ঢাকা শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. পডকাস্ট

ইসিকে ১১ দফা প্রস্তাব: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫:০৬ পিএম, ২৫ জুলাই, ২০২২
ইসিকে ১১ দফা প্রস্তাব: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ধারাবাহিক সংলাপে অংশ নিয়ে ১১ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি তার সূচনা বক্তব্যে প্রস্তাবগুলো সংলাপে উপস্থাপন করেন। 

সোমবার (২৫ জুলাই) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে কমরেড বাদশার নেতৃত্বে দলটির ৯ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। 

প্রতিনিধি দলে ছিলেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড কামরূল আহসান, কমরেড হাজী বশিরুল আলম, কমরেড অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী, কমরেড আলী আহমদ এনামুল হক এমরান, কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য কমরেড এ্যাড. জোবায়দা পারভীন এবং তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ ইঞ্জিঃ আব্দুল্লাহ।

এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতিবিনিময় সভায় ওয়ার্কার্স পার্টি ১১ দফা প্রস্তাব

১। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন:

ক) ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করে সংসদ নির্বাচন সংবিধানের বিধান অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে এর কোন বিকল্প নাই। তবে অবস্থিত সরকার যাতে নির্বাচনের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটাতে না পারে তার জন্য নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকার দৈনন্দিন কার্যাবলী ছাড়া নীতিগত বা উন্নয়নমূলক কোন কাজ করতে পারবেনা। উন্নয়নসহ কোন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেনা। সরকারী কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী, অবস্থিত সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা ছাড়া বাকী সব প্রোটকল সুবিধা স্থগিত থাকবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয় নিশ্চিত করবেন। (এবিষয়ে ভারতের লোকসভা নির্বাচনকালীন সময় সরকারী কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের বিষয় দেখা যেতে পারে)।

খ) নির্বাচনকালীন সময় স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্বাচকালীন সম্পর্কিত কাজের জন্য নির্বাচন কমিশনের অধীন ন্যস্ত হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পূর্বে তিনমাস ও পরের তিনমাস নির্বাচনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বদলী, পদোন্নতি, কর্তব্যে অবহেলার জন্য শাস্তি প্রদানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ হিসাবে কাজ করবে। এর জন্য সংবিধানের সংশোধনের কোন প্রয়োজন পরবেনা।

২। ভোটার তালিকা: নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধন ও সংযোজনের যে ব্যবস্থা সময় সময় নিয়ে থাকে তা যথোপযুক্ত হয়না বলে জনমনে ধারণা। এ ক্ষেত্রে এনআইডি ও তার সংশোধন নিয়ে বহু বিভ্রান্তি ও হয়রানী আছে। এসব দূর করতে ভোটার তালিকা কেবল প্রকাশ্যে টাঙ্গিয়ে দেয়াই যথেষ্ট হবে না, এখন প্রযুক্তির উন্নতির পর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে এবং যথাযথ প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের সংশোধন -সংযোজনের সুযোগ দিতে হবে।

ক) বাংলাদেশ কোলাবরেটার্স (স্পেশাল ট্রাইবুন্যাল) এ্যাক্ট ১৯৭৩ অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের দায়ে দ-িত কেউ ভোটার হতে পারবেনা, হয়ে থাকলে তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সংগঠনের সদস্য, ব্যক্তি, জঙ্গী তৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি ও মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা বাদ দিতে হবে। রোহিঙ্গাদের এনআইডি প্রদান ও ভোটার তালিকা অন্তর্ভূক্ত করার সাথে জড়িত কর্মকর্তা, কর্মচারী, সুপারিশকারী জনপ্রতিনিধিদের আইনের আত্ততায় এনে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

খ) ইতোমধ্যেই প্রবাসীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

গ) পার্বত্য অঞ্চলে পার্বত্য শান্তিচুক্তি অনুযায়ী ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।

৩। নির্বাচনী সীমানা পুর্ননিধারণ:

বর্তমান জন শুমারীর ফলাফল প্রকাশের পরপরই নির্বাচনী এলাকা পুণ:নির্ধারণের প্রশ্ন আসবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করতে হবে।

৪। নির্বাচনে টাকার খরচ নিয়ন্ত্রণ করা:

