২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে ইতালি পাঁচ লাখ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের যে পরিকল্পনা করেছে, তার প্রথম ধাপের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ‘ক্লিক ডে’-তে এ ধাপে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন শ্রমিকের কোটাের বিপরীতে বিভিন্ন খাতে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ মনে করছেন, এবারে আবেদন প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে বেশি কড়াকড়ি ও জটিল হওয়ায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম হয়েছে। এতে করে যারা নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত পূরণ করে আবেদন জমা দিতে পেরেছেন, তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
ইতালির তিন বছর মেয়াদি এই কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনায় খাতভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মৌসুমী (সিজনাল) কৃষি ও পর্যটন খাতে ৮৮ হাজার, নন-সিজনাল খাতে ৭৬ হাজার ২০০ এবং স্বনির্ভর পেশায় ৬৫০ জন শ্রমিক নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত একাধিক ধাপে আবেদন বা ক্লিক ডে অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিনে বিশেষ করে গৃহস্থালি বা ডমেস্টিক কাজের জন্য আবেদনকারীর চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আবাসন সনদসহ (রেসিডেন্স সংক্রান্ত) বিভিন্ন শর্ত কঠোরভাবে আরোপ করায় অনেক আগ্রহী আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারেননি। তবে যারা এসব ধাপ অতিক্রম করে আবেদন জমা দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা উঁচু।
তারা আরও বলেন, পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি ছিল সময়সাপেক্ষ ও জটিল। নিয়ম মেনে যারা আবেদন করেছেন, তাদের জন্য এটি একটি বাস্তব সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সুযোগকে কেন্দ্র করে দালাল ও প্রতারক চক্রের ফাঁদে না পড়তে আগ্রহীদের সচেতন থাকতে হবে।
এদিকে ইতালির কর্মী নিয়োগ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১ লাখ ৬৫ হাজার শ্রমিকের জন্য আগাম আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

