সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শহীদ হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আগামীকাল শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর ২ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে নামাজে জানাজা বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠিত হবার ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসাথে জানাজা চলাকালীন সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে মরদেহ বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরওয়ার, আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, হাসনাত আবদুল্লাহ, সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিমানবন্দর থেকে মরদেহ সরাসরি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ৭টার দিকে মরদেহটি সেখানে পৌঁছায় এবং আজ রাতে হাসপাতালের হিমঘরেই রাখা হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ওসমান হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে সমাহিত করা হবে। শনিবার মিছিলসহ তার মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে। আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ধৈর্য ও শৃঙ্খলার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন সুযোগ নিয়ে সহিংসতা ছড়াতে না পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মরদেহ সরাসরি দেখার কোনো সুযোগ থাকছে না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগকালে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান শরিফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টায় সেখানে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