ওয়ার্কার্স পার্টি প্রতিটি নির্বাচন কমিশনকেই নির্বাচনে টাকার খেলা নিয়ন্ত্রণের দাবী জানিয়ে এব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন পক্ষান্তরে নির্বাচনী ব্যয়সীমা বাড়িয়ে চলেছে এবং নির্বাচনী খরচ নিয়ন্ত্রণে আগে ও পরে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।

ক) ওয়ার্কার্স পার্টি  মনে করে নির্বাচনী ব্যয়সীমা যুক্তিসঙ্গতভাবে কমিয়ে আনতে পোস্টার, লিফলেট, ডিজিটাল প্রচার, রেডিও- টেলিভিশনে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য এ ব্যাপারে আরপিও ও নির্বাচনী আচরণবিধিতে সুস্পষ্ট বিধান রাখতে হবে। এর প্রতিটি বিষয় পর্যাবেক্ষণ ও নির্বাচন কমিশানকে রিপোর্ট প্রকাশের জন্য কর্মকর্তা নির্দিষ্ট করে তাদের দায়িত্ব দিতে হবে। এবং নির্বাচন চলাকালীন সময়েই তাদের পর্য্যবেক্ষণ ও রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রার্থী বা তার প্রধান এজেন্টকে শুনানী করে নির্বাচন বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

খ) প্রার্থী বা তার হয়ে যে কেউই খরচ করুক না কেন সেটা প্রার্থীর ব্যয় হিসাবে গণ্য হবে এবং তা কোনক্রমে নির্বাচনী ব্যয় সীমা অতিক্রম করবেনা।

গ) প্রতি নির্বাচনী এলাকায় একজন নির্ধারিত কর্মকর্তা প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় মর্নিটর করবেন ও নির্বাচন কমিশনকে নিয়মিত রিপোর্ট প্রদান করবেন। এই রিপোর্টের সাথে প্রার্থীর দেয়া নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী মিলিয়ে দেখা হবে।

ঘ) প্রার্থীর নির্বাচনী আয়-ব্যয়ের বিবরণ সর্বসাধারণকে জ্ঞাত করার জন্য উম্মুক্ত দলিল হিসাবে রাখতে হবে এবং গণমাধ্যমসহ যে কেউ তা সংগ্রহ করতে পারবে।

ঙ) নির্বাচনী আয়-ব্যয়ের হিসাবে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে এবং ঐ হিসাব না দেয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সদস্যের শপথ গ্রহণ স্থগিত থাকবে।

চ) নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ব্যয় মেটাতে নির্বাচনী এলাকা ভোটার সংখ্যা অনুসারে পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার, মার্কা সম্বলিত হ্যান্ডবিল, তিনকপি ভোটার তালিকা (সিডিসহ) সরবরাহ করবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে নির্বাচন ম্যানিফেস্টোর ও মার্কা প্রচারের ব্যবস্থা করবে।

৫। নির্বাচনকে সন্ত্রাস পেশী শক্তির প্রভাব ও দুর্বৃত্তমুক্ত করতে:

(ক) নির্বাচনে সকল প্রকার বল প্রয়োগ, অস্ত্র বহণ ও প্রদর্শন পরিপূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং বল প্রয়োগের ঘটনার কঠোর শাস্তিবিধান করতে হবে।

(খ) ফৌজদারী দাদেশ প্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেয়া যাবে না।

৬. সংসদে প্রতিনিধিত্বের ধরণ:

ওয়ার্কার্স পার্টি পূর্বের সকল প্রস্তাবে সংসদে প্রতিনিধিত্বের ধরণ ক্ষেত্রে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট মতামত রেখেছে। এটা করতে গেলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। তারপরও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে সংসদে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থিত। এদেশে এলাকাভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রয়েছে তা নির্বাচনে দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের সহায়ক। তাছাড়া এই ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। ছোট অথবা সম্ভাবনা পূর্ণদল সংসদে প্রতিনিধিত্ব পায় না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের বদলে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতি রয়েছে। এই ব্যবস্থায় দলের ভোট প্রাপ্তির হারের উপর আসন সংখ্যা নির্ধারিত হয়। কোন কোন দেশে মিশ্র পদ্ধতিও চালু রয়েছে। নির্বাচন, সংসদ ও গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে ওয়ার্কার্স পার্টি এই উভয় বিষয় নির্বাচনী সংস্কার প্রস্তাবে বিবেচনার জন্য পুনঃউল্লেখ করছে।

