ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

বাল্য বিয়ে সামাজিক ব্যাধি-সচেতনতা শ্রেয়


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৪:২০ পিএম, ১০ অক্টোবর, ২০২১
বাল্য বিয়ে সামাজিক ব্যাধি-সচেতনতা শ্রেয়

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্য বিয়ের সংখ্যা। অপরিণত বয়সে বিয়ে হওয়ায় বাড়ছে পারিবারিক কলহ।এতে অকালে ঝড়ে যাচ্ছে অনেক প্রান ।সরকার ও বিভিন্ন এনজিও সংগঠনের তরফ থেকে জনসচেতনামুলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না বাল্য বিবাহ । বাল্য বিয়ের কারনে লাগামহীন ভাবে বাড়ছে বিবাহ পরবর্তী সময়ে শশুর বাড়ির লোকদের দ্বারা নির্যাতন। অহরহ ঘটছে পরকিয়া,বিবাহ বিচ্ছেদ তথা আত্মহত্যার মতো ঘটনা। জন্মনিচ্ছে পুষ্টিহীন ও প্রতিবন্ধী শিশু , গর্ভ ও অপুষ্টি জনিত কারনে ঘটছে মাতৃমৃত্যুর মতো ঘটনা।

 
চোখ মেলে তাকালেই দেখা যায়, দারিদ্রতার কারনে অধিকাংশ বাবা -মা তথা অভিভাবকগন ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সী মেয়েদের দিচ্ছেন বিয়ে। বিয়ের ১৩ মাসের মধ্যেই ৮০ শতাংশ মেয়ে করছে গর্ভধারন । 

তাছাড়া ছেলে-মেয়ের বয়স বৃদ্ধির জন্য অভিভাবকরা দারস্থ হয় পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর । তথ্য গোপন করে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম সনদ করতে দেখা যায় অনেক অসচেতন অভিভাবককে। 
 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৮ বছরের আগে মেয়েদের শরীরের যেসব অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো গর্ভধারনের মতো যে জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেগুলো বিকশিত হয়না। ফলে ঝুঁকি নিয়ে গর্ভধারণ করায় অনেক সময় মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। 
 তাছাড়া ২০ বছর হওয়ার আগে সন্তান ধারন করায় দেখা মেলে খিচুনি, রক্তশূন্যতাসহ হরেক রকম জটিল রোগের। ঘটে বাচ্চার ওজন কম হওয়ার মতো ঘটনা। অন্যদিকে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হয়েও জন্ম হয় অনেক নবজাতকের। 

পনের থেকে উনিশ বছর বয়সী মেয়েদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ে উইকিপিডিয়ার একটি তথ্য উল্লেখ করা দরকার বলে মনে করছি। উইকিপিডিয়া বলছে, বাল্যবিবাহ মেয়েদের স্বাস্থ্য ও জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ। উন্নয়নশীল বিশ্বে গর্ভধারণ ও সন্তানধারণের জটিলতা অল্প বয়সে নারী মৃত্যুর অন্যতম কারণ। ১৫-১৯ বছর বয়সী গর্ভবতী নারীদের মাতৃমৃত্যুর সম্ভাবনা ২০ বছর বয়সী গর্ভবতী নারীদের তুলনায় দ্বিগুণ। আর ১৫ বছরের কম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যুর সম্ভাবনা ৫-৭ গুন বেশি। যেসব নারী ১৫ বছরের পূর্বে সন্তান জন্মদান করে তাদের ফিস্টুলা বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮৮%। যা বিভিন্ন সংক্রমনের অন্যতম কারণ। ২০ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের যৌন সংক্রমিত রোগের সম্ভাবনা বেশি

বাল্যবিবাহ শুধু মাত্র মায়ের স্বাস্থ্যই না বরং শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ও হুমকি স্বরূপ। ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের অপরিণত সন্তান জন্মদান বা কম ওজনের সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা ৩৫-৫৫%। তাছাড়াও শিশু মৃত্যুর হার ৬০% যখন মায়ের বয়স ১৮ বছরের নিচে। যেসব নারী কম বয়সে শিশুর জন্ম দেয় ঐসব শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয় ও শিশু অপুষ্টিতে ভোগার সম্ভাবনা বেশি। বাল্যবিবাহের প্রাদুর্ভাবের কারণে জনসংখ্যার হার বৃদ্ধি পায়।

অপরিণত বয়সে বিয়ে হওয়ায় পরিনত বয়স হওয়ার আগেই রূপ লাবন্য হারায় মেয়েরা। যার কারনে থাকে না স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আকর্ষন। ঘটে পরকীয়ার মতো নানা ঘটনা। ফলে সৃষ্টি হয় পারিবারিক কলহ। শুরু হয় শারীরিক-মানসিক নির্যাতন। ঘটে বিবাহ বিচ্ছেদও ও নানা ধরনের অপরাদ মুলক কর্মকান্ড ।জনসচেতনতা সৃষ্টি ও বাল্য বিয়ে রোধে কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহন করে এই সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধ করা সম্ভব।


একুশে সংবাদ/ রাজীব হোসেন