ঢাকা রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

রমজানে নতুন চাঁদ দেখার আনন্দ


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৫:১৪ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২১
রমজানে নতুন চাঁদ দেখার আনন্দ

রমজানের নতুন চাঁদ দেখার আনন্দ আমাদের সকলের মাঝেই বিদ্যমান আছে। কি ছোট কি বড় ।

চাঁদ দেখে রোজা রাখা এবং চাঁদ দেখে রোজা ভাংগা।চাঁদ দেখে ঈদ আনন্দে মেতে উঠা। তাই অন্য সব মাসের চেয়ে রমজানের চাঁদ দেখার গুরুত্ব সব চেয়ে বেশী।  আরবী অন্য মাসের নামই হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা কিন্তু রমজান মাস কে সবাই জানি। শুধু জানলে ভূল হবে। আমরা চাঁদের হিসেব পর্যন্ত হিসেব করি আমরা সবাই। এই মাসের চাঁদের হিসেবে রোজা রাখি এবং ঈদ করি। অন্য যে কোন মাসের চেয়ে এ মাসের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশী।

চাঁদ দেখা বা চাঁদ উঠা একটু এ দিক সেদিক হলেই রমজান মাস ছোট বা বড় হয়ে যায়। চাঁদের উপর ভিত্তি করেই রমজান মাস ২৯ বা ৩০ দিনে হয়ে থাকে।আরবী ১২ মাসই চাঁদের উপর নির্ভরশীল।তবে সব মাসের হিসেব চাঁদ দেখা কমিটি বা জ্যোতিষি ছাড়া সাধারন মানুষের তেমন গুরুত্ব নেই।রমজান মাসের গুরুত্ব সব চেয়ে বেশী। আল্লাহ এ মাস কে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।

কিন্তু পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ বিশ্বের প্রতিটি মুসলমান গুরুত্বের সাথে দেখেন। আর না দেখলেও শুনে নেন রমজানের চাঁদ উঠেছে কিনা? আগামী কাল রোজা হবে কি না? এই চাঁদ উঠলে আনন্দে সবাই আত্বহারা হয়ে উঠে।

রমজান মাস মুসলমানদের জন্য মহত্তের মাস। রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস।এ মাসেই পবিত্র কোরআন নাজেল হয়েছে।লাইলাতুল কদর নাজিল হয়েছে। হাদিস মোতাবেক সবচেয়ে রহমতের মাস এই পবিত্র মাহে রমজান মাস।কবর বাসীদের কবর আজাব থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। আর আজাবের ফিরেস্তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এ মাসে বড় নিয়ামতের মাস এ মাসে খাবারের কোন হিসাব নেওয়া হবে না।এক জন রোজাদার কে ইফতার করালে একটি রোজার সমান সওয়াব পাওয়া যায়।আর দান করলে ৭ থেকে ৭০ গুন বা আরো বেশী সওয়াব দেওয়া হয়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রোজা রাখার তৌফিক দান করুন।

রোজার সময় ইফতারের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।পুরানো ঢাকার ইফতারে আছে বিশেষ ঐতিহ্য।এই ইফতারের ঐতিয্য এখন ঢাকা ছেড়ে বিভিন্ন শহরে এমনকি বিশ্বের প্রতিটি দেশে যেখানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশীরা সেখানেই এই ইফতারের ঐতিয্য বহন করছেন।

ইফতারের বিভিন্ন অনুষ্টান , পার্টির আয়োজন , এছাড়া নিজেদের ঘরে কিছু না হলেও ইফতারের একটু ভিন্ন আয়োজন আছে সর্বত্র সব মুসলমান বা রোজাদার দের ঘরে ঘরে।রোজার মাসে সকল পরিবারেই একটু বড় বাজেট থাকে। তাই রোজার মাসে ইফতার বা রাতের খাবার এবং সেহেরীতে খাবারের ধরন থাকে ভিন্ন অন্য মাসের চেয়ে আলাদা ।

তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারনে ইফতারের বড় পার্টি হবে না । এমন কি মসজিদ গুলিতেও ইফতারের কোন ব্যাবস্থা হবে না যার যার বাসায় নিজের পরিবারের সাথে অথবা নিজ ঘরে একা ইফতার করতে হবে।

