমে আসবে মহাপ্রলয়। পবিত্র কোরআনের ভাষায় যাকে বলা হয় কেয়ামত। 

ইসলামের এমন অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে আশুরার দিনে। মুসলিম উম্মাহ র কাছে আশুরার গুরুত্ব অনেক। মহানবী( সাঃ )এর দৌহিত্র হুসাইন রাঃ মর্মান্তিক শাহাদাত বরণ আশুরা কে আরো গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্য মন্ডিত করেছে। 

কারবালার সংশ্লিষ্ট ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষেপে জুবাইর ইবনে বাক্কার বলেন, হোসাইন ইবনে আলী( রাঃ)  চতুর্থ হিজরী শাবান মাসের ৫ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন আর আশুরা জুমার দিনে ৬১ হিজরীতে তিনি শহীদ হন।

হোসাইন(রাঃ) এর  সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল খিলাফত ব্যবস্থার পূর্ণ জীবন। ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কুফাবাসীর সাহায্যের  প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে হোসাইনের(রাঃ) স্ত্রী, ছেলে, বোন, ও ঘনিষ্ঠ ২০০ অনুচর নিয়ে ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা নামক স্থানে পৌঁছালে কুফার গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিহাদ তাকে বাধা দেন। রক্তপাত ও খুনাখুনি বন্ধের উদ্দেশ্যে হযরত হোসাইন (রাঃ ) তিনটি প্রস্তাব দেন-

প্রথম প্রস্তাবটি হল তাকে মদিনায় ফিরে যেতে দিতে হবে। দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল তুর্কি সীমান্তের দুর্গে অবস্থান করতে দিতে হবে। সর্বশেষ প্রস্তাবে বলেছিলেন ইয়াজিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাকে দামেস্কে পাঠাতে হবে।

কিন্তু ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে তার হাতে আনুগত্যের শপথ নিতে আদেশ দেন। হযরত হোসাইন ( রাঃ) ঘৃণাভরে তার এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের ৪০০০ সৈন্যের একটি বাহিনী হযরত হুসাইনকে(রাঃ) অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ফোরাত নদীতে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। হযরত হোসাইনের  শিবিরে পানি বন্ধ করে দিলে সর্বত্র হাহাকার শুরু হয়। তিনি ইয়াজিদ বাহিনীর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষনে বলেন, আমি যুদ্ধ করতে আসিনি এমনকি ক্ষমতা দখল আমার উদ্দেশ্য নয়। খিলাফতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার আমার কাম্য। ইয়াজিদ বাহিনী দশ মহররম তার ওপর ঝাঁপিয়ে  পড়ে। হযরত হুসাইন মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যান। অবশেষে তিনি শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। 

আশুরা মানে শুধু কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা নয়,আশুরার ঐতিহ্য আবহমানকাল থেকেই চলে আসছে, যা ঐতিহাসিক ঘটনাবহুল।

 

 

একুশে সংবাদ/এ.হ/এস.আই