AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

নির্বাচনের মাধ্যমে পিসফুল ট্রানজিশন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: নাহিদ ইসলাম


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪:১৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

নির্বাচনের মাধ্যমে পিসফুল ট্রানজিশন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের জাতীয় ঐক্য ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো সুষ্ঠু নির্বাচন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশটি শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক ট্রানজিশন ঘটাতে পারে কি না—তা নিয়েই বিশ্ব তাকিয়ে আছে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনীতি সম্মেলন ২০২৫-এ তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আগামী নির্বাচন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই নির্বাচন যদি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে দেশ স্থিতিশীলতার বার্তা পাবে। কিন্তু আমরা যদি ট্রানজিশনটিকে পিসফুলি ঘটাতে না পারি, অস্থিতিশীলতা রয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। “এক বছর বা ১৮ মাসে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন বা উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। তবে সমাজে ইতিবাচক অগ্রগতির বার্তা দিতে হবে,”—বলেন তিনি।

তার মতে, দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট অনেকটাই দূর করা সম্ভব।

নাহিদ ইসলাম বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের রাজপথে নামার পেছনে ছিল অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও লক্ষ্য। “আমরা যদি সেই আকাঙ্ক্ষাগুলোর উৎস খুঁজে বের করতে পারি ও সংকটগুলোর সমাধান করতে পারি, তাহলে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে।”

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা বোঝার জন্য বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ের অর্থনৈতিক কাঠামো বোঝা জরুরি। “লুটপাট, বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংক লোপাট—এই অর্থনীতিই দেশে বৈষম্যকে প্রকট করেছে এবং অলিগার্ক-মাফিয়া শ্রেণির উত্থান ঘটিয়েছে,”—মন্তব্য করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই তারা উপলব্ধি করেছিলেন যে আন্দোলনটির পেছনে বড় সামাজিক প্রেক্ষাপট আছে। এ কারণেই তারা আন্দোলনের নাম দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
তিনি যোগ করেন, “শুধু গোষ্ঠীস্বার্থের আন্দোলন দিয়ে দূর পর্যন্ত যাওয়া যায় না। তাই চাকরির দাবি থাকলেও আন্দোলনের বৃহত্তর ব্যানার ছিল বৈষম্যবিরোধী সংগ্রাম।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে সেই সময় শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও কর্মসংস্থানের দাবিও উত্তাল ছিল। এসব বৃহত্তর সামাজিক দাবিকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতেই এই ব্যানার কার্যকর ভূমিকা রাখে।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ের অর্থনৈতিক কাঠামো প্রজন্মকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। “তরুণরা পড়াশোনা শেষ করে দেখেছেন তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ চাকরির সুযোগ নেই। ফলে বৈষম্যের শিকার হয়ে তাদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, গত দশকে তিনটি বড় ছাত্র আন্দোলন—প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ।

এই তিনটি আন্দোলনই পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। প্রতিটি আন্দোলনের সঙ্গে তরুণদের অর্থনৈতিক প্রত্যাশা গভীরভাবে যুক্ত ছিল।

নাহিদ ইসলাম শেষে বলেন, “আমরা যদি তরুণদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি এবং বৈষম্য দূরীকরণের পথে এগোতে পারি, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সংস্কার সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।”

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!