রোজা শেষ হলেই মহা খুসির সেই দিন ঈদ। ঈদের আমেজ প্রতিটি ঘরে ঘরে। রোজা শুরু হতে না হতেই শুরু হয় ঈদের কেনা কাটা। রোজার শেষের দিকে কেনাকাটা বেড়ে যায়। দোকান গুলিতে থাকে উপচে পরা ভীড় ।চাঁদ রাতের কথা তো আপনাদের সবার জানা। সারা রমজানে বা সারা বছর যা বিক্রী হয় তার চেয়ে বেশী বিক্রী হয় এক রাতে রোজার শেষে ঈদের আগের রাত।তাই এরাত কে চাঁদ রাত বলা হয়।

রমজানের শেষে চাঁদ দেখার জন্য কৌতুহল সবার মাঝে।কাল ঈদ এই যে আনন্দ সে আনন্দ সত্যই প্রতিটি মানুষকে উৎফল্লিত করে।কি ধনী, কি গরীব, কি মধ্য শ্রেনী, পেশাজীবি, শ্রমজীবী,শিক্ষক, তাঁতী , মুদি, মুজুর, জেলে, কৃষক , ছোট বড় সকল মানুষের মনে।আর এ আনন্দধরে রাখার জন্য কেউ কেউ ছুটে যান গ্রামের বাড়ী আর যারা যেতে পারেন না মনের কস্ট বকে চেপে রাখেন ফেলেন দীর্ঘ শ্বাস।

রমজানের চাঁদ দেখার আগ্রহ প্রতিটি মুসলমানের। পৃথিবীর এর প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সময়ের ব্যাবধানে চাঁদ এক দিন আগে বা পরে দেখা যায়। এ জন্য ঈদ ও এক দিন অাগে বা পরে হয়ে থাকে। বর্তমানে আধুনিক যুগে সোস্যালমিডিয়ায় খবর ছড়িয়ে পরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এক মূহূর্তে। তারপরও কে কার আগে খবর পেয়েছে। সেই খবরটি এক জন বা এক বন্ধু অন্য বন্ধু কে পৌঁছে দিবে।টেলিভিশন সহ সকল মিডিয়ায় প্রচার করবেন খোস আমদেদ মাহে রমজান। ছড়িয়ে যায় চাঁদ দেখার খবর।

কিন্তু ছোট বেলায় দেখেছি। যখন মিডিয়া ছিল না। শুধু মাত্র রেডিও ছিল। সেই রেডিওর খবর শোনার জন্য। চাঁদ দেখার খবর শোনার জন্য সন্ধ্যা বেলায় মসজিদে অথবা গ্রামের মোল্লা ,মাতব্বর , হুজুর বা ইমামের নিকট হাজির হতেন। আর ইমাম চাঁদ দেখার জন্য খোলা জায়গায় যেতেন ।সাথে অনেকেই যেতেন, যেতেন 

ছোট, বড় সব বয়সের মানুষ। কার আগে কে চাঁদ দেখতে পারেন। সকলের দৃষ্টি থাকতো আকাশের দিকে। যে অংশে চাঁদ যাবে সেই অংশের দিকে। যখন চিকন এবং শুরু  এক ফালি চাঁদ দেখা যায়।সকলে আনন্দে আত্ব্যহারা হয়ে উঠেন। আর হুজুর চাঁদ দেখার পর এক লম্বা মোনাজাত করতেন।

মাগরিবের নামাজেই মৌলভী বা  হুজুর ঘোষনা দিতেন। আগামী কাল থেকে রোজা আজ থেকে তারাবি নামাজ শুরু । বাসায় চলতো সেহেরী খাওয়ার জন্য একটু বেশী রান্নার আয়োজন।

মনে আছে একে বারে ছোট বেলায় সেহেরী খেতাম সবার সাথে ছিল এক অন্যরকম আনন্দ। এখন আনন্দ কিছুটা কম হলেও দ্বায়িত্ব বোধ এবং একজন মুসলমান হিসেবে  রোজা রাখা  ফরজ। সেই ফরজ রোজা আদায় করছি। আল্লাহ যেন সব গুলি রোজা রাখার তৌফিক দান করেন।