৭. নির্বাচনে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার:

নির্বাচনে ধর্মের সর্বপ্রকার ব্যবহার, সাম্প্রদায়িক প্রচার-প্রচারণা ও ভোট চাওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
ধর্মীয় উপসনালয়, মন্দির, মসজিদ, গীর্জা, মঠ, ওয়াজ ধর্মসভায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোন প্রকার নির্বাচনী প্রচার, করা যাবে না। পোষ্টার, হ্যান্ডবিল বিলি নিষিদ্ধ করতে হবে।

৮. রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:

আরপিও ৯০ (সি) ধারায় ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন না দেয়ার সুনির্দিষ্ট কোন বিধান নেই। দলে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যকরণ এবং রাজনৈতিক দলের নাম, পতাকা, প্রতীকের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট হতে পারে এমন দলের নিবন্ধন না দেয়ার যে বিধান এ বিধির (ধ), (ন) ও (প) উপবিধিতে রাখা হয়েছে বস্তুত তার কোন কার্যকারিতা নেই। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা বিরোধী ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক দলসমূহ নিবন্ধন না দেয়ার জন্য ওয়ার্কার্স পার্টি সব সময় প্রস্তাব করেছে। সংবিধানের ধারা গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারায় এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল করতে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও ধর্মকে ব্যবহারকারী কোন দলকে নিবন্ধন না দেয়ার বিষয় নির্বাচনী আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৯. নির্বাচনে সকলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা:

- পোষ্টার, লিফলেট, বৈদ্যুতিক, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবহার, মাইক, নির্বাচন ব্যানার, ফেস্টুন, দেয়াল লিখন, গেইট নির্মাণ ইত্যাদি বিষয়ে যে সব নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আছে তা ব্যতিক্রমহীনভাবে পালন করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তা এই বিষয়ে নিশ্চিত করবেন। এবং এ ক্ষেত্রে কোন আইন ও বিধি ভাঙ্গা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবেন।

- নির্বাচন কমিশন প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় চৎড়লবপঃরড়হ সভার আয়োজন করবে
- নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দিন থেকে সকল দলের কেন্দ্রীয় সমাবেশ, মহাসমাবেশ, র‌্যালী, জনসভার ব্যায় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

- নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্বাচনী অফিস ব্যতিরেকে কোন নির্বাচনী ক্লাব, ক্যাম্প নির্বাচনী প্রচার কেন্দ্র হিসেবে কোন কাঠামো তৈরি করা যাবে না।

- রেডিও টিভির সময় সমভাবে বণ্টন করা এবং তার ব্যায়ের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে।
এসব প্রতিটি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং লংঘনকারীদের প্রার্থীতা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

১০) নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়োগ প্রসঙ্গে:

ওয়ার্কার্স পার্টি ২০১১ সালে নির্বাচন কমিশন প্রস্তাবিত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ, ১৯৭২ এর অধিকতর সংশোধন (প্রস্তাবিত) এর জন্য ২খ আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সজ্ঞায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি এবং বাদ দেয়ার প্রস্তাব করে এবং এখনও সেই মত ব্যক্ত করছে। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের কোন প্রয়োজন নেই। তবে একান্ত প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন আইনশৃংখলা রক্ষার স্বার্থে কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে নিয়োগ করতে পারেন।

১১) ইভিএম ব্যবহার:

নির্বাচনে ভোট প্রদানের পদ্ধতি হিসাবে ইভিএম ব্যবহারের প্রশ্নে ওয়ার্কার্স পার্টি সবসময়ই ইতিবাচক ছিল। কিন্তু ইভিএম ব্যবহারের পূর্বে ঐ পদ্ধতি সম্পর্কে জনআস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে এবং সেমত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে জাতীয় নির্বাচনে ব্যালট পদ্ধতিতে পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে একটি নির্বাচনী এলাকায় কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করেছিল।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন কাউন্সিলার নির্বাচনেও একটি ইউনিয়নের নির্দিষ্ট সংখ্যক কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেয়া হয়েছে। এ সকল ক্ষেত্রে ইভিএম পদ্ধতি সম্পর্কে যে সকল ক্রটি, অপূর্ণতা ও জনস্বার্থের ভোগান্তি হয়েছে তাতে ইভিএম সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা ও বিরূপ মনোভাব তৈরী হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম-এর ব্যবহারের এই সকল ক্রটি ও দুর্ভোগ ইভিএম সম্পর্কে অনাস্থাবোধ বাড়িয়েছে। এছাড়া বিরোধী কিছু দলের লাগাতর বিরোধীতা ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের বিষয়কে বিশেষ প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে।

