ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই, ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

গোলমরিচের ভেষজ গুণাগুণ


Ekushey Sangbad
লাইফস্টাইল ডেস্ক
০২:২৮ পিএম, ১৮ মে, ২০২২
গোলমরিচের ভেষজ গুণাগুণ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রাচনীকাল থেকে গোলমরিচের গুঁড়া মসলা হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। গোলমরিচকে বলা হয় মসলার রাজা। কারণ গোলমরিচের মতো গুনাগুণ নাকি আর কোনো মসলায় এত নেই। গোলমরিচ উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম পিপার নিগ্রাম।

ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড এবং অন্যান্য ট্রপিকেল দেশে গোলমরিচ চাষ হয়। বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে গোলমরিচ চাষ হয়। গোলমরিচের গুঁড়া ইউরোপীয় দেশে খাদ্যে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া ঔষধি গুণাগুণের জন্যও এটি সমাদৃত। গোলমরিচে পাইপারিন নামের রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা থেকে এর ঝাঁঝালো স্বাদটি এসেছে।

গোলমরিচ উৎপাদনে অম্লীয় মাটি এবং উঁচু-নিচু টিলার প্রয়োজন। যেখানে কোনো পানি আটকাবে না এমন উঁচু জায়গায় ভালো জন্মে। এছাড়াও ছায়াময় এলাকায় গাছগুলো ভালো জন্মে। গোলমরিচ যেহেতু বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় গাছ, তাই লতা রোপণের ৪/৫ বছর পর থেকে ফল ধরতে শুরু করে। গাছ বয়স ৮-৯ বছর হলে পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতায় আসে এবং ২০-২৫ বছর পর্যন্ত ভালো ফলন দেয়। গোলমরিচ গাছ সাধারণত সহায়ক গাছকে আঁকড়িয়ে বেড়ে ওঠে। এ গাছ সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এ গাছের পাতা দেখতে অনেকটা পান পাতার মতো। একটি গাছ থেকে বছরে ৩-৫ কেজি পর্যন্ত গোলমরিচ পাওয়া যায়।

পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে এতে ক্যালরি কম, আছে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে এবং ভিটামিন সি। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও সোডিয়াম ইত্যাদি খনিজও এতে বিদ্যমান। তাই খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি চর্বি কমাতেও তা অনন্য।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে গোলমরিচ
গোলমরিচে রয়েছে উচ্চ পরিমাণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া যাদের অতিরিক্ত কাজের চাপ নিতে হয়, এজন্য মানসিকভাবে ক্লান্ত থাকেন, তাদের জন্য গোলমরিচ দারুণ ঔষধির কাজ করে।

গ্যাসের জন্য গোলমরিচ
গ্যাস থেকে মুক্তি পেতে গোলমরিচের ভূমিকা খুবই কার্যকর। গোলামরিচে এমন কিছু কিছু উপাদান রয়েছে, যা পেট ফাঁপা বা টক ঢেকুর থেকে মুক্তি দেবে নিমিষেই। পেটে গ্যাস হলে এক কাপ গরম পানিতে এক চামচ গোলমরিচ মিশিয়ে পান করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ডায়াবেটিস
গোলমরিচে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে ও হাইপারগ্লাইসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত, গোলমরিচের তেলে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান দুই রকমের এনজাইম সৃষ্টি করে যা স্টার্চকে গ্লুকোজে পরিণত করে। এর ফলে ডায়াবেটিসের প্রবণতা অনেক কমে আসে।

ক্যানসারের বিরুদ্ধে গোলমরিচ
ক্যানসার প্রতিরোধকারী উপাদান সেলিনিয়াম, কারকিউমিন, বেটা-ক্যারোটিন এবং ভিটামিন বি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে গোলমরিচে। কোলন ক্যানসারের ক্ষেত্রে রেকটামে চাপ কমাতে সাহায্য করে গোলমরিচ। প্রোস্ট্রেট ক্যানসারের জন্যও এটি বিশেষভাবে উপকারী। ক্যানসারের জন্য যেসব ডোক্টাক্সেল বা কেমো থেরাপির ওষুধ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর অনেকগুলোই তৈরি হয় গোলমরিচ দিয়ে।

সর্দি কাশি ও ঠান্ডায় গোলমরিচ
দুই চামচ গোল মরিচের গুঁড়ার সাথে এক চামচ মধু এক কাপ গরম পানিতে মিশিয়ে পান করলে তা সর্দি সারাবে সহজেই। খুলে দেবে বন্ধ নাক। এটি দিনে তিন বার পান করতে হবে। যাদের অ্যাজমা বা সাইনাসের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য গোলমরিচ উপকারী ভেষজ মসলা।

দাঁত ও মুখের জন্য গোলমরিচ
দাঁত ব্যথা ও মুখের জন্যে খুব উপকারী গোলমরিচ। এজন্য কিছু কিছু টুথপেস্ট তৈরিতেও গোলামরিচের ব্যবহার করা হয়। গোলমরিচের এন্টি ব্যাক্টিরিয়াল উপাদান দাঁত ও মুখের জন্যে বিশেষভাবে উপকারী। মাড়ির সমস্যা হলে বা ফুলে গেলে এক চিমটি লবণের সাথে একটুখানি গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে মাড়িতে হালকা করে মালিশ করুন। ভাল ফল মিলবে অবশ্যই।

হজমের জন্য গোলমরিচ
বেঁচে থাকার খাদ্য হজম করার জন্য দরকার হয় প্রয়োজনীয় এনজাইম বা হরমোন। তা গোলমরিচের দ্বারা ভালোভাবে তৈরি করা যায়। খাওয়ার সময় গোলমরিচ খেলে তা প্যানক্রিয়াস ও লিভারের হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। খাদ্যকে ছোট ছোট করে ভেঙে এনজাইম দ্বারা হজম করতে 
সাহায্য করে।

একুশে সংবাদ/ঢ.ট/রখ