ছোট বেলায় তারাবি নামাজ পড়তে পড়তে ট্রায়াট হলে পিছনে বসে বন্ধুদের সাথে ফিস ফিস করে গল্প করতাম। অনেক সময় সম্পূর্ন নামাজ না পড়ে ও আগেই বেড়িয়ে যেতাম। অনেক সময় হুজুর বকাঝকা করতেন। আবাব বুঝাতেন। আর এখন নিজের তাগিদেই বিশ রাকাত খতম তারাবি নামাজ আদায় করি। 

অতি দু:ক্ষের বিষয় গত বছর করোনাভাইরসের কারনে মসজিদ গুলি বন্ধ ছিলো। তাই তারাবিহ নামাজ মসজিদে পড়া হয় নাই কিন্তু এবার লক ডাউন কিছুটা শিথিল হওয়াতে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে তারাবিহ নামাজ আদায় করা হবে। কোন কেন মসজিদে ৮ রাকাত ও কোন কোন মসজিদে ২০ রাকাত তারাবিহ নামাজ হবে । বেশীর ভাগ মসজিদে সুরা তারাবিহ হলেও অল্প কিছু মসজিদে খতম তারাবিহ নামাজ হবে । ৮ রাকাত বা ২০ রাকাত নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও সব মসজিদ গুলি সরকারি নিয়ম মেনে চলতে এক মত আছেন। 

যেমন:- 
১/ বাধ্যতামূলেক মুখে মাক্স রাখতে হবে,

২/ সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকতে হবে, নামাজের জন্য দূরুত্ব বজায় রেখে নির্দিষ্ট স্থানে নিজের জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করতে হবে।

৪/ বাসায় থেকে ওজু করে আসতে হবে, 

৫/ নিজের জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে।

৬/ হাত সেনেটাইজার সাথে রাখতে হবে।

৭/নামাজ শেষে মসজিদের বাহিরে জরো না হয়ে বা আড্ডা না দিয়ে যত দ্রুত বাসায় চলে যেতে হবে।

এছাড়াও সরকারের সকল বিধিনিষেধ বা নিয়ম গুলি যথাযথো ভাবে  মেনে চলতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে যথাযথো মর্যাদার সাথে পবিত্র মাহে রমজানের , 
রোজা রাখার তৌফিক দান করুন, 

এখন তো আর সেই দিন নাই। বর্তমান সোসাল মিডিয়ার যুগ। চাঁদ উঠার সাথে সাথে পৃথিবীর এক প্রান্ত অন্য প্রান্ত খবর চলে যায় এক মুহুর্তে। আমরা খবর পেয়ে যাই মহুর্তের মধ্যে। তার পরও রয়েছে চাঁদ দেখা কমিটি। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ঘোষনার অপেক্ষায় থাকতে হয়।  এই কমিটি ঘোষনাই চুরান্ত।

তবে বাংলাদেশ এক আজব দেশ। চাঁদ দেখা কমিটি ঘোষনা দিলো কি দিলো না সে দিকে কোন ভ্রক্ষেপ নেই।এক এক অন্চল বা এক এক এলাকায় আবার সৌদি আরবের সাথে রোজা রাখবেন। ঈদ করবেন। তাই বাংলাদেশ দুইদিন কিম্বা তিন দিন ও ঈদ উৎসব পালন করে থাকে।

প্রত্যেক ব্যক্তি যে দেশে অবস্থান করছেন সে দেশের স্থানীয়দের সাথে রোযা রাখা তার উপর আবশ্যক। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “চাঁদ দেখে রোজা রাখ, এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো” "রোযা হচ্ছে যে দিন তোমরা রোযা রাখ; ঈদুল ফিতর হচ্ছে যে দিন তোমরা রোযা ভঙ্গ কর এবং ঈদুল আযহা হচ্ছে যে দিন তোমরা কোরবানী কর।"

চাঁদ দেখার আনন্দ আমাদের সবাইকে আনন্দিত করুক। বয়ে আনুক অনাবিল সুখ এবং শান্তি। 
আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল থেকে রোজা।
রমাদান মোবারক।


একুশে সংবাদ/হা/আ