ঢাকা শনিবার, ০৮ মে, ২০২১, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

মুখের আড়ালে মুখোশ


Ekushey Sangbad

০৯:১১ এএম, ৯ এপ্রিল, ২০২১
মুখের আড়ালে মুখোশ

৪০ বছর বয়সে নাকি নতুন করে জীবন শুরু হয়। মহা মানব ও মনীষীরা ৪০-এর পরেই নাকি জীবনের সফলতার দেখা পেয়েছেন। শোনা কথা। আমার বয়স ৪৪ যদি বেঁচে থাকি তবে আরও কয়েকটা সংখ‍্যা পার করলেই ৫০ শে -এ পা দেবো!

এখনো ছাতার মাথা জীবনের কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি কিভাবে জীবনের পরিকল্পনা করলে একটি সার্থক জীবনের পথে নতুন করে অগ্রসর হতে পারব। ঠিক মতো মানুষই চিনে উঠতে পারিনি। আলীবাবা গ্রুপ এর প্রেসিডেন্ট Jack Maএকটা উক্তি কোট করেছিলাম। সেটা ছিল এমন

"চল্লিশের পর ছুটাছুটি বন্ধ কর । যে কাজটি সবচাইতে ভালো পারো সেটির প্রতিই নজর দাও। এখন আর নতুন কিছু করার চেষ্টা না করাই ভালো । নতুন কিছুতে সফল হতে পারো, কিন্তু ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।"

কিন্তু মজার ব‍্যাপার হলো নিজেকে এই বয়সে এসে জিঞ্জেস করলাম তুমি কি পারো? নিজেই উত্তর দিলাম সবই তো পারি একটু একটু করে। আর এই একটু একটু পারাটাই হলো মুশকিল। ভালো কিছু না পারে একটু একটু পারলে কি হ য়? হয় কিছু? হয় হয় কচু হয়। আবেগ নয় বিবেক দিয়ে পথ নির্বাচন করা উচিত।

এটা সবাই বললেও আমি আবেগের নৌকায় উঠে বসে থাকি। এইটা ভালো পারি। এজন‍্য মানুষ শালার সুযোগও নেয় প্রচুর। আমার মাথায় যে কত কাঁঠাল ভাঙ্গছে মানুষ ইয়াত্তা নাই। প্রতিবার ঠকি আর ঝাঁকি দিয়ে উঠে বলি। আর এমন ভুল জীবনেও করবো না, দেখা গেছে উদ্বিগ্ন মানুষকে চিন্তা করবেন না ,

বলা যেমন বৃথা, তেমন আমাকে বলা বৃথা,মানুষের সাথে কারবার করো না। আমি যতই লোকসান করি না কেন তবুও কারবার ছাড়ি না। বড় রোগ আমার মানুষকে সরল অংক ভেবে কষতে বসা। একটু ইনিয়ে বিনিয়ে বল্লে হাতের পাঁচ উপুর করে ঢেলে দেয়া । মুখের আড়ালে মুখোশ, না মুখোশের আড়ালে মুখ এইটা বুঝতে বুঝতেই দেখি টান্ডা টোপলা গায়েব।

এমন সব বাজে খরচে মানুষ চেনা যায়। চিনিও,আবার ভুলা খাই। আবার মাঝে মাঝে ভাবি ---যা বাবা!আমি কি নিজে কম বিচিত্র, যে অন্যের বৈচিত্র্য দেখে অবাক হব ? কারও কাছে আমি তো অতি বিচিত্র। অনেকেই বলে প্রোএক্টিভ হতে পারলে অনেক বিপদ-আপদকে প্রশমিত করা যায়। আলু যায়। এই পদ্ধতিও করে দেখেছি।কিচ্ছু হয় না।

অভিজ্ঞতাদের কেটে ছেঁটে যখনি সারবস্তুতে পৌঁছতে যাব ঠিক তখনি উপলব্ধি করি অনেক মূল্যবান কিছুকে বাদ দিয়ে ফেলেছি, দাঁতে জিভ কেটে নিজের গালে নিজেই থাপ্পর দিয়ে বলি সব তোর নিজের অসচেতন একচোখামির কারণেই হয়েছে । খালি কি আমার হয় মিলিয়ে নিলে দেখবেন আমার গ্রুপে এমন অনেকেই আছেন।

আমাদের প্রতিদিনের চিন্তাভাবনার ভিতরে যে অজস্র যুক্তি ও যুক্তিহীনতা রয়েছে, সবসময় তা ট্র্যাকে রাখা সম্ভব হয়না। এদিক ওদিক ঘুরে সিদ্ধান্ত গুলো প্রায়ই এসে ঠেকে কানা গলিতে। আর জীবনের সমস্ত জ্যাম কাটিয়ে ফাঁকা হাইওয়ে খুঁজে নেওয়ার পিছনে মানসিক ধকলটুকু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়ে ওঠে না বলেই আমরা কপালের বলি রেখা গুনতে গুনতে বলি। ভুল সবই ভুল। একটা ব‍্যপারে ফ্রি পরামর্শ দিয়ে রাখলাম নিজ গরজে।

এই যে সামাজিক মাধ্যমগুলোর দৌলতে আজকাল নিজেকে প্রকাশ করার পরিসরটা আমাদের মাঝে অনেকটা বেড়েছে, যদিও কারোও নিজেকে প্রকাশ করতে পারার ক্ষমতার সাথে তার বাস্তবিক ক্ষেত্রে এফিশিয়েন্ট হতে পারাকে এক করে দেখাটা ঠিক নয়। অনেকেই আছেন যারা দরকারে অজস্র যুক্তি নামিয়ে দিতে পারবে,

ভান করবে যেন এইতো পাশেই আছে, কিন্তু সময়ে বুঝা যায় ভায়া , আপদকালে নিজেকে বাঁচানোর জন্যে নিজের প্রোফাইল ইমেজের আড়াল খুঁজে নিতে এক সেকেন্ড দেরী করবে না। আজ যারা ভালো বন্ধু কাল তারা ব্লকবাক্সে আপনারে ফেলে রাখবে। যা শালা ভাগ বলে!