সাংবাদিকের সংবাদ লেখার উৎস জানতে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সাংবাদিকের কোনো সংবাদের বিষয়ে অভিযোগ থাকলে তা নিয়ে আদালতের আগে প্রেস কাউন্সিলের শরণাপন্ন হবার কথাও বলেছেন আদালত।
রবিবার (২৩ অক্টোবর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দেন।
আদালত রায়ে বলেন, দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাংবাদিকরা সঠিক তথ্য তুলে ধরে সমাজের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যমের কাজ হলো জনগণকে সজাগ ও সচেতন করা।
আদালত বলেন, বর্তমান সময়ে প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যম দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিশেষের দুর্নীতি-অর্থ পাচার ফলাও করে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে হলুদ সাংবাদিকতা কখনো সমর্থন করা যায় না।
আদালত আশা প্রকাশ করে বলেন, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে মনোযোগী হতে হবে। দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও জনস্বার্থ আছে— এ ধরনের সব সংবাদ সাংবিধানিকভাবে ও আইনগতভাবে সাংবাদিকরা তুলে ধরতে পারেন। সাংবাদিকদের সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে যে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে তাতে সাংবাদিকরা তাদের নিউজের তথ্যের সোর্স প্রকাশ করতে বাধ্য নন।
গত বছরের ২ মার্চ ‘২০ কোটিতে প্রকৌশলী আশরাফুলের দায়মুক্তি! দুর্নীতি দমনে দুদক স্টাইল’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন নিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে সস্ত্রীক এক প্রকৌশলীকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে জারি করা রুলের রায়ে এমন কথা বলেছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গটিত বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। গত জুন মাসে দেওয়া রায়ের ৫১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে আজ (রোববার)।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়ে রায়ে আদালত বলছেন, সাংবাদিকরা সব স্থানে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। সরকারি, আধা সরকারি অফিসে যেতে পারবেন। আর তথ্যের উৎস জানার বিষয়ে সাংবাদিকদের চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।
একুশে সংবাদ/ঢা.পো/জা.নি/এসএপি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