এই অভিজ্ঞতার আলোকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম-এর পূর্ব ব্যবহারের পূর্বে আমরা ইসি-র সাথে সংলাপে গত ২৮ জুন ২০২২ তারিখ যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছিলাম তা পুনরায় উল্লেখ করছি-

(ক) ইভিএম-এ ভোটার ভেরিয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল (ভিত্তিপ্যাড) যুক্ত করা যাতে ভোটার তার ভোটটি সঠিকভাবে দেয়া হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে। ভারতের উচ্চ আদালত ২৫% শতাংশ ভোট ভিত্তিপ্যাটের মাধ্যমে যাচাই করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। যেহেতু কন্ট্রোল ইউনিটে বুথের ফলাফল নেয়ার জন্য প্রিন্টার আছে। সুতরাং তার সাথে ভোটার ভেরিফেকশন পেপার যুক্ত করা সহজ। এটা গ্রহণ করা হলে ইভিএম নিয়ে বিতর্ক কমে আসবে।

(খ) হাতের ছাপ শনাক্তকরণ এটা দেখা গেছে অনেকের ভোটার তাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা বয়সের কারণে হাতের ছাপ মিলান যায় না। এক্ষেত্রে পোলিং অফিসাররা ভ্যাগেলিন জাতীয় জিনিষ দিয়ে নানাভাবে হাতের ছাপ নেয়ার চেষ্টা করে। এতে একজনের ভোট নিতে যেমন সময় লাগে, তেমনি ভোটার বিরক্ত হয়। এক্ষেত্রে বিকল্প হিসাবে চোখের রেটিনার ছবির দিয়ে শনাক্তকরণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যাদের হাত নাই, অথবা কৃত্রিম হাত রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও কি ব্যবস্থা করা যেতে পারে সেটাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। অন্যথায় তারা ভোটাধিকার বঞ্চিত হবে। এক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসারকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট দেয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে এই ব্যবস্থা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে রাখা পাসওয়ার্ড দিয়ে ভোটারের ব্যালট খোলার বিধান অবশ্যই রাখা যাবে না। কোন শতাংশই নয়।

(গ) ব্যালট ইউনিট: ইভিএম-এর ব্যালট ইউনিট যে নিরাপদ নয়, বর্তমান কমিশনের একজন নির্বাচন কমিশনারের ব্যালট বুথে ‘ডাকাত’ উপস্থিতি সম্পর্কিত মন্তব্যেই প্রমাণিত। ওয়ার্কার্স পার্টি ব্যালটের ইউনিটেও হাতের ছাপ শনাক্তকরণের প্রস্তাব করছে। এ ব্যাপারে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বিধানের সাথে ইভিএম এর গ্রহণ যোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যুক্ত।

(ঘ) ইভিএম সফটওয়্যার ইভিএম: কে হ্যাক করা যায় না বলে নির্বাচন কমিশন যে দাবী করে তাতে প্রমাণিত নয়। ইভিএম হ্যাক করে ভোটের ফলাফল উল্টে দেয়া সম্ভব, যেটা দিল্লি এ্যাসেম্বলীর নির্বাচনে একজন এমএলএ করে দেখিয়েছে।

(ঙ) প্রশিক্ষণ: ইভিএম এ ভোট নেয়ার ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ জরুরী।

(চ) ভোটার তালিকা আপগ্রেডেশন:
 
ইভিএম এ ডাটা বেইজ প্রবেশ করানোর পূর্বে ভোটার তালিকা আপগ্রেডেশন জরুরীভাবে প্রয়োজন। না’ হলে মৃত ভোটার সমস্যার কারণে হয়ে দাড়াবে।


বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আশা করে চলমান সংলাপ কেবল কথার কথা থাকবেনা, সংলাপে উত্থাপিত বিষয়সমূহ নির্বাচন কমিশন বিবেচনা করবেন। এবং এই সংলাপের সার-সংক্ষেপ জনগণের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করা হবে। পরিশেষে ওয়ার্কার্স পার্টি একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ ও অংশগ্রণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

 

 

একুশে সংবাদ/এস.আই