ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এক সময়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম—ল্যান্ডলাইন টেলিফোন। প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন, মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা এবং ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশে ঐতিহ্যবাহী টেলিফোন এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।
উপজেলা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, একসময় চরভদ্রাসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও সরকারি অফিসে ল্যান্ডলাইন ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমনকি সাধারণ মানুষের ঘরেও টেলিফোন লাইনের ব্যবহার ছিল ব্যাপক। তবে গত এক দশকে লাইন নষ্ট হওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং টেলিযোগাযোগ খাতে আধুনিক প্রযুক্তির আগ্রাসনের কারণে এসব লাইন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোবাইল ফোনের সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় ল্যান্ডলাইনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। আগে জরুরি খবরে বা দূরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার একমাত্র মাধ্যম ছিল টেলিফোন বুথ বা ঘরের ল্যান্ডলাইন। এখন প্রতিটি মানুষের হাতে মোবাইল থাকায় গ্রামাঞ্চলে ল্যান্ডলাইন ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা যায় না।
টেলিফোন অফিসের কর্মকর্তারা জানান, পুরোনো কপার লাইন নষ্ট হওয়ায় নতুন সংযোগ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় রক্ষণাবেক্ষণও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। ফলে ধীরে ধীরে ল্যান্ডলাইন সেবা একপ্রকার বন্ধের মুখে।
স্থানীয় সমাজবিদরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং চরভদ্রাসনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ হারিয়ে যাওয়া। এক সময় টেলিফোন বুথকে কেন্দ্র করে মানুষের আড্ডা, খবর বিনিময় এবং দূর-দূরান্তের যোগাযোগের যে স্মৃতি ছিল, তা এখন শুধুই অতীত।
প্রযুক্তির অগ্রগতি মানুষের জীবন সহজ করলেও, এর কারণে হারিয়ে যাচ্ছে কিছু মূল্যবান ইতিহাস ও স্মৃতি—চরভদ্রাসনের ঐতিহ্যবাহী টেলিফোন তারই একটি।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

