AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সংরক্ষিত বনে পাকা নির্মাণ, বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য


Ekushey Sangbad
পারভেজ আহমেদ, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার
০৬:২০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সংরক্ষিত বনে পাকা নির্মাণ, বিপর্যস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কুরমা, আদমপুর ও কামারছড়া এলাকার ২০,২৭০ একর এলাকা নিয়ে রাজকান্দি হিল রিজার্ভ ফরেস্ট। এই রেঞ্জে গাছ, বাঁশ, পাহাড়, টিলা এবং খাসিয়া ও স্থানীয় ভিলেজারদের বসতি রয়েছে। 

সম্প্রতি আদমপুর রেঞ্জের সাঙ্গাইসাফী এলাকায় নিরীহ এক ভিলেজারের কাঁচা ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। অপরদিকে কুরমা বন বিটের সংরক্ষিত জায়গায় কৌশলে টিলা ও গাছ কেটে টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় শতাধিক পাকা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। ফলে বন বিভাগের এই দুইমুখী কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এর প্রভাব বনের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর পড়ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, এসব কার্যক্রম বনভূমি ধ্বংস, জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট এবং পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি করছে।

রাজকান্দি হিল রিজার্ভ ফরেস্টের ২০,২৭০ একর এলাকা আদমপুর, কুরমা ও কামারছড়া বনবিটের আওতাধীন। এই এলাকা আদমপুর-কালেঞ্জি, কামারছড়া ও কুরমাসহ বিস্তীর্ণ, এবং এটি ইন্দো-বার্মা প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চলের অংশ। ২০১৮ সালে ‘বাংলাদেশ জার্নাল অব প্লান্ট ট্যাক্সোনমি’তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, বনটিতে ১২৩টি উদ্ভিদ পরিবারের প্রায় ৫৪৯ প্রজাতির সপুষ্পক উদ্ভিদ শনাক্ত হয়েছে। প্রায় ১২ প্রজাতির বটগাছ এবং ১০ প্রজাতির কাষ্ঠল লতার বৈচিত্র্য এই অঞ্চলে বিরল।

স্থানীয় ভিলেজার ও বন সংলগ্ন বাসিন্দারা জানান, রাজকান্দি বনরেঞ্জ একসময় ঘন অন্ধকারাচ্ছন্ন বন ছিল, তবে বর্তমানে সেই চিত্র আর নেই। বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নানা কার্যক্রমের ফলে বন ধ্বংস হচ্ছে। বন বিভাগের ভিলেজার হিসাবে বাঙালি ও খাসিয়ারা বসবাস করেন। কতিপয় বন কর্মকর্তার সাথে সমঝোতার মাধ্যমে বনের মধ্যে ইটের স্থাপনা তৈরি নিষিদ্ধ থাকলেও, বাঙালি ও খাসিয়া সম্প্রদায়ের কিছু বন ভিলেজার বনের ভিতরে কৌশলে গাছ ও টিলা কেটে টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাকা বসতঘর তৈরি করেছেন।

অপরদিকে, চাহিত সুবিধা না দেওয়ায় গত ২৫ এপ্রিল রেঞ্জের প্রশিক্ষণরত সহকারী বন কর্মকর্তা ও রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়ার নেতৃত্বে কামারছড়া বনবিটের অধীনে আদমপুর ইউনিয়নের সাঙ্গাইসাফী এলাকায় নিরীহ এক ভিলেজারের কাঁচা ঘর ও মৃত আরজান মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বিবির বাঁশের টিনসেড ঘর ভেঙ্গে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে ওই মহিলা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার মাথা গোজার ঠাঁইও হারিয়েছেন।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, আদমপুর ইউনিয়নের কালেঞ্জি গ্রামে প্রায় শতাধিক ভিলেজার পরিবার বসবাস করছেন। বন বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা ঘরবাড়ি তৈরি করে এখানে বসবাস করে আসছেন। কয়েক বছরে রাস্তার পাশে কয়েকটি পাকা বাড়িও নির্মিত হয়েছে, যা বন বিভাগের লোকজনের সম্মুখেও হয়েছে। কালেঞ্জি গ্রামের খালিক মিয়ার পুত্র নুরনবী, আব্দুল নবী, পার্শ্ববর্তী বাড়ির মহেব উল্ল্যা সহ তিনটি বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণ করেছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

অপরদিকে কুরমা পুঞ্জিতে বন বিভাগের জমিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ৫০–৬০টি পরিবার কাঁচা ঘর তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তারা বনে পান চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বিগত ২০২৪ থেকে বন বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে কৌশলে বনের গাছ ও টিলা কর্তন করে টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাকা দালান নির্মাণ করা হচ্ছে। টিলার পাদদেশে তৈরি দালানগুলো যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

সম্প্রতি কুরমা বনবিটের খাসিয়া পুঞ্জিতে গিয়ে দেখা গেছে, বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া বনভূমির টিলা ও গাছ কেটে পুঞ্জির পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাকা দালান নির্মাণ কাজ চলছে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!